সাংসদ খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে মাদ্রাসার উন্নয়নে জমি কিনতে অর্থ দান শিক্ষকদের

রেবাউল মন্ডল, টিডিএন বাংলা, ফরাক্কা: প্রত্যন্ত গঙ্গা ভাঙন প্রবণ  পিছিয়ে পড়া এলাকায় শিক্ষার আলো জ্বালিয়েছে ফরাক্কার নুর জাহানারা স্মৃতি হাই মাদ্রাসা। সম্প্রতি সেখানে ছাত্র-ছাত্রীদের খেলার মাঠ ও গার্লস হোস্টেলের নির্মাণে তিন বিঘা জমি কেনার উদ্যোগ নিয়েছে মাদ্রাসা উন্নয়ন কমিটি। যার মূল্য সত্তর লক্ষ টাকা। আর সেই উন্নয়নে সাংসদ খলিলুর রহমানের হাত ধরে এগিয়ে এলেন মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষিকারাও।
জমি কিনতে এক লক্ষ কুড়ি হাজার টাকা দান করলেন তারা। রবিবার শিক্ষকরা সেই অর্থের চেক তুলে দেন মাদ্রাসার সম্পাদক তথা জঙ্গিপুর লোকসভার সাংসদ খলিলুর রহমানের হাতে।

সাংসদ খলিলুর রহমান বলেন, ‘মহিলা শিক্ষা উন্নয়ন এবং শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য জমি কেনার উদ্যোগকে ফলপ্রসূ করতে আমি নূর পরিবারের ব্যক্তিগত সম্পত্তি থেকে দশ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছি। শিক্ষকরাও আজ রেজিস্ট্রি খরচ সহ এককাঠা জমির দাম দিলেন। তাদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছি।’ আগামীতে আরও কিছু অর্থ সংগ্রহ করে দেবার আশ্বাসও তিনি দিয়েছেন।

মাদ্রাসার শিক্ষিকা পায়েল মুখার্জি বলেন, মহেশপুর বটতলা অনেক পিছিয়ে। এখানে উন্নয়ন করতে গেলে মায়েদের আগে শিক্ষিত করতে হবে। প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে নারী শিক্ষা উন্নয়নের জন্য যে জমি কেনা হচ্ছে তাতে সামিল হতে পেরে নিজেকে ধণ্য মনে করছি।

উল্লেখ্য, ফরাক্কার প্রত্যন্ত গঙ্গা ভাঙন প্রবণ এলাকা মহেশপুরের বেশিরভাগ পরিবারই বিড়ি শ্রমিক, শিশু শ্রম, হকারীর সাথে যুক্ত। কেউ বা প্রাথমিকের গন্ডি পেরিয়ে সোজা পাড়ি দেয় ভিন রাজ্যে। মাঝপথে স্কুলছুট পড়ুয়া ছাড়াও মদ, জুয়া, লটারী ও অন্যান্য নেশাগ্রস্থ পরিবারের সন্তানদের জীবনকে নাটকীয় ভাবে পাল্টে দিয়েছে এই মাদ্রাসা।

প্রধান শিক্ষক জানে আলম জানান, দীর্ঘদিন থেকে এলাকার মানুষ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত ছিল। কিন্তু এখানে খেলার মাঠ নেই ছাত্রীদের থাকার হোস্টেল নেই। মাদ্রাসায় প্রবেশের জন্য নিজস্ব রাস্তাও নেই। তাই আমরা পরিচালন কমিটি অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে সাহায্যের হাত বাড়ানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছি।

তিনি আরো জানান, মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য প্রশাসন সহ স্থানীয় মানুষরাও সহযোগিতা করছেন। একটা সময় এখানে এসে চাকরি করতে ভয় লাগত। ধীরে ধীরে মহেশতলার মানুষ শিক্ষার দিকে এগিয়ে আসছে। ছেলে মেয়েরা পড়াশোনা করছে এবং নূর জাহানারা স্মৃতি হাই মাদ্রাসা গোটা বাংলায় নজির সৃষ্টি করেছে।