তৃণমূলে ফিরেই নিজের ঘনিষ্ঠ বিজেপি বিধায়কদের ফোন মুকুলের, দলে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা, অভিযোগ গেরুয়া শিবিরের

টিডিএন বাংলা ডেস্ক: গতকালই গেরুয়া শিবির ছেড়ে ঘাসফুল শিবিরে প্রত্যাবর্তন করেছেন তৃণমূল তৈরির অন্যতম কারিগর, সদ্য প্রাক্তন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি মুকুল রায়। তাঁর এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে তা স্তিমিত হওয়ার আগেই, এবার বিজেপির গড়ে ভাঙন ধরানোর কাজে উঠে পড়ে লেগে পড়েছেন খাতায় কলমে কৃষ্ণনগর উত্তরের বিজেপি বিধায়ক মুকুল রায়। ফোন করলেন নিজের ঘনিষ্ঠ একাধিক বিজেপি বিধায়ককে। বলাই বাহুল্য তৃণমূলে যোগ দেয়ার প্রস্তাব দিতেই ওই বিধায়কদের ফোন করেছেন মুকুল। তবে প্রকাশ্যে এবিষয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও ওই বিধায়কদের অনেকেই এব্যাপারে জানিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে। বিজেপি পরিষদীয় দলের মুখ্য সচেতক মনোজ টিগ্গা জানিয়েছেন, মুকুলের ফোন সম্পর্কে তাঁরা জানতে পেরেছেন। এ ব্যাপারে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী যা করার করবেন।

 

মুকুলের এই ফোন প্রসঙ্গে এদিন দিলীপ ঘোষকে প্রশ্ন করা হলে সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান,”ওঁর অনেক পূর্ব পরিচিত আছেন। তাঁদেরকে উনি ফোন করতেই পারেন। কারা থাকবেন, কারা যাবেন, তা নিয়ে আমি চিন্তিত নই। আয়ারাম-গয়ারামদের নিয়ে বিজেপি চলে না। বিজেপি-র যে ঝড় হয়েছিল তাতে অনেক ধুলোবালি দেবতার মাথায় এসে পড়ে। এ বার সেগুলো নর্দমায় যাওয়ার সময় হয়েছে।”

 

বিজেপির সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে বাড়ি ফিরে এই বিজেপি বিধায়কদের ফোন করা শুরু করেন মুকুল। শনিবার সকালেও নিজের বেশ কিছু ঘনিষ্ঠ বিজেপি বিধায়কদের ফোন করেন তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জঙ্গলমহলের এক বিধায়ক সে কথা স্বীকারও করেছেন। তিনি বলেন, “মুকুলদা আমাকে ফোন করেছিলেন। কী কথা হয়েছে, তা আমি প্রকাশ্যে বলতে চাই না। তবে আমার জবাব আমি তাঁকে জানিয়ে দিয়েছি। মুকুলদা যে আমাদের ফোন করে প্রস্তাব দিয়েছেন, তা আমরা দল ও শুভেন্দু অধিকারীকে জানিয়ে দিয়েছি।”

 

তবে বেশিরভাগ বিধায়করা মুকুল রায়ের এই ফোন সম্পর্কে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। এদিকে আজ সকালেই মুকুল রায়কে বিখ্যাত ইলিয়াড মহাকাব্যের ট্রোজান ঘোড়ার সঙ্গে তুলনা করে টুইট করেছিলেন তথাগত রায়। মুকুল রায়ের মতো আরো কিছু ট্রোজান ঘোড়া দলের রয়ে গেছে বলে, দলকে সতর্কবার্তাও দেন তিনি। তাই দলে ভাঙনের আশঙ্কা নিয়ে প্রকাশ্যে বিজেপির নেতারা কোনো মন্তব্য না করলেও বিধানসভায় নিজের পরিষদীয় শক্তি ধরে রাখতে এখন মরিয়া গেরুয়া শিবির, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।