এক কোটি ভারতীয়ের চাকরি কেড়ে নিয়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ

টিডিএন বাংলা ডেস্ক: করােনার প্রথম ঢেউ মোকাবিলায় সারা ভারত জুড়ে অত‍্যন্ত কঠোর ভাবে লকডাউন হয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সেই চিত্র দেখা যায়নি। যদিও দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় লকডাউনের মতাে বিধি বহু রাজ্যে কার্যকর হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের স্বাস্থ্য ক্ষেত্র যেমন ব‍্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তেমনই দেশের আর্থিক ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়েছে।

দ্বিতীয় ঢেউ আসার সঙ্গে সঙ্গে কাজ হারাতে শুরু করেছেন বহু মানুষ। হু জানিয়েছে, করােনার দ্বিতীয় স্রোতের জেরে শহরে ১৮ শতাংশ বেকারত্ব দেখা দিতে শুরু করেছে। ক্রমাগত বেকারত্বের পরিমাণ বাড়ছে শহরের জনবসতির মধ্যে। কয়েকটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, করােনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কায় চাকরি হারিয়েছেন এক কোটির বেশি ভারতীয়। একই সঙ্গে সমিক্ষা থেকে জানা গেছে, গত বছর ভারতে মহামারির দাপট শুরুর পর থেকে প্রায় ৯৭ শতাংশ পরিবারের আয় কমেছে। এমনই দাবি করলেন সেন্টার অব মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমির ( সিএমআইই ) চিফ এগজিকিউটিভ মহেশ ব্যাস। এপ্রিলে বেকারত্বের হার ছিল ৮ শতাংশ, যা মে মাসের শেষে হয়েছে ১২ শতাংশ। সংবাদ সংস্থাকে ব্যাস জানিয়েছেন, সেই পরিসংখ্যান থেকেই ইঙ্গিত মিলছে যে ওই সময় এক কোটির বেশি মানুষ চাকরি হারিয়েছেন।

তিনি মনে করেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অর্থনৈতিক অবস্থার আবার ধীরে ধীরে উন্নতি ঘটবে। তবে এই প্রক্রিয়া সময় সাপেক্ষ। করােনা ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে দেশজুড়ে লকডাউনের মধ্যে গত বছর মে মাসে বেকারত্বের রেকর্ড ২৩.৫ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছিল । লকডাউনের পরে অর্থনীতি কিছুটা গতি পেলে পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হয়। তবে সেই ইতিবাচক প্রবণতা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আগেই ভারতে আছড়ে পড়ে করােনার দ্বিতীয় ঢেউ। সিএমআইই এর চিফ এগজিকিউটিভ জানিয়েছে, ভারতীয় অর্থনীতিতে তিন – চার শতাংশ বেকারত্বের হার একেবারে ‘স্বাভাবিক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। তা থেকেই স্পষ্ট ইঙ্গিত যে অদূর ভবিষ্যতেও বেকারত্বের হারের খুব একটা উন্নতি হবে না। গত এপ্রিলে দেশের প্রায় ১.৭৫ লক্ষ পরিবারে সমীক্ষা চালিয়েছিল এমআইই। সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে মহামারীর পর থেকে তিন শতাংশ পরিবারের আয় বেড়েছে ৫৫ শতাংশ পরিবার আয় কমেছে। আয় একই আছে ৪২ শতাংশ পরিবারের। যদিও ব‍্যাস এর মতে, মুদ্রাস্ফীতি অনুযায়ী দেশের প্রায় ৯৭ শতাংশ পরিবারের আয় হ্রাস পেয়েছে। সৌজন্যে: যুগশঙ্খ