মুমূর্ষকে বাঁচাতে বাইকে ১০০কিমি পাড়ি যুবকের, ফেরার পথে দুর্ঘটনার কবলে রক্তদাতা হাসিবুল

নিজস্ব প্রতিনিধি, টিডিএন বাংলা, রামপুরহাট: আমার মেয়েকে বাঁচান। রক্ত চেয়ে ফোনের ওপারে মায়ের আকুতি। কিন্তু লালগোলা থেকে রামপুরহাট। দূরত্ব প্রায় ১০০কিমি। আর দ্বিতীয়বার ভাবেনি লালগোলার যুবক হাসিবুল সেখ। সঙ্গে সঙ্গে নিজের ব্যবসার দোকানে ঝাঁপ নামিয়ে দেয় সে। বন্ধু হাসিবুলকে বাইকে তুলে নেয় ইমরান। দুপুর একটা নাগাদ ওরা রওনা দেয় রামপুরহাট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের উদ্দেশ্যে। বিরল গ্রূপের রক্ত মিলতেই বুধবার রাতে অপারেশন হয় হাসিরা খাতুনের।

জানা গেছে, দুর্ঘটনায় হাত ভেঙ্গে যাওয়ায় রামপুরহাটের একটি বেসরকারী নার্সিংহোমে ভর্তি ছিল হাসিনা খাতুন। অপারেশনের কথা জানায় ডাক্তার। কিন্তু বিরল ও-নেগেটিভ রক্তের অভাবে দুদিন ধরে অপারেশন আটকে ছিল নলহাটির বাসিন্দা হাসিনার। অনেক খুঁজেও কোথায় রক্তের সন্ধান পাননি হাসিনার পরিবার।

অবশেষে ফোন যায়, ‘মানব কল্যাণে রক্তদান সংস্থা’র লালবাগ মহকুমা সভাপতি মো: ইমরান হোসেন কে ফোন করে হাসিনার কাকীমা রেজিনা বিবি। ইমরান ফোন করতেই রক্ত দিতে রাজি হয়ে যায় মধুপুর, লালগোলার যুবক হাসিবুল সেখ। হাসিবুলকে সঙ্গে নিয়েই ১০০কিমি বাইক হাঁকায় ইমরান। রক্ত পেয়ে সফল হয় অপারেশন।

হাসিবুল বলছেন, আমার রক্তের গ্রূপ ও-নেগেটিভ। অনেক দিনের ইচ্ছে এই বিরল রক্ত দিয়ে কারও জীবন বাঁচাবো। ‘মানব কল্যাণে রক্তদান সংস্থা’কে বলেও রেখেছিলাম সে কথা। ইমরান ফোন করতেই আমার সেই স্বপ্ন পূরণ হল। আমি ধন্য।

রক্ত পেয়ে স্বভাবই খুশি হাসিনার কাকীমা রেজিনা বিবি বলেন, মেয়ের অপারেসনের জন্য দুদিন থেকে হন্যে হয়ে কোথাও ও-নেগেটিভ রক্ত না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ি। একজনের থেকে ফোন নম্বর পেয়ে ইমরান কে ফোন করতেই আড়াই ঘণ্টা বাইক চালিয়ে ছুটে আসে হাসিবুল। ওর রক্তেই আমার মেয়ের জীবন বাঁচল।

এদিকে রক্ত দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ইমরান হাসিবুল। ইমরান জানায়, নলহাটি থেকে মোড়গ্রাম যাওয়ার রাস্তা অত্যন্ত খারাপ। এদিকে রাত্রি হয়ে যাওয়ার কারণে বাইক সহ জলভরা গর্তে হোঁচট খেয়ে পড়ে গিয়েছিলাম। তাতে আমরা দুজনেই আহত হই।

মানব কল্যাণে রক্তদান সংস্থার লালবাগ মহকুমা সভাপতি মো: ইমরান হোসেন বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে এমনিতেই রাজ্য জুড়ে চলছে রক্তের হাহাকার। আর সেই সঙ্কটজনক মুহূর্তে এভাবেই মুমূর্ষদের প্রাণ বাঁচাতে রক্ত দিতে ব্লাড ব্যাংকে ছুটে যাই আমরা। আর এই কাজে আমাকে প্রেরণা জুগিয়েছে আমার আব্বা-মা। মায়ের ইচ্ছে আমার কর্মজীবন যেমনই হোক না কেন সারা জীবন যেন মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি। আমরা চাই, মানুষ হয়ে মানুষের জীবন বাঁচাতে মানবতার কাজে অনুপ্রাণিত হোক অন্যান্যরাও।