মীযান পত্রিকার ৫০ বছর পূর্তিতে টিডিএন বাংলার মুখোমুখী মীযানের প্রতিষ্টাতা সম্পাদক নাসির আহমেদ

নিজস্ব প্রতিবেদন, টিডিএন বাংলা: সুদীর্ঘ অর্ধ শতাব্দী জুড়ে পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও পত্রিকার জগতে বিশেষ অবদান রেখে চলেছে জামাআতে ইসলামী হিন্দের পশ্চিমবঙ্গ শাখা দ্বারা পরিচালিত মীযান পত্রিকা। সেই বিখ্যাত মীযান পত্রিকার ৫০ বছর পূর্তিতে টিডিএন বাংলার মুখোমুখী মীযানের প্রতিষ্টাতা ও সম্পাদক নাসির আহমেদ। আজ থেকে ৫০ বছর আগে ঊনবিংশ শতাব্দীর সত্তোরের দশকে বাংলাতে হাতে গোনা যে কয়েকটি পত্রিকা বহুল প্রচলিত ছিল তার মধ্যে অন্যতম ছিল নাসির আহমেদ সম্পাদিত এই মীযান পত্রিকা। এই পত্রিকা প্রকাশের জন্য কি কি পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়ে ছিল? সেই সময় কারা লেখালেখি করতেন? পত্রিকার চাহিদা কেমন ছিল? টিডিএন বাংলার মুখোমুখি হয়ে ইত্যাদি বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন মীযান পত্রিকার প্রতিষ্টাতা ও সম্পাদক নাসির আহমেদ।

১৯৩৭ খ্রি: ৭ আগষ্ট হাওড়া জেলার উলুবেড়িয়া থানার বাহাদুরপুর গ্রামে জন্ম গ্ৰহণ করেন নাসির আহমেদ। ছোট বেলা থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে আই.এ পরীক্ষায় বাংলা বিষয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেন। তিনি ছিলেন একাধারে বিখ্যাত কবি, সাহিত্যিক এবং অন্যদিকে দক্ষ সংগঠক ও সাংবাদিক। এমনকি এই বয়সেও তিনি বিভিন্ন সমাজসেবা মূলক সংস্থা ও সংগঠনের সঙ্গে জড়িত আছেন। ১৯৮০ খ্রি: তিনি কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে তৈরি করেন “মুসলিম এডিটরস গিল্ড”। “সারা বাংলা দলিত সাহিত্য সমিতি”র সহ সভাপতি হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৮৭ খ্রি: “ইন্ডিয়ান রিসার্চ সেন্টার” প্রতিষ্টা করেন তিনি। এই পর্যন্ত অসংখ্য বই, প্রতিবেদন রচনা করেছেন তিনি। বাংলা সাহিত্যে ও পত্রিকার জগতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসাবে তাঁর উদ্যোগে “হিমায়েত ইসলামী প্রেস” নামে একটি প্রেস প্রতিষ্টিত হয়। এছাড়াও বিশেষত মুসলিম সমাজের শিক্ষাগত উন্নয়ন ও ইসলামী সাহিত্যের বিকাশে তার অবদান আছে বিশাল। তাঁর প্রতিষ্টিত মীযান পত্রিকা বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন একটি পত্রিকা হিসাবে আজও প্রকাশিত হয়ে আসছে।

নাসিরুদ্দিন আহমেদের সঙ্গে টিডিএন বাংলার প্রতিনিধির কথপোকথন এখানে তুলে ধরা হল-

টিডিএন বাংলা: আপনার সঙ্গে “মীযান পত্রিকা”র প্রতিষ্টাতা সদস্য কারা কারা ছিলেন?

নাসির আহমেদ: “পশ্চিমবঙ্গ ইসলামী সাহিত্য সমিতি”র সদস্য আজিজুল হক, নুরুল হক, নাজমুল ইসলাম খান সহ বেশ কিছু সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এই পত্রিকার প্রতিষ্টা করা হয়।

টিডিএন বাংলা: “মীযান পত্রিকা”র প্রতিষ্টা লগ্নে এর সঙ্গে কি জামাআতে ইসলামী হিন্দের সম্পর্ক ছিল?

নাসির আহমেদ: শুরুতে এর সঙ্গে জামাআতে ইসলামী হিন্দের কোনো সম্পর্ক ছিল না। আমরা অনেক দিন ধরেই মনে কর ছিলাম বাংলা ভাষায় অবিলম্বে একটি পত্রিকা প্রকাশ করা প্রয়োজন। কিন্তু তখনও  জামাআতে ইসলামী হিন্দ পত্রিকা প্রকাশের কাজ শুরু করতে প্রস্তুত ছিল না।

টিডিএন বাংলা: তাহলে কবে থেকে জামাআতে ইসলামী এই পত্রিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়?

নাসির আহমেদ: পরবর্তীতে তারা একটি পত্রিকা প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেয়। অতঃপর তাদের সঙ্গে আলোচনার পর আমরা মীযানকে তাদের হাতে তুলে দিয়ে ছিলাম। যদিও আমিই পরবর্তী ১৭ বছর এই পত্রিকাটির সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। সেই সময় পত্রিকার দাম ছিল ৭৫ পয়সা, কিন্তু তার চাহিদা এত বেশি ছিল যে ৫ টাকা দিয়েও অনেকেই কিনেছেন। চাহিদার কথা মাথায় রেখে আমরা সেই সময় ৩ হাজার কপি ছাপিয়ে ছিলাম।

টিডিএন বাংলা: সেই সময় মীযানের লেখক কারা ছিলেন?

নাসির আহমেদ: সকলের নাম তো আর মনে নেই সুলতান আলী, আকবর আলীদের মতো অনেকেই তখন লিখতেন।