নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কলকাতা: ‘শুধু বিদ্রোহ হলেই কোনো সমাজের পরিবর্তন হয় না, সেই বিদ্রোহের সংগঠিত শক্তিগুলো কী সেটাও দেখতে হবে’- আমেরিকার চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে এমনই মন্তব্য করেছেন একদা ভাঙড়ের জমি আন্দোলনের সামনের সারির নেতা অলীক চক্রবর্তী। কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া(মার্কিস্ট-লেনিনিস্ট) দলের ওই নেতা তার ফেসবুকে লেখেন,-‘আমেরিকার বিক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। শোনা যাচ্ছে বিক্ষোভ দমনে মিলিটারী কে ব্যবহার করা হবে। যুগ যুগ ধরে সঞ্চিত ক্ষোভ আজ ফেটে পড়েছে্। এটা প্রচন্ড প্রয়োজন ছিল। এর ফলাফল যাই হোক না কেন এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় নিগ্রোদের যেভাবে সাদারা দেখতো সেই সংস্কৃতি বড়ো রকমভাবে ধাক্কা খেল। অনেকে আশা করছেন যে জনগণ হয়তো ক্ষমতা দখল করে নেবে। একটা নতুন সমাজ প্রতিষ্ঠা করবে। না তার সম্ভাবনা নেই।

এই বিক্ষোভও হয় অবদমিত হবে নতুবা শাসকশ্রেণির অন্য অংশের উঠে আসাকেই নিশ্চিত করবে। আসলে শুধু বিদ্রোহ হলেই কোনো সমাজের পরিবর্তন হয় না। সেই বিদ্রোহের সংগঠিত শক্তিগুলো কী সেটাও দেখতে হবে।আজকের এই বিদ্রোহকে দুহাত তুলে স্বাগত জানাব এই কারণে নয় যে তা একটি নতুন সামাজিক ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা করবে। এই বিদ্রোহকে দুহাত তুলে সমর্থন করছি পুরনো ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ার ইঙ্গিত এখান থেকে দেখা যাচ্ছে। সাম্রাজ্যবাদের দূর্গের অভ্যন্তর আজকে কেঁপে উঠেছে।’

আমেরিকার বিদ্রোহআমেরিকার বিক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। শোনা যাচ্ছে বিক্ষোভ দমনে মিলিটারী কে ব্যবহার করা হবে। যুগ যুগ ধরে সঞ্চিত…

Posted by Alik Chakraborty on Tuesday, June 2, 2020

ওই বামপন্থী নেতার আরও মন্তব্য,’ বাচাল ট্রাম্পের মতো শাসকদের যে জনগণ উচিত শিক্ষা দিতে পারে সেটা এই বিদ্রোহ স্পষ্ট করে দিচ্ছে। অনেকে এই বিদ্রোহ গুলোকেই একমাত্র পরিবর্তনের চালিকাশক্তি বলে সচেতন শক্তির ভূমিকাকে লঘু করে দেখানোর চেষ্টা করছেন। ঐক্যবদ্ধ সচেতন শক্তি যাকে আমরা পার্টি বলতে পারি তার নেতৃত্বকারী ভূমিকা না থাকলে ফলাফল কী হতে পারে “আরব বসন্ত” আমাদের হাতের কাছে রয়েছে। সেটার বদলে আবার প্যারী কমিউনের কথাও কেউ বলছেন। সেখানে নাকি পার্টি ছিল না! সারা ফ্রান্স জুড়ে ব্লাঙ্কীপন্থীরা কীভাবে সংগঠিত ছিল ও মার্কসবাদীরাও যে একটা শক্তি হিসেবে উঠে আসছিল সেটা হয়ত তাঁরা হিসেবে রাখছেন না। প্যারী কমিউন যে অনেকটাই ব্লাঙ্কীপন্থীদের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছিল সেটা আজ ইতিহাস।’
অলীক চক্রবর্তীর মন্তব্য,’আজকে মার্কিন মুলুকের এই বিদ্রোহ সচেতন শক্তির কাছে সংগঠিত হবার আরো বৃহত্তর বার্তা নিয়ে আসছে। রাজনৈতিক ও মতাদর্শগতভাবে সংগঠিত শক্তি বাস্তব নেতৃত্বকারী ভূমিকায় উঠে দাঁড়াতে না পারলে এই বিদ্রোহগুলি কাঙ্খিত ফল দেবার বদলে উল্টো অবস্থাও তৈরি করতে পারে।”