‘ সব চললেও বিদ্যালয় কেন বন্ধ? ‘ – এসআইও

নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কলকাতা : গত বছর করোনা প্রকোপ বাড়ার পর, বিগত বছরের মার্চ মাস থেকে টানা লকডাউনের ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় সরকার, করোনা প্রকট আস্তে আস্তে কমতে থাকায় সরকারের আনলক প্রক্রিয়া চালু হলেও এখনও পর্যন্ত খোলেনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তাই অবিলম্বে স্বাস্থ্য বিধি মেনে বিদ্যালয় খোলার দাবি জানিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করলো ছাত্র সংগঠন এসআইও (স্টুডেন্টস ইসলামিক অর্গানাইজেশন অফ ইন্ডিয়া), পশ্চিমবঙ্গ শাখা।

বুধবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের রাজ্য সভাপতি সাবির আহমেদ, বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন,” রাজ্য সরকারের ট্যাব দেওয়ার সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই, কিন্তু সমস্ত পড়ুয়াদের পড়াশোনা অনলাইনে সম্ভব নয়। এই অভিযানে আমরা বিদ্যালয় খোলার পাশাপাশি পড়ুয়া ও অভিভাবকদেরও সচেতন করার উদ্যোগ নিয়েছি।” প্রসঙ্গত তিনি কর্মসংস্থানের দাবি তোলেন। রাজ্য সভাপতি সাব্বির আহমেদ স্কুল খোলা সহ শিক্ষা বিষয়ক সমস্যার সমাধানে একগুচ্ছ দাবি পেশ করেন।

উল্লেখ্য যে, সদ্য প্রকাশিত জাতীয় নমুনা সমীক্ষা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে মাত্র ১৬.৫ % পরিবারের ইন্টারনেটের সুবিধা রয়েছে এবং মাত্র ১০.৭ % পরিবারে কম্পিউটার আছে। ২০১৭-১৮ সালের গ্রাম উন্নয়ন মন্ত্রকের ‘মিশন অন্তোদ্যয়’ সমীক্ষা অনুযায়ী মাত্র ৪৭ % বাড়িতে ১২ ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকে।

অন্যদিকে করোনা কালে দীর্ঘ সময় স্কুল বন্ধ থাকার ফলে স্কুলছুট ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। সাবির আহমেদ স্কুলছুট নিয়ন্ত্রণে আকর্ষণীয় ও উপযুক্ত দাবি। যথাযথ ভাবে স্বাস্থ্য বিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শিক্ষাঙ্গনে পঠনপাঠন শুরু করার জন্য এক প্রচারাভিযানের সূচনা করেন। সারা দেশ জুড়ে করোনা আবহে কর্মহীন হওয়া মানুষের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদিন সংগঠনের পক্ষ থেকে ৬টি দাবি জানানো হয়। সেগুলি হল- ১ ) শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড , তাই অবিলম্বে স্বাস্থ্য বিধি মেনে বিদ্যালয় খুলতে হবে । ২ ) স্কুলছুট নিয়ন্ত্রণে সরকারকে গঠনমূলক পরিকল্পনা ও প্রকল্প তৈরি করতে হবে । ৩ ) মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অতি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে । ৪ ) কলকাতা ইউনানি মেডিক্যাল কলেজ সরকারি আওতাভুক্ত করার জন্য ২০১০ সালে পাস হওয়া বিল কার্যকরী করতে হবে । ৫ ) কলেজ অধ্যাপকদের নিয়োগ করার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ রূপে ইউজিসি গাইড লাইন মানতে হবে । ৬ ) এসএসসি, এমএসসি এবং প্রাইমারীতে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সাথে অবিলম্বে সম্পন্ন করতে হবে।

এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সাহাবুদ্দিন মন্ডল, শিক্ষাঙ্গন সম্পাদক আব্দুল ওয়াকিল, জনসংযোগ সম্পাদক সেখ ইমরান হোসেন এবং শিক্ষক সাদাব মাসুম।