নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ: কৃষকের পরিবার থেকে কলেজ সার্ভিসের স্টেট এলিজিবিলিটি টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সকলের নজর কাড়লেন মুর্শিদাবাদের সামসেরগঞ্জের কৃতি সন্তান জুবাইর আলী। পিছিয়ে পড়া বিড়ি শ্রমিক, রাজমিস্ত্রি অধ্যুষিত এলাকার প্রথম কোনো কৃষক পরিবারের ছেলে সেট পরীক্ষায় উত্তীর্ন হওয়ায় কার্যত খুশির জোয়ার সামসেরগঞ্জের অন্তরদিপা গ্রামে। জানা গিয়েছে, সামসেরগঞ্জের অন্তরদিপা নামক পিছিয়ে পড়া একটি গ্রামে জন্ম জুবাইর আলীর। বাবা জমিদার সেখ পেশায় চাষী। মা সাজেদা বিবি বিড়ি শ্রমিক। এক ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে বড় জুবাইর। ছোট থেকেই মেধাবী ছাত্র হলেও দারিদ্রের সংসারে পড়াশুনার ফাঁকে বাবার সাথে চাষবাস করা যেন নিত্যদিনের অভ্যাস তার। অন্তরদিপা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক পড়াশুনা ও ভাসাইপাইকর হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে ধূলিয়ান নূর মহম্মদ কলেজ থেকে সমাজতত্ত্ব নিয়ে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করে জুবাইর। তারপরেই চরম আর্থিক অনটনের মধ্যেও বাবা মায়ের স্বপ্ন পূরণ করার লক্ষে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি করতে ছুটে যায় মেধাবী জুবাইর। শত কষ্ট হলেও একবেলা কম খেয়ে বাড়ির একমাত্র ছেলেটিকে পড়াশুনার পণ করেছিলেন মা সাজেদা। চাষবাস করে ছেলেকে অধ্যাপক করার লক্ষে উদ্বৃত টাকা পাঠাতেন বাবা। মাঝে হঠাৎ প্যারালাইসিস হয়ে স্থায়ীভাবে অসুস্থ হয়ে যায় মা। তবুও মায়ের স্বপ্ন পূরণের লক্ষে রীতিমতো পড়াশুনা চালিয়ে যায় জুবাইর। মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করে নেট ও সেট পরীক্ষায় বসে সে। জানুয়ারি মাসে হওয়া সেট পরীক্ষার ফলাফল বের হতেই দেখা যায় পাশ করেছে সে। এর পরের ধাপে ইন্টারভিউ দিয়েই অধ্যাপনায় সুযোগ মিলবে তার। লকডাউনের মাঝেই ছেলের অধ্যাপক হওয়ার পরীক্ষায় পাশ করার খবরে যেন কার্যত চোখে জল চাষী বাবা ও বিড়ি শ্রমিক মায়ের। জুবাইর জানান, শত কষ্ট করে পড়াশুনা করে আজ সফলতা এসেছে। আমি উচ্ছসিত। সেট পরীক্ষায় পাস করেছি। এবার লক্ষ সিএসসি। কঠোর পরিশ্রম, প্রতিকুলতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম ও ধৈর্য্য ধরলেই সাফল্য আসে।