বাংলায় ৩৫৬ ধারা জারির পক্ষে সওয়াল শুভেন্দুর, সুর বদলে পাল্টা আক্রমণ রাজীবের

টিডিএন বাংলা ডেস্ক: মঙ্গলবার রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সাক্ষাৎ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে। এদিন দিল্লিতে অমিত শাহের বাসভবনে বৈঠকের পর ভোট পরবর্তী রাজ্যের হিংসাত্মক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ৩৫৬ ধারা জারির পক্ষে জোরদার সওয়াল করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, ভোট পরবর্তী রাজ্যের যা পরিস্থিতি তাতে ৩৬৫ ধারা প্রয়োগ না করলেই বরং আশ্চর্য হবেন তিনি। শুভেন্দুর এই বক্তব্যের পর এই পাল্টা ফেসবুকে রাজ্য সরকারকে সমর্থনের বার্তা দিয়ে পোস্ট করলেন রাজিব। তিনি লেখেন,”নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে ৩৫৬ ধারার জুজু না দেখিয়ে কোভিড ও ইয়াস মোকাবিলায় বাংলার মানুষের পাশে থাকা উচিত।”

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার যখন দিল্লিতে অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছিলেন শুভেন্দু অধিকারী সেই সময় কলকাতায় রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের আহবানে দলীয় বৈঠক চলছিল। সেই বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন রাজিব। এর পরেই ফেসবুকের ওই পোস্ট প্রকাশ্যে আসে। এই ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই তুমুল আলোড়ন শুরু হয়ে গিয়েছে বিজেপির অন্দরে। যদিও রাজ্য বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন রাজিব এখনো তাদের দলেরই সদস্য। বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে দল কথা বলবে বলেও জানান তিনি। উল্লেখ্য, সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের মর্জি অনুসারে পোস্ট করা আটকাতে মঙ্গলবারই একটি শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি তৈরি করেছে বিজেপি।রাজীবের বিরুদ্ধে ওই কমিটি এখন কোন পদক্ষেপ নেয় কিনা সেটাই দেখার বিষয়। তবে সূত্রের খবর অনুযায়ী বিজেপির অভ্যন্তরে অনেকেই মনে করেন রাজীবের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হলে তাতে আখেরে সুবিধা হবে রাজিবেরই। এর ফলে তৃণমূলের সঙ্গে নৈকট্য বাড়ানোর যে প্রচেষ্টা তিনি করছেন বলে অনুমান করা হচ্ছে তা আরো সুগম হবে বলেই মনে করছেন তাঁরা।

মঙ্গলবার শুভেন্দুর ৩৫৬ধারা নিয়ে করা মন্তব্যের ঠিক একটু পরেই ফেসবুকে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন,”সমালোচনা তো অনেক হল মানুষের বিপুল জনসমর্থন নিয়ে আসা নির্বাচিত সরকারের সমালোচনা ও মুখ্যমন্ত্রীর বিরোধিতা করতে গিয়ে কথায় কথায় দিল্লি আর ৩৫৬ ধারার জুজু দেখালে বাংলার মানুষ ভাল ভাবে নেবে না। আমাদের সকলের উচিত রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে কোভিড ও ইয়াস, এই দুই দুর্যোগে বিপর্যস্ত বাংলার মানুষের পাশে থাকা।”

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=5838156116258241&id=687432314664006

সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজিবের এহেন সুর বদলের পর দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব যে আরও বেড়ে চলেছে তা নিয়ে এক প্রকার নিশ্চিত রাজনৈতিক মহল। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির তরফ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয় এখন সেটাই দেখার বিষয়।