চাপের মুখে হামাসের সঙ্গে বন্দি বিনিময় ও যুদ্ধবিরতি চুক্তি করলো ইসরাইল?

টিডিএন বাংলা ডেস্ক: আন্তর্জাতিক প্রবল চাপ ও ৪৬ দিনের গাজা যুদ্ধে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে বাধ্য হয়ে অবশেষে হামাস সহ ফিলিস্তিনি সংগঠনগুলির সঙ্গে বন্দি বিনিময় ও যুদ্ধবিরতি চুক্তি করল ইসরাইল। কয়েকটি আরব দেশ বিশেষত কাতারের মধ্যস্ততায় ইসরাইলের সঙ্গে এই যুদ্ধ বিরতির শর্ত নিয়ে আলোচনা চলছিল হামাস সহ ফিলিস্তিনের সংগঠনগুলির। অনেক টালবাহানার পরে অবশেষে ইসরাইলি মন্ত্রিসভা গতরাতে চুক্তির খসড়া নিয়ে বৈঠক শুরু করে এবং দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা বৈঠক শেষে আজ বুধবার ভোররাতে চুক্তিটি অনুমোদন করে। তারপর আসে এই বহু প্রতিক্ষিত চুক্তি সম্পাদনের ঘোষণা।

এই চুক্তি অনুযায়ী, হামাসের হাতে আটক ৫০ জন ইসরাইলি বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হবে। আর বিনিময়ে ইসরাইল তাদের হাতে বিভিন্ন সময়ে বন্দি হওয়া ১৫০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে। পাশাপাশি ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে ৪ দিনের যুদ্ধবিরতি পালিত হবে। অর্থাৎ আপাত ৪ দিন অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা ইসরাইলের বিমান হামলা ও স্থল অভিযানের হাত থেকে বাঁচতে পারবে। কিন্তু তারপর কি আবারও শুরু হবে এই ভয়াবহ যুদ্ধ নাকি এই যুদ্ধবিরতি আরও দীর্ঘায়িত করা হবে? এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো পক্ষই স্পষ্ট ভাবে কিছুই বলেনি। তবে বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে এই যুদ্ধবিরতি আরও দীর্ঘায়িত হবে। তবে সেক্ষেত্রে উভয় পক্ষের শর্ত কি থাকবে তা স্পষ্ট নয়।

এদিকে এই বন্দি বিনিময় ও যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে বড়োসড়ো কূটনৈতিক বিজয় হিসাবে দেখছে হামাস সহ তার সহযোগী অন্যান্য সংগঠনগুলো। কারণ এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করে আসছিলেন তারা যে কোনো মূল্যে সমস্ত বন্দি করবেন এবং হামাসকে সম্পূর্ণ রূপে ধ্বংস করবেন। কিন্তু বিগত ৪৬ দিন অবিরাম বোমাবর্ষণ ও স্থল অভিযান চালিয়েও শেষ পর্যন্ত ফিলিস্তিনি হামাসের হাত থেকে একজন বন্দিকেও মুক্ত করতে সক্ষম হয়নি ইসরাইলি বাহিনী। একইসঙ্গে তারা গাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে প্রায় ১৩ হাজার ফিলিস্তিনিকে গণহত্যা ও সম্পূর্ণ গাজাকে প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত করলেও হামাস সহ তার সহযোগী অন্যান্য সংগঠনগুলোকে তেমন কোনো ক্ষতিই করতে সক্ষম হয়নি। এমতাবস্থায় ঘরে বাইরে প্রবল চাপের মুখে পড়ে যায় নেতানিয়াহু সরকার। ফলে অনিচ্ছা সত্ত্বেও হামাসের সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছে ইসরাইল সরকার। যদিও আগের দিন পর্যন্ত নেতানিয়াহু সরকার দাবি করে আসছিল তারা হামাসের সঙ্গে কোনো অবস্থাতেই চুক্তি করবে না।