প্রত্যন্ত সুন্দরবনে সমাজ সেবায় অসামান্য অবদান, ‘ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস’ এ ডাঃ ফারুক হোসেনের নাম

নিজস্ব প্রতিনিধি, টিডিএন বাংলা, উত্তর চব্বিশ পরগনা: প্রত্যন্ত সুন্দরবনে শিক্ষা স্বাস্থ্য জনসচেতনতা প্রসারে অসামান্য অবদানের জন্য ‘ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস’ এ উঠল ডাক্তার ফারুক হোসেনের নাম। আল-আমিন মিশনের এই কৃতি সন্তান তার প্রতিষ্ঠিত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘নব দিগন্ত’র মাধ্যমে সমাজ সেবায় কৃতিত্বের জন্য এই সম্মান পেলেন।

জানা গেছে, উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার সন্দেশখালীর প্রত্যন্ত খাস শাঁকদহ গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম ডাঃ ফারুকের। গ্রামের স্কুলেই মাধ্যমিক, আল আমীন মিশন থেকে তিনি পাস করেন উচ্চ মাধ্যমিক। তারপর বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস পাশ করে সমাজের জন্য কিছু করার ভাবনা নিয়েই ২০১২ সালে ডাঃ ফারুক গড়ে তোলেন সমাজ সেবী প্রতিষ্ঠান ‘নব দিগন্ত’। তখন থেকেই ‘নব দিগন্ত’র মাধ্যমে শিক্ষা-স্বাস্থ্যে, কর্ম সংস্থান তৈরি সহ নারী উন্নয়নে প্রত্যন্ত গ্রাম গুলিতে কাজ করে যাচ্ছেন ডাঃ ফারুক হোসেন গাজী।

ডাঃ গাজী জানাচ্ছেন, স্কুল কলেজ পড়ুয়া প্রায় ১৫০ মেয়েকে নিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন ‘স্বাস্থ্যব্রতী স্বাস্থ্যসেবিকা’ টিম। আমাদের দ্বারা ট্রেনিং প্রাপ্ত ওরা গ্রামের মানুষের বিনামূল্যে প্রেসার, সুগার, তাপমাত্রা মেপে দিচ্ছে, বিভিন্ন স্বাস্থ্য ক্যাম্পেও সাহায্য করছে। এমন কি ইসিজিও করতে পারে তারা। রাজ্যের ২৩টি জেলাতে কাজ করছে টিম নব দিগন্তর দশ হাজারেরও বেশি সদস্য।

খাস শাঁকদহ গ্রামের বাসিন্দা ইউসুফ কয়াল বলেন, ‘আমাদের গ্রাম সহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন গ্রাম গুলিতে প্রায় ৯ বছর ধরে বিনামূল্যে ওষুধ সহ রোগী দেখে আসছেন ডাঃ ফারুক সাহেব। কত ছেলে মেয়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন, পড়াশুনার জন্যে স্কলারশিপ দিচ্ছেন তার ঠিক নেই। গ্রামের মহিলাদের স্যানিটারি ন্যাপকিন দেন প্রতি মাসে। সেই সঙ্গে মেয়েদের সচেতন করে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করেন তিনি। আমরা তার কাছে ঋণী।’

স্থানীয়রা বলছেন, বিশিষ্ট এই সমাজসেবী গড়ে তুলেছেন ‘নব দিগন্ত মিশন স্কুল’ যেখানে অনাথ, স্কুল ছুট সহ আদিবাসী শিশুরা পড়াশুনা করে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। যাদের বই খাতা টিউশন ফি, ব্যাগ, পোশাক সব কিছুরই তিনি ব্যবস্থা করেন মানুষের কাছে চেয়েচিন্তে। আর তাঁর এই কাজে সব সময় পাশে থেকে উৎসাহ জুগিয়ে আসছেন স্ত্রী নিলুফা পারভীন। ডাঃ ফারুকের এই কর্মযজ্ঞ বিভিন্ন সময় উঠে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়া সহ বিভিন্ন গণমাধ্যম গুলিতেও।

সন্দেশখালী-১ ব্লকের আপার ডিভিশনাল অ্যাসিস্টেন্ট শুভাশিস মন্ডল বলেন, ‘প্রত্যন্ত সুন্দরবন এলাকায় শিক্ষা স্বাস্থ্য ও জনসচেতনতার পাশাপাশি ভয়াবহ কোভিড পরিস্থিতিতেও দলবল নিয়ে ফারুক বাবু যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তা দেখে আমরা গর্বিত।

ডাঃ ফারুক হোসেন গাজী জানান, “সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য আরও বাড়িয়ে দিল এই পুরস্কার প্রাপ্তি। প্রত্যন্ত এলাকায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেবার পাশাপাশি খাদ্য, বস্ত্র, রক্তদান শিবিরও আয়োজন করে আমাদের সংস্থা। সেই সাথে দুঃস্থ মেধাবীদের স্কলারশিপ প্রদান, ত্রাণ বিতরণ, বৃক্ষরোপন, অসহায় মেয়ের বিয়েতে সাহায্য, বাসস্থান নির্মাণসহ জনসচেতনতার প্রসার ও নারী শিক্ষার প্রসারে সব সময় কাজ করে চলেছে ‘নব দিগন্ত’।”

তিনি পেয়েছেন ‘আল-আমীন অনন্য অ্যাওয়ার্ড’, ‘হিউম্যান ওয়েলফেয়ার অ্যাওয়ার্ড’, এছাড়াও করোনা, ডেঙ্গু নিয়ে সচেতনতার প্রচার সহ আমফান, ইয়াস কবলিত এলাকায় ত্রাণ কাজের জন্যও তিনি পুরষ্কৃত হয়েছেন। কাছের মানুষ হিসেবে জনপ্রিয় ডাঃ ফারুক হোসেনের নাম ‘ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস’ এ উঠে আসায় স্বভাবতই খুশি পরিবার সহ প্রত্যন্ত সন্দেশখালীবাসী।