ইস্তফা দিন, আপনার থেকে যোগ্যকে সুযোগ দিন, মোদীর কাছে আবেদন অরুন্ধতী রায়ের

টিডিএন বাংলা ডেস্ক : আমরা বিপন্ন। আমরা অবিলম্বে একটা সরকার চাই। আমাদের এই মুহূর্তে প্রয়োজন একটি সরকারের। আমাদের জীবনবায়ু ফুরিয়ে আসছে। আমরা প্রতিনিয়ত মারা যাচ্ছি। হাতে নিদান থাকা সত্ত্বেও সেটা জানার কোনও উপায় নেই যখন কোনও ব্যবস্থাই কাজ করছে না। এই মুহূর্তে আর কী করা যায় ? তাই প্রধানমন্ত্রী, দয়া করে সরে দাঁড়ান বলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে কাতর আবেদন জানিয়েছেন স্বনামধন্য লেখিকা ও সমাজকর্মী অরুন্ধতী রায়। তিনি তার আবেদনে জানিয়েছেন, আমরা ২০২৪ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারি না। আমরা কখনও স্বপ্নেও ভাবিনি যে এমন একদিন আসবে যখন আমাদের কোনও কিছুর জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে আমি আবেদন জানানোর চেয়ে জেলে যাওয়া বেশি পছন্দ করতাম। কিন্তু আজ আমরা আমাদের বাড়িতে, হাসপাতালের গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায়, বড় শহরে, ছোট মফস্বলে, গ্রামে, জঙ্গলে, মাঠে মারা যাচ্ছি। এই সময় একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমি আমার আহংকারবোধকে বিসর্জন দিয়ে আমার কোটি কোটি দেশবাসীর মতো আপনার কাছে আবেদন জানাতে বাধ্য হচ্ছি যে দয়া করে সরে যান আপনি। অন্ততঃ এখনকার মতো। আমার অনুরোধ, সরে দাঁড়ান আপনি।

আজ যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে সেটি আপনি তৈরি করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন অরুন্ধতী। তিনি বলেন, আপনি এই সমস্যার সমাধান করতে পারবেন না। এই ভাইরাস তার বংশবিস্তার করে ভয়, ঘৃণা এবং অজ্ঞতার বাতাবরণে। এই ভাইরাস বিংশবিস্তার করে এমন এক পরিস্থিতিতে যখন আপনি কথা বলার অধিকার কেড়ে নেন। এই ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি হয় যখন আপনার বশংবদ সংবাদ মাধ্যম প্রকৃত তথ্য তুলে ধরে না। সেটি তুলে ধরে বিদেশি মিডিয়া। এমন এক পরিস্থিতিতে এই ভাইরাস ফুলে ফেঁপে ওঠে যখন একজন প্রধানমন্ত্রী কখনও সাংবাদিক বৈঠক করেন না। এমনকী, এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে তিনি কোনও প্রশ্নের উত্তরও দেন না।

অরুন্ধতী তার আবেদনে বলেছেন, আমরা হাজার হাজার মানুষ বিনা কারণে মারা যাব, যদি প্রধানমন্ত্রী আপনি সারে না দাঁড়ান। তাই আপনার ঝোলা কাঁধে নিয়ে আপনি এখনই চলে যান। আপনার সম্মান বাঁচিয়ে, আপনি নির্জনে গিয়ে উপাসনা করে ভালোভাবে জীবন – যাপন করুন ।

আপনি একদিন বলেছিলেন, আপনি এই জীবনই চান। সে জীবন – যাপন আপনি করতে পারবেন না, যদি আপনি থেকে গিয়ে মানুষের মৃত্যুর পথ প্রশস্ত করেন। আপনার দলে বহু লোক আছেন যারা আপনার স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন। তারা বিরোধী দলগুলির সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক রেখে চলবেন। আপনার দলের কোনও ব্যক্তি আরএসএস – এর অনুমোদন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন এবং তিনি নেতৃত্ব দিতে পারেন একটি বিপর্যয় কমিটির। সেই কমিটিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাও থাকবেন। সেই কমিটিতে থাকবেন বিজ্ঞানী, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, অভিন্ন আমলা। আপনি এটা বুঝতে পারবেন না কিন্তু এটাই গণতন্ত্র। আপনি বিরোধীমুক্ত ভারত গড়তে পারবেন না। তাকে স্বৈরাচার বলা হয়। ভাইরাস স্বৈরাচারকে ভালাবাসে।
অরুন্ধতী আবেদনে বলেছেন, আপনি যদি এখনই এটা না করেন তাহলে বিশ্বের অন্য দেশ আপনার বিষয়ে নাক গলানোর সুযোগ পেয়ে যাবে। কারণ করোনার প্রাদুর্ভাব আজ একটি আন্তর্জাতিক বিষয়। তাই এটাকে অবহেলা করবেন না। তাই দয়া করে সরে দাঁড়ান। এটাই হবে আপনার দায়িত্বজ্ঞানের পরিচয়। কারণ আমাদের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার নৈতিক অধিকার আপনি হারিয়েছেন। সুত্র – পূবের কলম