রাজ্যসভায় কংগ্রেস নেতা গোলাম নবি আজাদের বিদায় সম্ভাষণে কেঁদে ফেললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

ছবি সৌজন্যে রাজ্যসভা টিভি।

টিডিএন বাংলা ডেস্ক: রাজ্যসভায় আজ কংগ্রেস সাংসদ গোলাম নবী সহ বিদায় নিচ্ছেন শমসের সিং, মোহাম্মদ ফায়াজ এবং নাজির আহমেদ। এই পরিস্থিতিতে বড়িষ্ঠ কংগ্রেস সাংসদ গোলাম নবী আজাদের বিদায় সম্ভাষণে কেঁদে ফেললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাজনৈতিক মতানৈক্য সত্ত্বেও একজন বন্ধু হিসেবে কংগ্রেস সাংসদ গোলাম নবী আজাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন মোদি। জম্মু-কাশ্মীরে হওয়া আতঙ্কবাদী হামলা দিনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, গোলাম নবি আজাদ সেদিন তাঁকে ফোন করেছিলেন এবং ফনি তিনি অঝোরে কেঁদে যাচ্ছিলেন। মোদি বলেন, সে সময় আমি গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। গুলাম নবি আজাদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক বন্ধুত্বের ছিল। রাজনীতিতে বিতর্ক, সমালোচনা চলতে থাকে কিন্তু একজন বন্ধু হিসেবে আমি তাঁকে যথেষ্ট সম্মান করি।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন,”আমি এটা নিয়ে চিন্তিত যে গুলাম নবি আজাদের পর এই পদ যিনি সামলাবেন তাঁর পক্ষে গোলাম নবি আজাদকে ম্যাচ করা কষ্টকর হবে, কারণ গোলাম নবী নিজের দলের জন্য চিন্তা করতেন। পাশাপাশি দেশ এবং সংসদ ভবনের চিন্তাও করতেন। এটা ছোট বিষয় নয়। নাহলে বিপক্ষের নেতা হিসেবে প্রত্যেকেই নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চায়। আমি শরদ পাওয়ার যে কেউ এই একই তালিকায় রাখি।”

তিনি আরো বলেন,”করোনাকালে আমার কাছে গোলাম নবীজির ফোন এসেছিল এবং তিনি আমাকে বলেছিলেন যে সমস্ত দলের সভাপতিদের বৈঠক অবশ্যই ডাকুন। এরপর আমি গোলাম নবীজির পরামর্শে একটি সভার আহ্বান করি।”

এদিন জম্মু-কাশ্মীরে আতঙ্কবাদী হামলার ঘটনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন,”উনি জম্মু কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন আর আমি গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম। আমাদের দুজনের মধ্যে খুব গভীর সম্পর্ক ছিল। একবার গুজরাতের কিছু পর্যটকরা জম্মু-কাশ্মীরে ভ্রমণ করতে যান এবং আতঙ্কবাদীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। প্রায় ৮ জন মানুষ মারা যান। সর্বপ্রথম গোলাম নবীজি আমাকে ফোন করেন।”

এ পর্যন্ত বলার পর ভাবুক হয়ে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নিজের চোখের জল আটকাতে পারে না তিনি। গোটা সংসদ নিশ্চুপ হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজের হাত দিয়ে চোখের জল মোছেন। এরপর জল খেয়ে নিজেকে সামলে সদনের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে ফের নিজের বক্তব্য শুরু করেন।

মোদি এরপর বলেন,”ওই ফোন আমাকে খবর দেওয়ার জন্য করা হয়নি। তার চোখের জল বন্ধ হচ্ছিল না। সেসময় প্রণব মুখার্জি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ছিলেন। আমি তাঁকে ফোন করি, যদি ওই শব দেহগুলি আনার জন্য বায়ুসেনার বিমান পাওয়া যায় তাহলে ভালো হয়। তিনি বলেন আমি ব্যবস্থা করছি। এরপরে এয়ারপোর্ট থেকে ফের ফোন করেন গোলাম নবী আজাদ। ঠিক যেভাবে একজন ব্যক্তি তার পরিবার নিয়ে চিন্তা করে, সেভাবেই গুলাম নবি আজাদ সেদিন চিন্তা করেছিলেন। ওই মুহূর্তটা আমার জন্য একটা আবেগপূর্ণ মুহূর্ত ছিল।”

 

মোদি আরো বলেন,”পদ এবং শক্তি জীবনে আসতে থাকে কিন্তু তাকে কিভাবে হজম করতে হয় (হাতের ইশারায় গুলাম নবি আজাদ কে দেখিয়ে মোদি আবারো বলেন)… সকালে আমার কাছে ফের ফোন আসে যে মোদীজী শব পৌঁছে গেছে।”

 

এরপর ভাবুক কন্ঠে ফের মোদি বলেন,”এই কারণে একজন মিত্র হিসেবে গোলাম নবীজিকে ঘটনা এবং অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমি তাঁকে শ্রদ্ধা করি এবং আমি নিশ্চিত যে তাঁর সৌম্যতা, বিনম্রতা এবং দেশের জন্য কিছু করার চাহিদা কখনোই ওনাকে শান্তিতে বসে থাকতে দেবেনা। আমার পূর্ণ বিশ্বাস, যেখানে যে দায়িত্ব তিনি সামলাবেন সেখানেই নিজের সম্পূর্ণ অবদান রাখবেন। আমি তাঁর মঙ্গল কামনা করি।”