“প্রধানমন্ত্রীর দাবি করোনা নাকি কমে গিয়েছে, তাহলে এত মৃত্যু কেন হচ্ছে?” ভার্চুয়াল বৈঠকের পর মন্তব্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

টিডিএন বাংলা ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী আজ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ছত্তিশগড়, হরিয়ানা, কেরল, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা, পুডুচেরি, রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ এবং অন্ধ প্রদেশের জেলা শাসক ও তৃণমূল স্তরে যারা কাজ করেন সেই সমস্ত আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ওই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই বৈঠকের পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, কোন মুখ্যমন্ত্রীর এর বলার সুযোগই দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন,”সচিবদের নিয়ে আমি উপস্থিত ছিলাম। মুখ্যমন্ত্রীদের ডেকে একটি কথাও বলতে দেওয়া হয়নি। কোভিড নিয়ে বৈঠক কেন এত ক্যাজুয়াল হবে? আমরা মুখ্যমন্ত্রীরা অপমানিত।” শুধু তাই নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ,”মুখ্যমন্ত্রীদের পুতুলের মতো বসিয়ে রাখা হয়েছিল। ওষুধ-অক্সিজেনের অবস্থা নিয়ে কেউ কিছু জিজ্ঞাসা করেননি।…ভেবেছিলাম আমাদের বলতে দেওয়া হবে। আমরা ক্রীতদাস নই। বৈঠকে ওয়ান ওয়ে ইনসাল্টেশন, হিউমিলিয়েশন হয়েছে।”

করোনা মোকাবিলার ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যকে কটাক্ষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,”ভাষণে উনি বললেন করোনা নাকি কমে গিয়েছে। এই অবহেলার জন্যই করোনা বেড়ে গিয়েছিল।” এখানেই তিনি থামেননি। মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন,”প্রধানমন্ত্রী কেন এত ইনসিকিওর্ড, মুখ্যমন্ত্রীদের কথা কেন শোনেন না?”

অপরদিকে, এদিনের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, বিগত কিছু সময় ধরে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে, কিন্তু যতক্ষণ এই সংক্রমণ ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর স্তরে বর্তমান রয়েছে, ততক্ষণ পর্যন্ত চ্যালেঞ্জ অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন,”কোভিড মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউয়ের মাঝে ভাইরাসের স্বরূপ বদলের কারনে এবার যুব সমাজ এবং শিশুদের জন্য এবার বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।” প্রধানমন্ত্রী আধিকারিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, যেভাবে তাঁরা তৃণমূল স্তরে কাজ করছেন তার ফলে এই উদ্বেগকে গম্ভীর পরিস্থিতিতে না পৌঁছতে সাহায্য করছে কিন্তু এরপরেও সবাইকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

এরপর প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন,”মহামারীর সাথে লড়াইয়ের রণনীতিতে আমাদের লাগাতার পরিবর্তন, ধ্রুবক উদ্ভাবন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ভাইরাস নিজের স্বরূপ বদলে বিশেষ পারদর্শী। কিংবা এও বলা যায় এই ভাইরাস বহুরূপী তো বটেই তার সাথে চালাকও বটে। সুতরাং, এর আমাদের মোকাবিলার পদ্ধতি এবং কৌশলও বিশেষ হওয়া উচিত।”

তিনি আরো বলেন, টিকাকরণের রাজনীতিতেও প্রত্যেক স্তরে রাজ্য এবং তাদের পক্ষ থেকে আসা মতামত একত্র করে অগ্রসর হচ্ছে কেন্দ্র।