বাড়ছে কৃষক আন্দোলনের তেজ , বাদল অধিবেশন চলা কালীন সংসদের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করবে সংযুক্ত কৃষক মোর্চা

টিডিএন বাংলা ডেস্ক  : মোদী মন্ত্রীসভার বড়সড় রদবদল হয়ে যাওয়ার পর ২২ তারিখ থেকে চলতি বছরের বাদল অধিবেশন শুরুর কথা জানিয়েছে কেন্দ্র সরকার। অন্যদিকে সেই বাদল অধিবেশনকে লক্ষ্য করেই নয়া কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের তেজ বাড়াতে চাইছে দিল্লির প্রতিবাদী কৃষকের দল। ২২ তারিখ থেকেই সংসদের ভবনের বাইরে প্রতিবাদে সামিল হবে প্রতিবাদী কৃষক সংগঠন গুলি। এমনটাই জানিয়েছে ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন।

নরেন্দ্র মোদী সরকারের তিন কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে নভেম্বরের শেষ থেকেই দিল্লি সীমান্তে একটানা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন পাঞ্জাব, রাজস্থান, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের রাজ্যের কৃষকরা। বারে বারে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে টিকরি, সিংঘু, গাজী বর্ডার। আন্দোলনের শুরুতে দিল্লির তীব্র ঠাণ্ডায় মৃত্যুও হয়েছে বহু কৃষকের। কিন্তু তারপরেও নড়েনি সরকারের টনক। চলতি বছরে প্রজাতন্ত্র দিবসে লালকেল্লা অভিযানের ডাক দেয় প্রতিবাদী কৃষকের দল। এবারেও তারা ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশাসনকে চাপে ফেলতে চেস্টা করছে।
গোড়ায় কৃষকদের বিরুদ্ধে রণং দেহি অবস্থান নেয় কেন্দ্র। কিন্তু তাতে জনমানসে ভুল বার্তা যাচ্ছে বুঝতে পেরে কৃষক বিক্ষোভ প্রশ্নে ‘ধীরে চলো’ নীতি নিয়েছে কেন্দ্র।

এদিন কৃষক আন্দোলনের এক টুইটার কর্মসূচিতে কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েত লেখেন ” সংসদ যদি অহঙ্কারী ও বাধা সৃষ্টিকারী হয় তবে দেশে জনগণের বিপ্লব নিশ্চিত।”

কিছুদিন আগেই কৃষক নেতা রাকেশ টিকাইত নতুন করে আন্দোলন জোরদার করার ডাক দিয়েছিলেন। ২২ জুলাই সংসদের বাদল অধিবেশনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সংসদ ভবনের বাইরে প্রতিবাদ কর্মসূচী চলবে বলে জানিয়েছে সংযুক্ত কিষান মোর্চা। কৃষি আইনের পাশাপাশি রান্নার গ্যাস এবং পেট্রোপণ্যের দাম বৃদ্ধি নিয়েও প্রতিবাদ কর্মসূচী করবে সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা।

কৃষক সংগঠন সংযুক্ত কিষান মোর্চা-র তরফ থেকে এ ব্যাপারে বিবৃতি জারি করা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, ১৭ জুলাই বিরোধী দলেগুলির কাছে সতর্কপত্র পাঠানো হবে।

উত্তরপ্রদেশ-সহ পাঁচ রাজ্যের নির্বাচন বছর ঘুরলেই। সেখানে এই বিক্ষোভের প্রবল আঁচ পড়ার আশঙ্কায় এখন আলোচনার মাধ্যমে গোটা বিষয়টির সমাধান করাই সরকারের লক্ষ্য। চলতি সপ্তাহে মন্ত্রিসভার রদবদলের পরে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিংহ তোমর কৃষকদের নতুন করে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেন। এবিষয়ে কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েত বলেন, ‘‘সরকার আলোচনায় বসতে চাইলে আমরাও রাজি আছি। কিন্তু যদি সরকার পূর্ব নির্ধারিত শর্ত মাথায় রেখে আলোচনা করতে চায়, তা হলে আমরা বৈঠক থেকে সরে আসব।’’ একই সঙ্গে টিকায়েতের হুঁশিয়ারি, আগামী দশ দিনের মধ্যে যদি সরকার আলোচনায় না বসে, সে ক্ষেত্রে আসন্ন সংসদ অধিবেশনে সংসদের বাইরে ধর্না দেবেন কৃষকেরা।

বাতিলই একমাত্র দাবি কৃষক সংগঠনগুলি জানিয়ে দিয়েছে, কৃষি আইন বাতিল না হলে তারা কোনও কথা শুনবে না। চলতি বছরে এবং আগের বছরে এ নিয়ে সরকারে সঙ্গে সংযুক্ত কিষান মোর্চা-র দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে।