তহিরুল ইসলাম, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ : বিড়ি শিল্পে খ্যাত মুর্শিদাবাদ, মালদা, দিনাজপুর সহ পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু জেলা। পাশাপাশি বিহার, ঝাড়খন্ড, উড়িষ্যা আরো কিছু রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে এই বিড়ি শিল্প। ভারতবর্ষের কয়েকটি রাজ্যের অসংখ্য মানুষ এই শিল্পের​ সাথে জড়িত। পুরুষের​ মধ্যে মুন্সি, চেকার, বিড়ি শিল্পের মালিক সহ বিভিন্ন ভাবে যুক্ত রয়েছে এই শিল্পে।

কিন্তু তুলনামূলক আয় কম, তাই বিড়ি বাধার ক্ষেত্রে মহিলারাই বেশি যুক্ত থাকেন। শিশুসন্তানকে কোলে নিয়েই বিড়ি বাঁধেন মায়েরা। আর তাতেই নিষ্পাপ শিশু সন্তানদের ছোট্টদেহে প্রতিনিয়ত ঢুকে চলেছে ক্ষতিকারক তামাকের বিষ। একদিকে তারা বিড়ির আয়ের টাকায় শিশু সন্তানদের লেখাপড়া শিখিয়ে ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখছে অন্যদিকে নিজেদের অজান্তেই তামাকের বিষে মারাক্তক ক্ষতি করে চলেছেন তাদের শিশু সন্তানদের স্বাস্থ্য।

সেই তামাকের বিষ থেকে শিশুদের শরীরে দুরারোগ্য বাসা বাঁধছে। সবচাইতে বেশি এই শিল্পের সাথে জড়িত রয়েছে মুর্শিদাবাদের মানুষজন। এই জেলায় প্রতিটি বাড়িতেই মায়েরা তাদের শিশু সন্তানকে কোলে নিয়ে বিড়ি বাঁধেন আর তাতেই শিশুসন্তানদের নিজের অজান্তেই ক্ষতি করে চলেছে বিড়ি শ্রমিকরা। এই​ ব্যাপারে মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা জিয়াউল হক, করিমউল্লাহ বিশ্বাসরা বলেন, প্রশাসনের উচিত গ্রামে গ্রামে গিয়ে মহিলাদের এই বিষয়ে সচেতন করা।

অন্যদিকে মুর্শিদাবাদ জেলার বিশিষ্ট সমাজসেবী আনিসুর রহমান বলেন, পুরো মুর্শিদাবাদ গ্রামাঞ্চলের​ মানুষ বিড়ির উপরেই​ নির্ভরশীল কিন্তু শিশু কোলে নিয়ে বিড়ি বাধা শিশুদের স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে তাদের সচেতন করবে কে এবং তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার দায়িত্ব‌ই বা কে নেবে? এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে পুরো মুর্শিদাবাদ জুড়ে।