তুরস্কে তৃতীয়দিন ধরে চলা দাবানলে নিহত চারজন ও অনেকে চিকিৎসাধীন , খালি করা হচ্ছে গ্রাম গুলো

টিডিএন বাংলা ডেস্ক :  তুরস্কের দক্ষিণ উপকূলে দাবানল থেকে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চারজন। দমকল বাহিনী কয়েক ডজন গ্রাম ও কিছু হোটেল খালি করতে শুরু করেছে। আজ শুক্রবার তৃতীয় দিনের জন্য লড়াই জারি এই প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার বিরূদ্ধে।

এই সপ্তাহে তুরস্কের এজিয়ান ও ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে ১৭ টি প্রদেশে ৬০০ টিরও বেশি দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। বনমন্ত্রী জানান, ছয়টি প্রদেশে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। কর্মকর্তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিন যদি কেউ দাবানল তৈরী করার জন্য দায়ী পাওয়া যায় তবে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

নিকটবর্তী গ্রাম এবং কয়েকটি হোটেল থেকে মানুষদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে পর্যটকদের জনপ্রিয় অঞ্চলগুলি থেকে। টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা যাচ্ছে লোকেরা তাদের বাড়ির দিকে আগুন জ্বলতে দেখে বাড়ির বাইরে মাঠের দিকে পালিয়ে যাচ্ছেন।

বনমন্ত্রী বেকির পাকদেমিরলি জানিয়েছেন, আন্টালিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় রিসর্ট অঞ্চল এবং মুগলার এজিয়ান রিসর্ট প্রদেশে তখনও আগুন জ্বলছিল।

তিনি বলেন, “আমরা আজ সকাল পর্যন্ত কিছু আগুন নিয়ন্ত্রণের আশা করছিলাম কিন্তু আমরা সতর্কভাবে এগিয়ে যাচ্ছি , আমরা এখনও বলতে পারি না যে দাবানল এখনও পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রীসে প্রায় ৪০ টিরও বেশি আগুন জ্বলেছে এবং এই অঞ্চলের অন্যান্য জায়গায় দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার এথেন্সের উত্তরে একটি পাইন বনের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে, এটি নিয়ন্ত্রণে আনার আগে এক ডজনেরও বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এই সপ্তাহে লেবাননের উত্তরাঞ্চলের পাহাড়ি উত্তরের পাইন বনের বিশাল অংশেও আগুন লেগেছে, একজন দমকলকর্মী নিহত হয়েছে এবং কিছু বাসিন্দাকে পালাতে বাধ্য করেছে।

তুরস্কের দমকলকর্মীরা মাটিতে ও হেলিকপ্টারগুলি ব্যাবহার করে নিয়ন্ত্রণের চেস্টা করছে। ইতিমধ্যে মানবগাট এলাকায় তিন জনের মৃত্যু হয়েছে , বৃহস্পতিবার মানবগট থেকে ২৯০ কিলোমিটার পশ্চিমে মুগলার মারমারিস এলাকায় একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। মারমারিসে আগুন জ্বলতে থাকে তবে আবাসিক অঞ্চল ঝুঁকিপূর্ণ ছিল না বলে পাকডেমিরলি জানিয়েছেন।
নগরায়ণ মন্ত্রী মুরাত কুড়ুম বলেন, মানবগটে আগুন লাগার কারণে ২৭ টি আশপাশ এলাকা খালি করা হয়েছে।

গরম আবহাওয়ায় প্রবল বাতাসের কারণে বুধবার মানবগটের চারপাশে আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর আদানা ও মেরসিনে কিছু এলাকা খালি করা হয়েছে। মানবগটের একটি হাসপাতালও খালি করা হয়েছে। বলে স্থানীয় প্রশাসন জানায়।

মারমারিসে বিভিন্ন হোটেল সহ বাড়িগুলি খালি করা হয়েছে। মুগলার বোড্রামের এজিয়ান গ্রীষ্মকালীন হটস্পট এবং আয়দিন প্রদেশের দিদিমের আবাসিক এলাকার কাছে দুটি পৃথক অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

পাকডেমিরলি বলেছেন যে ওসমানিয়, কায়সারী, কোকেলি, আদানা, মেরসিন এবং কুটাহিয়া প্রদেশে তিনটি বিমান, নয়টি ড্রোন, ৩৮ টি হেলিকপ্টার ৬৮০ দমকলকর্মী যানবাহন এবং ৪,০০০ জন কর্মী দমকল কর্মযজ্ঞে জড়িত আছে এবং পৃথক দাবানল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।