কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের চটুল গান ও উদ্দাম নাচের তীব্র নিন্দা জামাআতে ইসলামীর

নিজস্ব সংবাদ, টিডিএন বাংলা: আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেই এক শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের দ্বারা আয়োজিত অনুষ্ঠানে ছেলে মেয়েদের চটুল গান ও উদ্দাম নাচের তীব্র নিন্দা জানাল জামাআতে ইসলামী হিন্দ পশ্চিমবঙ্গ শাখা। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের মধ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নামে এই ধরনের অনুষ্ঠান বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে কর্তৃপক্ষেরও সমালোচনা করল জামাআতে ইসলামী। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আর কখনো এই ধরনের অনুষ্ঠান যাতে না হয় তা নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

গত শনিবার আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউ টাউন ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নামে যেভাবে ছেলে মেয়েরা হিন্দি গানের সঙ্গে উদ্দাম নাচে মেতে উঠে ছিল তাকে সংস্কৃতির নামে অপসংস্কৃতির উৎসব বলে নিন্দা জানিয়েছেন আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা। এর বিরোধিতা করেছেন অধিকাংশ অধ্যাপক অধ্যাপিকাগণ। সোশ্যাল মিডিয়ায় এর বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। কিন্তু এই প্রথম কোনো ইসলামী সংগঠন এর বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে।
আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যে ঐতিহাসিক অতীত ঐতিহ্যের পরম্পরা আছে, এই অনুষ্ঠান তার সঙ্গে পুরোপুরি সংঘর্ষিক ও দ্বন্দ্বমূলক বলে অভিযোগ করেছে জামাআত।

একটি বিবৃতি দিয়ে সংগঠনটি জানিয়েছে, “বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে গভীর রাত পর্যন্ত চলেছে উদ্দাম নৃত্য। তার সঙ্গে চটুল গান। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এই ধরণের অশালীন অনুষ্ঠান বন্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও পড়ুয়াদের বড় অংশ এই ধরণের অপসংস্কৃতিমূলক অনুষ্ঠানের বিরোধী। তথাপি এমন আপত্তিকর ও কুরুচিসম্পন্ন অনুষ্ঠান হতে পারলো। মুসলিম সমাজ ও বাংলার সংস্কৃতিবান জনতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে এর জবাব চাইছে। উপনিবেশবাদী পাশ্চাত্য সংস্কৃতির ধারক-বাহক ব্রিটিশ সরকার আলিয়ার উপর ইসলামী মূল্যবোধ বিরোধী এমন কাজ অন্তত তারা করেনি।”

জামাআতে ইসলামী হিন্দের রাজ্য সভাপতি ডাঃ মসিহুর রহমান এই প্রসঙ্গে বলেন, “আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যে অশালীন ও কুরুচিকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হল তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
আলিয়ায় ইসলামী ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের পরিপন্থী এ ধরণের অনুষ্ঠানের অনুমতি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ যেন আগামীতে না দেন তার দাবি জানাচ্ছি। বাংলার সুস্থ সাংস্কৃতিক চেতনার পরিপন্থী, সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় ভাবানুভূতিকে আঘাত করবে এমন কোন অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া যাবে না।” পাশাপাশি তিনি আরও দাবি জানিয়েছেন, “বহিরাগত ছাত্রদের আলিয়ার শিক্ষাঙ্গণে প্রবেশের উপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে।”

উল্লেখ্য, গত শনিবার “রেনেসাঁ অব আলিয়া” নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের মধ্যেই। সেই অনুষ্ঠানে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে চটুল গান ও ছেলে মেয়েদের উদ্দাম নাচ। অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের স্বল্পসংখ্যক অংশ এবং বহিরাগত বা প্রাক্তন ছাত্রদের উদ্যোগেই এটি অনুষ্ঠিত হয়। এদিন ব্যাপক পরিমাণে বহিরাগত ছেলে মেয়েরা অংশগ্রহণ করে ছিল বলে অভিযোগ। এর ফলে সুষ্ঠু অ্যাকাডেমিক পরিবেশ বিনষ্ট হবার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে এর উপর কর্তৃপক্ষকে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা নিতে হবে বলেও আবেদন করেছে জামাআতে ইসলামী।