জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণে অর্থ প্রদানের অভিযোগ অস্বীকার করলেন বদরুদ্দিন আজমল

Source: Badruddin Ajmal, Twitter Account

টিডিএন বাংলা ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশসহ দেশের একাধিক স্থানে হিন্দুদের ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে এমন অভিযোগে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ সম্প্রতি জামিয়া নগর থেকে মোহাম্মদ ওমর গৌতম নামে একজন মুসলিম ধর্ম প্রচারককে গ্ৰেফতার করে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশ জানিয়েছে, তার থেকে জানা গিয়েছে দিল্লির ইসলামিক দাওয়া সেন্টার এআইইউডিএফ সুপ্রিম বদরুদ্দিন আজমল এর কাছ থেকে প্রচুর অর্থ সাহায্য পেয়ে থাকে। যদিও বদরুদ্দিন আজমল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। উত্তর প্রদেশে পুলিশের সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী টিম এটিএস বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক তল্লাশি অভিযানে নেমেছে। পুলিশ জানিয়েছে বদরুদ্দিন আজমল বিদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণ অর্থ পেয়ে থাকে ইসলাম প্রচারের জন্য। পুলিশের আরও অভিযোগ আজমলের মালিকানাধীন মারকাজুল মারিফকে নিয়ে। তাদের পরিচালিত ৪টি অনাথ আশ্রম নিয়ে উঠছে এমন ধর্মান্তরকরণের অভিযোগ। অবশ্য বদরুদ্দিন আজমল তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তিনি উল্টে অভিযোগ করেছেন, ‘কিছু সংবাদ গোষ্ঠী ওমর গৌতমের সঙ্গে যেভাবে আমার নাম জড়াচ্ছে সেটা ভিত্তিহীন‌। ১৯৯৪ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত ওমর গৌতম তার সংস্থায় কাজ করেছে। তবে মারকাজুল মারিফ দিল্লি থেকে স্থানান্তরিত হয় মুম্বাইয়ে, এরপর ওমর গৌতম এর সঙ্গে মারকাজুল মারিফের সম্পর্কচ্ছেদ হয়। ওমর গৌতমের সংস্থাকে মারকাজুল মারিফ কোন আর্থিক অনুদান দেয়নি। ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে তার ভাবমূর্তি কলঙ্কিত করার ষড়যন্ত্র চলছে।’ উল্লেখ্য যে, ভারতের প্রসিদ্ধ মুবাল্লিগ ও ইসলামিক দাওয়া সেন্টারের চেয়ারম্যান ওমর গৌতমকে কাজী জাহাঙ্গীর নামে তার এক সঙ্গীসহ গ্রেফতার করেছে ভারতের উত্তর প্রদেশ পুলিশ। মিল্লাত টাইমস জানিয়েছে, গত ১৮ জুন গাজিয়াবাদ থানা থেকে কিছু পুলিশ সদস্য এসে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওমর গৌতম ও কাজী জাহাঙ্গীরকে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাদের পেশা,পাসপোর্ট, ব্যাংক হিসাব ও জরুরী কাগজপত্র তলব করা হয়। এরপর ১৯ জুন থানায় জরুরী কাগজপত্র নিয়ে গেলে সেখান থেকে তাদের লখনৌতে নিয়ে লাগাতার তিন দিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর ২১ জুন  তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ ও জোরপূর্বক, অর্থ ও চাকরির লোভে ধর্মান্তরকরণ, মানুষজনকে ধর্মান্তর করার জন্য বিভিন্ন দেশে ফান্ড গঠনের অভিযোগে মামলা দায়ের করে গ্রেফতার দেখানো হয়। জানা গিয়েছে ওমর গৌতম আগে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন, পূর্বে তার নাম ছিল শ্যাম প্রসাদ গৌতম। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি ইসলাম প্রচারের জন্য ইসলামিক দাওয়াহ সেন্টার খুলে দাওয়াতের কাজ করছিলেন। তিনি অবশ্য তার বিরুদ্ধে আরোপ করা ‘অবৈধভাবে ধর্মান্তরকরণ ও বিভিন্ন দেশ থেকে তহবিল গঠনে’র অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।