এএপিপি ও অনুসন্ধানের যৌথ উদ্যোগে পালিত হল ক্রিমি সচেনতা দিবস

Prof. Motiyar Rahman

টিডিএন বাংলা ডেস্কঃ ৭ জুলাই, ১৬-তম কৃমি সচেতনতা দিবস পালিত হলো। এই অনুষ্ঠান এসোসিয়েসন ফর অ্যাডভান্সমেন্ট ইন প্লান্ট প্রোটেকশন (এ এ পি পি, কল্যাণী) ও অনুসন্ধানের
( কলকাতা) যুগ্ম প্রচেষ্টায় উদযাপিত হলো। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন বিজ্ঞানী ড.অনির্বান দত্ত, ভারতীয় কৃষি অনুসন্ধান সংস্থান, নিউ দিল্লী। অনুষ্ঠান শুরু করেন অবসরপ্রাপ্ত বিশিষ্ট কৃমিবিজ্ঞানী ড. অজয় কুমার গাঙ্গুলী (নিউ দিল্লি)। তিনি উদ্ভিদ ও প্রাণী-পরজীবীর গুরুত্ব ও তার বর্তমান প্রভাবের কথা উল্লেখ করেন। কৃমির আক্রমণে বিভিন্ন ফসলে প্রতি বছর প্রায় ১০,০০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়। তিনি এ এ পি পি র ১৬ বছর একটানা কৃমি সচেতনতা উৎযাপন ও তার সফলতার প্রশংসা করেন।
এই অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে ছিলেন প্রখ্যাত কৃমি বিজ্ঞানী ও অবসরপ্রাপ্ত সর্বভারতীয় প্রকল্পের সমন্বয়কারী, অধ্যাপক ড. রমন কুমার ওয়ালিয়া (নিউ দিল্লি), উদ্ভিদ ও প্রাণী-পরজীবী কৃমি বিষয়ে মূল বক্তব্য রাখেন এবং পাওয়ার-পয়েন্ট প্রজেক্শনের মাধ্যমে মানুষের শরীরে বিভিন্ন পরজীবী কৃমির সমস্যা ছবিসহ ব্যাখ্যা করেন। তিনি তিন প্রজাতির কৃমির উল্লেখ করেন তা হলো গোলকৃমি, চ্যাপ্টাকৃমি এবং ফিতাকৃমি। যে যে কৃমিগুলো মানুষের ও গৃহপালিত পশুর শরীরে বাসা বাঁধে তার নিয়ন্ত্রণ ও সতর্কতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি পায়ের গোদ বা এলিফ্যানটিয়েসিস এবং ভারতের উপকূলবর্তী অঞ্চলে তার ব্যাপকতা নিয়েও বলেন । তিনি
ডিওয়ার্মিং দিবস (৭ই ফেব্রুয়ারী) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা, কেন্দ্র ও রাজ্য সকারের প্রচেষ্টায় স্কুলে ডিওয়ার্মিং ব্যবস্থা চালু থাকার প্রয়জনিয়তার উল্লেখ করেন। ছোট শিশুদের পায়ু ছিদ্রে চুলকানি কৃমি আক্রমণের অন্যতম লক্ষণ। তবে কৃমিনাশক ওষুধ খেতে হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে তা খাওয়া উচিত। স্কুল ছাত্র-ছাত্রী ও কৃষকদের কৃমির আক্রমণ থেকে রেহাই পাওয়ার উপায় সম্পর্কে উপদেশ দেন এবং সচেতন হতে বলেন। মাটি থেকে সদ্য তোলা ফসল যেমন মুলো, গাজর এবং শসা ইত্যাদি জলে ভালো করে ধুয়ে খাওয়ার উপদেশ দেন। এ ছাড়া বিভিন্ন ফসলের কৃমি সমস্যা ও তার প্রতিকার উল্লেখ করেন।
কৃমি ছাড়া পোকা-মাকড়, রোগ সমস্যা এবং শস্য উৎপাদন সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন -উত্তর পর্ব চলে। রাজ্য ও বাইরের রাজ্য যেমন ওড়িশার চাষী ও কৃষি আধিকারিক কৃমি সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন করেন এবং তার সম্ভাব্য সমাধান দেওয়া হয়। শস্য উৎপাদন নিয়েও প্রশ্ন হয় এবং বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ সমস্ত প্রশ্নের উত্তর ও যথাযথ পরামর্শ ও সমাধান দেন। সব চাষী ভাইদের হোয়াটস্যাপ নম্বর ৯৪৩৩৩৬২২৯৩ দেওয়া হয়। এই নম্বরে শস্য সুরক্ষা নিয়ে আরো প্রশ্ন থাকলে তা পাঠানোর অনুরোধ করা হয়। পেয়ারা গাছের শিকড় ফোলা কৃমির সমস্যা এবং কৃমি আক্রান্ত চারার একটা ভিডিও দেখানো এবং কীভাবে কৃমি চারা গাছের মাধ্যমে বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে তা বোঝান।
এই অনুষ্ঠানে কৃষক, ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, বিজ্ঞানী, কৃষি সামগ্রী বিক্রেতা, কৃষি আধিকারিক, কৃষি সহায়ক, এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তি বর্গ বিভিন্ন রাজ্য থেকে ৯৪ জন অংশগ্রহণ করেন। সব শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিশিষ্ট কৃমি বিজ্ঞানী অধ্যাপক মতিয়ার রহমান খান (নিউ দিল্লী)। আজকের আলোচনার সারমর্ম উপস্থিত সকলকে কৃমি সচেতন এবং প্রাণী-পরজীবী কৃমির আক্রমণ সম্পর্কে আরো সজাগ করে তোলা।