‘ইংরেজি শিক্ষার ক্লাস এমনটাই হওয়া উচিত’ – অনুসন্ধানের অভিনব উদ্যোগে উচ্ছ্বসিত ছাত্র অভিভাবক সকলেই

টিডিএন বাংলা ডেস্ক: শুধু মুখস্থ বিদ্যা নয়। শুধু নম্বর বাড়ানোর ভাবনা নয়। একটি অত্যাবশ্যক বিদেশী ভাষাকে কবজা করতে গেলে তাকে চারদিক থেকে দেখে বুঝে নিয়ে মূল সমস্যাগুলোর গোড়ায় আঘাত হানতে হয়। একবার আয়ত্তে এসে গেলে তরতরিয়ে বেড়ে যায় পরীক্ষার নম্বর, পার হওয়া যায় উচ্চশিক্ষার বৈতরণী। ভাষা তখন আর কেবল ভাষা থাকে না, হয়ে ওঠে প্রাণের আরাম, মননের সঙ্গী।
এই উপলব্ধিই বাঙ্ময় হয়ে উঠল ‘অনুসন্ধান-কলকাতা’-র আজকের ইংরেজি ক্লাসে, যার পোশাকী নাম ছিল – Madhyamik English: Know the Know-Hows.

যে তিনজন লব্ধপ্রতিষ্ঠ শিক্ষক আজ পাঠদান করেন তাঁদের প্রত্যেকেই ইংরেজি নামক অপরিহার্য বিদেশী ভাষাটির সহজ সুন্দর সাবলীলতার দিক যেমন তুলে ধরেন তেমনই তা আয়ত্ত করার ক্ষেত্রে সাধারণ সমস্যাগুলি চিহ্নিত ক’রে সমাধানের পথগুলিও বাতলে দেন। অসমে গুয়াহাটির বিশ্বনাথ কলেজের অধ্যাপক ড. নিপম কুমার সইকিয়া ইংরেজি শব্দভান্ডারের বিশালতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শব্দভাণ্ডার বাড়ানোর নিয়ত প্রয়াস জারি রাখার উপর জোর দেন, এবং সমোচ্চারিত ও প্রায় সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দসমূহকে চিহ্নিত করে তাদের বিশেষ আয়াসে আয়ত্ত করার পরামর্শ দেন। নিখুঁত সাবলীল ইংরেজিতে প্রচুর উদাহরণ সহযোগে তিনি যেভাবে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরেন তাতে ছাত্র অভিভাবক এমনকি শিক্ষকদেরও অনুসন্ধিৎসা বাড়বে – এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।

অভিজ্ঞ শিক্ষক বাসব মণ্ডল ভাষাশিক্ষার চারটি স্তম্ভ – শ্রবণ, কথন, পঠন, লিখন বিষয়গুলি অনবদ্য ভাষায় ও ভঙ্গিমায় ব্যাখ্যা করেন এবং শ্রবণের সঙ্গে কথনের ও পঠনের সঙ্গে লিখনের অঙ্গাঙ্গী সম্পর্ক সহজবোধ্য ভাষায় উদাহরণ সহযোগে উপস্থাপন করেন।

শিক্ষক শেখ আলী আহসান পূর্ববর্তী বক্তাদের বক্তব্যের অনুসরণে বাংলা ভাষার সাথে প্রতি-তুলনার মাধ্যমে ইংরেজি ভাষার সহজ ও জটিল দিকগুলি তুলে ধরেন। যে ভুলগুলো আমরা সাধারণত করে থাকি সেই ধরনের ভুল ইংরেজরাও করে থাকে, ইংরেজি তাদের মাতৃভাষা হওয়া সত্ত্বেও- তা তিনি উদাহরণ দিয়ে প্রমাণ করেন। ইংরেজরাই যদি ইংরেজিতে ভুল করে তবে সরলমতি ছাত্ররা ভুল করবে- এ আর আশ্চর্য কি! কিন্তু, ভাষাটিকে ভালবাসতে হবে, আর ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে। এই বার্তা দিয়েই শেষ হয় আজকের ক্লাস।

ছাত্রদের দাবি, এ রকম আরো ক্লাস চাই, যাতে অন্যান্য অনালোচিত দিকগুলিতে আরো আলোকপাত করা যায়। ছাত্রদের এই দাবিই প্রমাণ করে, ছাত্রদের মধ্যে শেখার আগ্রহ জাগানোর যে দায় অনুসন্ধান বহন করতে প্রয়াসী তা আজকের ক্লাস অনেকাংশে সার্থকতা পেল।

উল্লেখ্য, আজ ছিল বাংলার প্রথম মহিলা ডাক্তার কাদম্বিনী গাঙ্গুলীর জন্মদিন। তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে ভাবগম্ভীর স্মৃতি তর্পণের মাধ্যমে দিনের শুভ সূচনা করেন তরুণ চিকিৎসক ডা. শাহীন ঈশা। শিক্ষার পাশাপাশি বাংলার মনীষাকে স্মরণ করে অনুসন্ধানের সন্ধানীরা প্রমাণ করলেন যে তাঁরা সঠিক লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছেন।
সমগ্র ক্লাসে ইংরেজির শিক্ষক মহাশয় ছাড়াও উল্লেখযোগ্যভাবে উপস্থিত ছিলেন ড. কমল দাস, সাহাবুল ইসলাম গাজী, বিজ্ঞানী মতিয়ার রহমান খান।