আলিমে সাফল্যের ধারা অব্যাহত আল ফারাহ মিশনের

নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, হুগলী: ধারাবাহিক সাফল্যের গৌরবোজ্জ্বল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলির মধ্যে অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান হুগলীর আল ফারাহ মিশন পরিচালিত দারুন্নেদা সিদ্দিকীয়া মাদ্রাসা। বিগত কয়েক বছরের মত এবছরেও মাধ্যমিক সমমানের আলিম পরীক্ষায় তাদের সাফল্য নজরকারা। বিগত বছরের সাফল্যের ধারাকে অব্যাহত রেখে এবছর ও ১০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে সকলেই প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছে। ছাত্রদের সাফল্যে খুশি মিশনের সাধারণ সম্পাদক পীরজাদা তামিম উদ্দিন সহ সমস্ত শিক্ষক মন্ডলী। কোভিড পরিস্থিতিতে অন্যান্য বোর্ডের মতো পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদ ও পরীক্ষা নিতে পারেনি। তাই বিকল্প মূল্যায়ন পদ্ধতির মাধ্যমে এই ফলাফল তৈরি হয়েছে। তবে মিশনের সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষকদের কাছ থেকে জানা যায় মিশনের ছাত্ররা পরীক্ষা দেবার মত মানসিকতা নিয়েই তৈরি হয়েছিল। তাই যদি পরীক্ষা হত তাতেও তাদের সাফল্যের খতিয়ান এমনই থাকতো। রাজ্যে এবছর পাশের হার ১০০ শতাংশ, যা পূর্বের যে কোনো বছরের থেকে বেশি। স্বাভাবিক ভাবেই করোনা আবহে বন্ধ আল ফারাহ মিশনও। এক ঘেয়ে এই পরিবেশে খুশির হাওয়া বয়ে নিয়ে এল ছাত্রদের এই নজরকাড়া ফল। ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত দারুন্নেদা সিদ্দিকীয়া মাদ্রাসা থেকে প্রথম আলিম পরীক্ষায় বসে ২০১০-এ। আর প্রথম বছরেই নজরকাড়া সাফল্য আনে দারুন্নেদার ছাত্ররা। এর পর ২০১২তে এই মাদ্রাসার ছাত্ররা রাজ্যে পঞ্চম ও ২০১৬-তে সপ্তম ও নবম ও ২০১৯ এ রাজ্যের মধ্যে চতুর্থ ও নবম স্থান অধিকার করে মিশনের নাম উজ্জ্বল করেন। চলতি বছরেও শেখ শোয়েব আক্তার(৭০২), শেখ শামীম উদ্দিন(৭০০), নওয়াজ শরিফ পাইক(৭০০), মোদাসসির লস্কর(৬৯৩) সহ বাকিরাও নজরকাড়া ফলাফল করে পূর্বের সাফল্যর ধারা কে অব্যাহত রেখেছে। যাদের অধিকাংশই নিন্মবিত্ত গরিব পরিবার থেকে উঠে আসা। ধারাবাহিক এই সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে আল-ফারাহ মিশনের সাধারন সম্পাদক পীরজাদা তামিম সিদ্দিকী বলেন, “দ্বীনি পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অধ্যবসায়, গভর্নিং বডির দক্ষ পরিচালনা, এলাকাবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা, এবং শিক্ষকদের কর্তব্যনিষ্ঠা এবং যারা দীর্ঘদিন ধরে মাদরাসার উন্নতি কল্পে দান করে আসছেন তাদের মহানুভবতা, যাদের দান ছাড়া এতবড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করাই অসম্ভব, সর্বোপরি মহান আল্লাহর অশেষ রহমত এ সাফল্যের মূল ভিত্তি।” তিনি আরও বলেন যে, “রাজ্যের প্রত্যন্ত প্রত্যন্ত গ্রামের গরিব ছাত্রদের এখানে স্বল্পমূল্যে শিক্ষা দান করা হয়।” সফল ছাত্রদের কেউ কেউ আরবী সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করতে চান আবার কেউ ইসলামিক থিওলজি নিয়ে এগিয়ে যেতে চান বলে জানান।