চতুর্থবার সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট পদে শপথ নিলেন বাশার আল-আসাদ

টিডিএন বাংলা ডেস্ক : যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে চতুর্থবারের মতো শপথ নিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় শনিবার সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক শহরে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে শপথ অনুষ্ঠান হয়। ধর্মীয় নেতা, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সেনা কর্মকর্তাসহ ছয় শতাধিক মানুষ ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অভিষেক বক্তব্যে ৫৫ বছর বয়সী আসাদ বলেন, ‘বৈধতার শক্তি নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে। সিরিয়া রাষ্ট্র ও সংবিধানের বৈধতা নিয়ে পশ্চিমা বাহিনীর বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে এই নির্বাচন।’

সিরিয়ার গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এবার শপথ নেওয়ার মাধ্যমে আগামী সাত বছর ক্ষমতায় থাকছেন দেশটির এ স্বৈরশাসক।

দশ বছর অতিক্রম করে চলা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে ২০১১ সালে বাশার আল আসাদের সরকারের বিরুদ্ধে একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সরকারি বাহিনীর রক্তক্ষয়ী পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়।

এ লড়াইয়ে প্রায় তিন লাখ ৮৮ হাজার মানুষ মারা গেছেন এবং দেশটির প্রায় অর্ধেক মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। এর মধ্যে বিদেশে শরণার্থী শিবিরে আছেন প্রায় ৬০ লাখ মানুষ।

এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয়েছে মূলত সরকারনিয়ন্ত্রিত এলাকায়। বিদেশে সিরীয় কয়েকটি দূতাবাসেও ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। তবে নির্বাচনের বিরুদ্ধে বড় ধরনের প্রতিবাদ হয়েছে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত ইদলিব প্রদেশে।

অবশ্য এ নির্বাচন নিয়ে নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে এটিকে প্রহসনের নির্বাচন আখ্যা দিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালিসহ সিরিয়ার বিরোধীদলগুলো। নির্বাচনের আগে দেওয়া বিবৃতিতে তারা বলেছেন, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধান ছাড়া এটি অবাধও নয়, সুষ্ঠুও নয়।

নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, সিরিয়ায় জাতিসংঘের প্রস্তাব মানা হয়নি এবং ছিল না কোনো আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা। কেবল আসাদ সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার মানুষরাই ভোট দিতে পেরেছেন।

এছাড়া নির্বাচনে মাত্র তিনজন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হতে পেরেছিলেন। অথচ মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন প্রায় ৪৮ জন। বাকিগুলো বাতিল করে দেয় আসাদ সরকার। আর প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে রাখা হয় তারই সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ সালুম আবদুল্লাহকে।