পাকিস্তানের অবস্থা দেখে ভারতীয় মুসলমান হিসেবে গর্ববোধ করি; নিজের বিদায় সম্ভাষণে ভাবুক হয়ে মন্তব্য গোলাম নবী আজাদের

ছবি সৌজন্যে রাজ্যসভা টিভি।

টিডিএন বাংলা ডেস্ক: রাজ্য সভাতে কংগ্রেস সাংসদ গোলাম নবী আজাদের কার্যসময় শেষ হতে চলেছে। এই উপলক্ষে তার উদ্দেশ্যে বিদায়-সম্ভাষণ পেশ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সহ আরো বেশ কয়েকজন সাংসদ। সব শেষে যখন গোলাম নবি আজাদের বক্তব্য পেশ করার সময় আসে তখন তিনি বলেন, আমি ভাগ্যবান যে কখনো পাকিস্তান যাইনি এবং ভারতীয় মুসলমান হওয়ার জন্য গর্ববোধ করি। তিনি আরো বলেন, যে ধরনের কু-মনোভাব সমাজে রয়েছে তা ভারতীয় মুসলিমদের মধ্যে নেই।এ প্রসঙ্গে জম্মু-কাশ্মীরে আতঙ্কবাদী হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ভাববিহ্বল হয়ে ওঠেন তিনি।

গোলাম নবী আজাদ বলেন,”আমি জম্মু-কাশ্মীরের সবথেকে বড় কলেজ এসপি কলেজে পড়তাম। ওখানে ১৪ আগস্ট (পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস) যেমন পালন করা হতো তেমনি পালন করা হতো ১৫ আগস্ট। ওখানে বেশির ভাগ এমন মানুষ ছিলেন যারা ১৪ আগস্ট পালন করতেন। আর যারা ১৫ আগস্ট উদযাপন করতেন তাদের মধ্যে ছিলাম আমি এবং আমার বন্ধুরা। আমরা প্রিন্সিপাল এবং স্টাফেদের সঙ্গে থাকতাম। এরপরে আমরা দশ দিন পর্যন্ত স্কুলে আসতাম না কারণ মারধোর খেতে হতো। আমি ওই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসেছি।” তিনি আরো বলেন,”আমি খুব খুশি যে জম্মু-কাশ্মীরের অনেক পার্টির নেতৃত্বে জম্মু-কাশ্মীর অগ্রসর হয়েছে।”

গোলাম নবী আজাদ আরো বলেন,”আমি সবসময় এটাই ভাবি যে, আমরা খুবই ভাগ্যবান যে আমরা জন্নত অর্থাৎ ভারতে বসবাস করছি। আমি তো স্বাধীনতার পরে জন্মগ্রহণ করেছি। কিন্তু আজ গুগল এবং ইউটিউব এর সাহায্যে পড়ি এবং দেখতে পাই। আমি সেই ভাগ্যবান লোক এদের মধ্যে একজন যারা কখনো পাকিস্তান যায়নি। কিন্তু যখন আমি দেখতে পাই পাকিস্তানের কি ধরনের পরিস্থিতি তখন আমার ভারতীয় হওয়ার জন্য গর্ববোধ হয় যে, আমি একজন ভারতীয় মুসলমান।”

তিনি আরো বলেন,”আজ বিশ্বে যদি কোন মুসলমানদের গর্বিত হতে হয় তবে তা ভারতীয় মুসলমানদের হওয়া উচিত।”

গোলাম নবী আজাদ বলেন,”আমরা গত ৩০-৩৫ বছর ধরে তালিবান এবং আফগানিস্তানের মতো দেশগুলিকে দেখতে পাচ্ছি। দুনিয়ায় এমন অনেক দেশ আছে যারা নিজেদের মধ্যে লড়াই করছে। সেখানে হিন্দু বা খ্রিস্টানরা নেই, মুসলমানরা আছেন তাও তাঁরা নিজেদের মধ্যে লড়াই করছেন। এই সমাজের মধ্যে যে কু-মনোভাব রয়েছে, আজ আমি গর্বের সঙ্গে বলতে পারি যে আমাদের দেশের মুসলমানদের মধ্যে সেই কু-মনোভাব নেই। কিন্তু এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়গুলির দু’কদম এগিয়ে আসার প্রয়োজন রয়েছে।”