নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, বীরভূম: লাভপুরের খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড়। তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী সহদেব বাগদী খুনের ঘটনায় স্থানীয় বিধায়ক মনিরুল ইসলাম ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ। এছাড়াও এই ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে আরও পাঁচ বিজেপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃত ওই পাঁচ বিজেপি কর্মীকে এদিন বোলপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করেছেন।
গত রবিবার নিজের মাঠ থেকে রক্তাক্ত গলাকাটা মৃতদেহ উদ্ধার হয় প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেসের গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য সহদেব বাগদির। এই ঘটনায় বিধায়ক মনিরুল ইসলাম ও তার ভাই আনারুল ইসলামসহ গোপীনাথ বাগদি, মিষ্টু বাগদি, বিমল বাগদি , পবন বাগদি, এবং ভারত বাগদি বিরুদ্ধে লাভপুর থানায় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয়। ঘটনায় বিধায়ক ও তার ভাই ছাড়া সকলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের এদিন বোলপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে ভারপ্রাপ্ত অ্যাডিশনাল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করেন। ধৃত ব্যক্তিরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ এবং এলাকা দখল করার জন্য মদ্যপ অবস্থায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্যকে খুন করেন। যদিও বিজেপি তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নিজেদের গোষ্ঠী কোন্দল ঢাকতে অযথা বিজেপির নাম জড়ানো হচ্ছে। বিধায়ক মনিরুল ইসলাম এর মোবাইলের ফোনের সুইচ অফ থাকায় তার সঙ্গে কোন ভাবে যোগাযোগ করা যায়নি।
প্রসঙ্গত মৃত তৃণমূল কর্মী হলেন সহদেব বাগদি। বয়স ৪৫ বছর। বাড়ি লাভপুর থানার টিবা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ভাটরা গ্রামে। তিনি স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সদস্য খুন। রবিবার বিকেলে গ্রামের মাঠ থেকে ওই তৃণমূল কর্মী সহদেব বাগদীর গলা কাটা দেহ তার উদ্ধার হয়। সহদেব গরু লাঙ্গল নিয়ে মাঠে চাষ করতে বেরিয়েছিল। চাষের সেই গরু দুটি বাড়ি ফিরে চলে এলেও সহদেব বাড়ির না ফেরায় লোকজন খোঁজাখুঁজি করতে শুরু করেন। তারপরেই মাঠের নির্জন এলাকা থেকে রক্তাক্ত কোপানো মৃতদেহ উদ্ধার হয়।