পদক জিতলেই উত্তর-পূর্বের বাসিন্দারা ভারতীয় ! নইলে  ‘চিঙ্কি’, ‘নেপালি’, ‘চাইনিজ’ এমনকি ‘করোনা’ : অঙ্কিতা কোনার

টিডিএন বাংলা ডেস্ক :  উত্তর-পূর্বের বাসিন্দা হলেই ‘চিঙ্কি’, ‘নেপালি’, ‘চাইনিজ’ এমনকী ‘করোনা’ এধরনের খোঁটা প্রায়ই শুনতে হয় উত্তর-পূর্ব ভারতের বেশ কিছু রাজ্যের বাসিন্দাদের। এমনটা বলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মডেল তথা অভিনেতা মিলিন্দ সোমনের স্ত্রী অঙ্কিতা কোনার।

ভারতে শুধু বর্ণবৈ’ষম্য নয়; জাতিবৈ’ষম্যও প্রবলভাবে রয়েছে। আর দেশের অভ্যন্তরে থেকেও প্রতিনিয়ত তার শিকার হতে হয় উত্তর-পূর্ব ভারতের নাগরিকদের , বিশেষ করে মহিলাদের।
বিভিন্ন বড়ো শহরাঞ্চলে বাড়ি ছেড়ে পড়ুয়ারা যখন বাইরের রাজ্যের স্কুল-কলেজে পড়তে আসে। কখনও বা তাঁদের শারীরিক গড়ন আবার কখনও বা তাঁদের চেহারা, চোখ-মুখ নিয়ে বৈষম্যের শিকার হতে হয়।

সম্প্রতি অলিম্পিকে ভারতকে পদক এনে দিয়েছেন মহিলা ভারোত্তলক মীরাবাঈ চানু। ৪৯ কেজি ভারোত্তলন বিভাগে তিনি রুপো জয় করার পর ফিরে এসেছেন দেশে। এই ভারতীয় কন্যার সাফল্যে প্রশংসায় পঞ্চমুখ সকলেই।
উত্তর-পূর্ব ভারতের এই কন্যা টোকিও অলিম্পিকে দেশের হয়ে রূপা জিতেছেনয তার সাফল্যে যখন গোটা দেশ উচ্ছ্বসিত, সেটাকেই প্রতিবাদী হাতিয়ার করে তুললেন মিলিন্দের স্ত্রী। একেবারে সোজা-সাপটা ভাবে বললেন, “হিপোক্রিটস সব।” ভারতের হয়ে মেডেল জিতলেই নর্থ-ইস্টের লোকদের নিয়ে হইচই করা হয়।

মীরাবাঈ ইম্ফলের মেয়ে। অঙ্কিতার জন্ম-বেড়ে ওঠা ও উত্তর-পূর্ব ভারতেই। মীরাবাঈয়ের সাফল্যের পর নিজের অভিজ্ঞতা লিখে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন তিনি। মিলিন্দের স্ত্রী লিখেছেন, “উত্তর-পূর্বের বাসিন্দারা তখনই ভারতীয় হন যখন তাঁরা ভারতের জন্য পদক আনেন। না হলে তাঁদের ‘চিঙ্কি’, ‘চাইনিজ ‘, ‘নেপালি ‘ এবং সাম্প্রতিক সংযোজন ‘করোনা ‘ নামে ডাকা হয়। ভারতে শুধু বর্ণ বৈষম্য নয়, রয়েছে জাতি বৈষম্যও।”

https://www.instagram.com/p/CR0VqJelbbe/?utm_medium=copy_link

এদিকে অঙ্কিতার এই পোস্টের সঙ্গে একমত হয়েছেন বহু নেটনাগরিক, তাঁর সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন। অনেকেই এটাকে বেদনার ও দুঃখজনক বলেছেন , তাঁদের কথায়, বিষয়টি একটি ‘অপ্রিয় বাস্তব’। এই পোস্টের মধ্য দিয়ে কঠিন প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন অঙ্কিতা, মানছেন তাঁরা। উল্লেখ্য, অঙ্কিতা নিজেও একজন খেলোয়াড়।