প্রশাসনিক প্রধানকে “জৈব অস্ত্র” বলায় আয়েশার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা “মিথ্যে”, পদত্যাগ লাক্ষাদ্বীপের একাধিক বিজেপি নেতার

টিডিএন বাংলা ডেস্ক: আয়েশা সুলতানা। ভারতের একটি ছোট্ট প্রবল দীপ লাক্ষা দ্বীপের একজন চলচ্চিত্র পরিচালক ও অভিনেত্রী। করোনা আবহে লক্ষদ্বীপের প্রশাসক প্রফুল্ল পটেলের সমালোচনা করার অপরাধে দেশদ্রোহের মামলা দায়ের করা হয়েছে প্রবালদ্বীপের এই অভিনেত্রী-চলচ্চিত্র পরিচালক আয়েশা সুলতানার বিরুদ্ধেই। সারা দেশজুড়ে যে সময় করোনার সংক্রমন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল লক্ষ্যদ্বীপে তখনো করোনার সংক্রমণ শাখা বিস্তার করেনি। গত ডিসেম্বরে প্রফুল্ল পটেল নতুন প্রশাসক হয়ে আসার পর ধীরে ধীরে করোনার সংক্রমণ হতে থাকে লাক্ষাদ্বীপেও। দৈনিক ১০০ জনের কাছাকাছি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন ওই ছোট্ট প্রবাল দ্বীপে। এই প্রসঙ্গে সম্প্রতি একটি টিভি চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করতে গিয়ে আয়েশা সুলতানা লক্ষদ্বীপের প্রশাসক প্রফুল্ল পটেলকে “জৈব অস্ত্র”এর সঙ্গে তুলনা করেন। এর পরেই তাঁর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা দায়ের করে বিজেপি-র লক্ষদ্বীপ শাখা। এবার সেই অভিযোগেই সম্পূর্ণ “মিথ্যা” এবং “অনৈতিক” বলে দাবি করে বিজেপি থেকে পদত্যাগ করলেন দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ মুল্লিপুঝা সহ একাধিক নেতা।

লাক্ষাদ্বীপের বিজেপি সভাপতি আবদুল কাদেরকে নিজেদের পদত্যাগের কথা জানিয়ে একটি চিঠি লেখেন ওই নেতারা। চিঠিতে বলা হয়েছে,”যে সময়ে লাক্ষাদ্বীপের প্রশাসক প্রফুল্ল পটেলের অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মীরা প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, সেই সময় আপনারা আয়েশার বিরুদ্ধে মিথ্যে ও অনৈতিক অভিযোগ আনছেন। এতে মেয়েটির ভবিষ্যৎ ও তাঁর পরিবারের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে পারে। তাই আমরা পদত্যাগ করছি। লাক্ষাদ্বীপের মানুষের সঙ্গে মিলে আমাদের প্রতিবাদ জারি থাকবে।”

সম্প্রতি একটি টিভি চ্যানেলের বিতর্ক সভায় লাক্ষাদ্বীপের নতুন প্রশাসক প্রফুল্ল প্যাটেলের সমালোচনা করে আয়েশা সুলতানা মূলত বলেন, অতিমারির প্রথম ঢেউয়ে লাক্ষাদ্বীপে একটিও সংক্রমণ ধরা পড়েনি। কিন্তু গত ডিসেম্বরে প্রফুল্ল পটেল নতুন প্রশাসক হয়ে আসার পর থেকেই একের পর এক তুঘলকি আইন-বিধি চালু হচ্ছে লাক্ষাদ্বীপে। যার জেরে দ্বিতীয় ঢেউয়ে ছড়িয়ে পড়েছে সংক্রমণ। তাঁর অভিযোগ, লাক্ষাদ্বীপের মানুষদের উপর আঘাত হানতে করোনাভাইরাসকেই ‘জৈব অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করছে কেন্দ্র। তাঁর এই মন্তব্যের পরে বিজেপির লক্ষদ্বীপ শাখা তাঁর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা ছাড়াও বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করার অভিযোগও করে। তবে বিজেপির এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে ভাঙ্গন এবার বিজেপির অন্দরেই।