মোদীর নতুন মন্ত্রিসভায় ৪২ শতাংশের বিরুদ্ধে রয়েছে ক্রিমিনাল কেস , ৯০ শতাংশ কোটিপতি : রিপোর্ট

টিডিএন বাংলা ডেস্ক : এক সপ্তাহও হয়নি, নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এর মধ্যেই নতুন মন্ত্রিসভার নানা খুঁটিনাটি তথ্য প্রকাশ পেতে শুরু করেছে।

পশ্চিমবঙ্গ-উত্তরপ্রদেশ সহ দেশের সমস্ত রাজ্য থেকে সাংসদদের ডেকে এনে মন্ত্রিসভাতে জায়গা দেওয়া হয়। মোদী তাঁর নয়া মন্ত্রিসভাতে কোটিপতি ও ক্রিমিনাল কেসে অভিযুক্ত দের জায়গা করে দেওয়া নিয়ে বিধতে শুরু করেছে বিরোধীরা।

মোদীর নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে সদ্য অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রাটিক রিফর্মস (এডিআর) কর্তৃক প্রকাশ করা এই রিপোর্টে জানিয়েছে, মন্ত্রিসভার মোট ৭৮ সদস্যের মধ্যে কমপক্ষে ৪২ শতাংশের বিরুদ্ধেই রয়েছে ফৌজদারি মামলা।

গত বুধবার সম্প্রসারিত হয় নমোর ক্যাবিনেট। মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ১৫ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৮ জন প্রতিমন্ত্রী। তারপরই এই রিপোর্টে প্রকাশ পায়, বর্তমান মন্ত্রিসভায় থাকা ৭৮ মন্ত্রীর মধ্যে ৩৩ জন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এমনটা তাঁরা নিজেরাই জানিয়েছেন নির্বাচনী হলফনামায়। এঁদের মধ্যে ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে গুরুতর। ৪ জন এমন সদস্যও রয়েছেন যাঁদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার মামলা দায়ের রয়েছে।

সাথে মন্ত্রীদের টাকা-কড়ি এবং সম্পত্তি সংক্রান্তও বেশ কিছু তথ্য প্রকাশিত হয়েছে এডিআর-এর রিপোর্টে। জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নতুন মন্ত্রিসভার ৭৮ সদস্যের মধ্যে ৯০ শতাংশই কোটিপতি। কোটিপতি মন্ত্রীদের সংখ্যা হল ৭০। সম্পত্তির নিরিখে সবার শীর্ষে অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ৩৭৯ কোটি। এরপর রয়েছেন পীযূষ গোয়েল, নারায়ণ রানে, রাজীব চন্দ্রশেখরে মতো সাংসদরা। গড়ে নতুন মন্ত্রিসভার প্রত্যেক মন্ত্রীর সম্পত্তির পরিমাণ ১৬.২৪ কোটি।

মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের মধ্যে সম্পত্তির পরিমাণ সবচেয়ে কম ত্রিপুরার সাংসদ প্রতিমা ভৌমিকের। তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৬ লাখ। এ বাদে জন বার্লা (১৪ লক্ষ), রাজস্থানের কৈলাস চৌধুরী (২৪ লক্ষ), ওড়িশার বিশ্বেসর টুডুর (২৭ লক্ষ) নাম রয়েছে সর্বনিম্ন সম্পত্তির তালিকায়।

বাংলা থেকে চারজনকে জায়গা দেওয়া হয়েছে মোদীর মন্ত্রিসভাতে। যার মধ্যে কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক রয়েছে। ৩১ বছর বয়স। বলা হচ্ছে , মোদীর মন্ত্রিসভার সবথেকে কনিষ্ঠ সদস্য। খোদ অমিত শাহ তাঁকে তাঁর ডেপুটি করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে মারাত্মক সমস্ত অভিযোগ রয়েছে। কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামাণিকের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা রয়েছে। এডিআরের রিপোর্ট অনুযায়ী নিশীথের বিরুদ্ধে খুনের (IPC Section-302) অভিযোগ রয়েছে। রয়েছে খুনের চেষ্টার (IPC Section-307) মতো অভিযোগও।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, আলিপুরদুয়ারের সাংসদ জন বার্লার বিরুদ্ধে গুরুতর ৯টি মামলা রয়েছে। এছাড়া ৩৮টি অন্য মামলাও রয়েছে।এমনকি জন বার্লার সঙ্গে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের যোগাযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ। যদিও এই সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে এডিআরে কিছু জানানো হয়নি। রিপোর্ট মোতাবেক, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার পাঁচ মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতা উস্কে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচনের সময় অবৈধভাবে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সাত মন্ত্রীর বিরুদ্ধে।