নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কলকাতা: পেট্রোলের থেকেও ডিজেল অগ্নিমূল্য। মোদি সরকারের আমলে এমন ঘটনারও স্বাক্ষী হল দেশবাসী। পেট্রোপণ্যের দাম বৃদ্ধি নিয়ে এবার মোদী সরকারের দিকে তীব্র আক্রমণ শানাল তৃণমূল কংগ্রেস। বিগত বেশ কয়েকদিন ধরে লাগাতার বাড়ছে পেট্রোল-ডিজেলের দাম। সমস্ত রেকর্ডকে স্লান করে দিয়ে রাজধানী দিল্লিতে এই প্রথমবার পেট্রোলের দামকে ছাপিয়ে গিয়েছে ডিজেলের দাম। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রকৃতই তলানিতে। এই প্রেক্ষিতে সরাসরি মোদী সরকারকে আক্রমণের পথে গেল তৃণমূল। বিধায়ক সমীর চক্রবর্তীর অভিযোগ, মোদী সরকার সফট টার্গেট পেয়েছে সাধারণ মানুষকে। তাই যেখানে ওপেক তেলের দাম কমাচ্ছে, তখন ভারতে কয়েকশো শতাংশ কর চাপিয়ে দাম জোর করে তেলের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার তৃণমূলের দুই বিধায়ক সমীর চক্রবর্তী এবং পার্থ ভৌমিক তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে তেলের দাম বৃদ্ধি সহ একাধিক ইস্যুতে সমালোচনা করেন কেন্দ্রের।
তৃণমূলের বিধায়ক সমীর চক্রবর্তী পেট্রোল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির ইস্যুতে মোদী সরকারকে বিদ্ধ করতে বসেছিলেন হিসেব নিয়ে। তারপর বছর ধরে ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এবং ভারতের বাজারে তেলের দামের তুলনা করেন। এবং প্রশ্ন তোলেন, এভাবে সাধারণ মানুষকে সমস্যায় ফেলার অর্থ কী? সমীর চক্রবর্তীর অভিযোগ, বাংলাদেশ কিংবা পাকিস্তানের চেয়েও ভারতে তেলের দাম বেশি।
এদিন তেলের দামের পাশাপাশি পিএম কেয়ার্স ফান্ড নিয়েও কটাক্ষ করে তৃণমূল। বিধায়ক সমীর চক্রবর্তীর কথায়, কোন আক্কেলে সিএজিকে বাদ দিয়ে অজ্ঞাতকূলশীল সংস্থাকে এনে অডিটের কাজ করানো যায়! তাঁর দাবি, পিএম কেয়ার্স ফান্ডে কত টাকা এসেছে এবং কত কোন খাতে খরচ হয়েছে, তার পাইপয়সার হিসেব দিতে হবে নরেন্দ্র মোদীকে।
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে পরিসংখ্যান নিয়ে বসেছিলেন আরেক তৃণমূল বিধায়ক পার্থ ভৌমিকও। পরিযায়ী শ্রমিক নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী এবং বিজেপির দাবির পাল্টা সরকারি তথ্য পেশ করেন তিনি। বলেন, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গরিব কল্যাণ অভিযান থেকে বাংলাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, করোনা মোকাবিলা করতে করতেই আমপান তাণ্ডব সব তছনছ করে দিয়েছে। তার মধ্যেও দুর্নীতিবাজদের ধরে ধরে দল থেকে তাড়ানো হচ্ছে। অভিযোগ পেলে গ্রেফতার করছে পুলিশ। তাই মুখ্যমন্ত্রী যেমন প্রশাসনের অন্দরে সাফ বার্তা দিয়েছেন, একজনকেও বঞ্চিত না করার, তেমনই দলেরও একই নীতি। তাই মানুষের পাশে না থাকলে দলও পাশে থাকবে না, বলেন বিধায়ক পার্থ ভৌমিক। কারও যদি নজরে আসে সরকারি অনুদান থেকে কেউ বঞ্চিত হয়েছেন, সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ করুন। বিজেপির পাতা ফাঁদে পা দেবেন না। আবেদন নৈহাটির বিধায়কের।