“শক্তিশালীই বেঁচে থাকবে, এটাই জঙ্গলের নিয়ম”ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা প্রসঙ্গে বললেন মোহন ভাগবত

টিডিএন বাংলা ডেস্ক: ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যাকে জঙ্গলের শাসনের সঙ্গে তুলনা করেছেন সংঘ প্রধান মোহন ভাগবত। তিনি বলেন, বেঁচে থাকাই জীবনের লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। কারণ পশুরাও খিদে মেটানো এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির কাজ করে। যে শক্তিশালী সে-ই বাঁচবে, এটাই জঙ্গলের নিয়ম। মানুষ হওয়ার সবচেয়ে বড় লক্ষণ হলো সে অন্যকে রক্ষা করে। কর্ণাটকের শ্রী সত্য সাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে মানবিক শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে নিজের বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে এখানেও মন্তব্য করেন সংঘ প্রধান ভাগবত। ওই সমাবর্তনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন ইসরো চেয়ারম্যান কে কস্তুরিরঙ্গন, প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেট অধিনায়ক সুনীল গাভাস্কার, গায়ক পণ্ডিত এম ভেঙ্কটেশ কুমার।

ওই অনুষ্ঠানে দেশের উন্নয়নের কথাও বলেন সংঘ প্রধান। তিনি বলেন, সম্প্রতি দেশ অনেক এগিয়েছে। দেশবাসী উন্নয়ন দেখেছে। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আমরা গড়েছি। ১০ বা ১২ বছর আগে যদি কেউ এই কথা বলত, তবে এটিকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হত না। যে উন্নয়ন আজ দৃশ্যমান, তার ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল ১৮৫৭ সালে। তবে, বিজ্ঞান এবং বহির্বিশ্বের মধ্যে এই সবের মধ্যে ভারসাম্যের অভাব স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।

ওই সমাবর্তনী অনুষ্ঠানে মোহন ভাগবত আরো বলেন, কারো ভাষা ভিন্ন, ধর্ম ভিন্ন, এমনকি দেশ ভিন্ন হলে তা বিরোধের মূল। পরিবেশ ও উন্নয়নের মধ্যে সবসময়ই দ্বন্দ্ব রয়েছে। আধ্যাত্মিকতার মাধ্যমেই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা যায় কারণ বিজ্ঞান এখনও সৃষ্টির উৎপত্তি বুঝতে পারেনি। বিজ্ঞান শুধুমাত্র খুঁজে পেয়েছে যে সবকিছু পরস্পর সংযুক্ত। কিন্তু তাঁরা সংযোগকারী ফ্যাক্টর খুঁজে পাননি।

প্রসঙ্গত, ১২ জুন, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ‘জনসংখ্যার ভারসাম্যহীনতা’ সম্পর্কে একটি বিবৃতিতে বলেছিলেন, “এটা হওয়া উচিত নয় যে কোনও একটি সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বা শতাংশ বেশি এবং আমরা আইন এবং পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে সেই এলাকার মূল বাসিন্দাদের জনসংখ্যা কম ঘোষণা করে দেব।”

এই প্রসঙ্গে এআইএমআইএম প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি বলেন, “মুসলমানরা কি ভারতের মূল নিবাসী নয়? ভারতে জনসংখ্যার ভারসাম্য বিশ্বের সেরা। মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকেরা সবচেয়ে বেশি গর্ভনিরোধক উপায় ব্যবহার করে।”

বৃহস্পতিবার আরেকটি বিবৃতিতে ওয়াইসি বলেন,”ভারত সরকার যদি দুই সন্তানের আদর্শ বিল নিয়ে আসে, তবে আমি এটিকে মোটেও সমর্থন করব না কারণ এটি মোটেও ভারতের পক্ষে হবে না। ভারতের জনসংখ্যা নিজে থেকেই কমছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এটি স্থিতিশীল হবে।”