৫০বছর ধরে কংগ্রেস করা অসুস্থ নজির হোসেনের দুর্দশার ভিডিও ভাইরাল হতেই চিকিৎসার দায়িত্ত্ব নিয়ে এগিয়ে এলেন কংগ্রেস নেতৃত্ব, খোঁজ নিলেন অধীরের স্ত্রী

রেবাউল মন্ডল,টিডিএন বাংলা,করিমপুর: ৫০ বছর ধরে তিনি কংগ্রেস দল করছেন। কুড়ি বছর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান-মেম্বার ছিলেন। কিন্তু এখন তার থাকার ঘর নেই। রোগে ভুগছেন তিনি। নেই চিকিৎসা করার টাকাও! খাবারের জন্য শুভাকাঙ্খী কিছু ব্যক্তিই একমাত্র ভরসা। নদিয়ার করিমপুর-২ ব্লকের ধোড়াদহ-২ পঞ্চায়েতের দোগাছি মিয়া পাড়ার অসুস্থ নজির হোসেনের খোঁজ রাখেনি কেউ।

তার এই সমস্যার কথা জানিয়ে নিজের ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও পোস্ট করেন সাংবাদিক মোকতার হোসেন মন্ডল। ভিডিও ভাইরাল হতেই টনক নড়েছে কংগ্রেস নেতৃত্বের। একদিন পরই নজির হোসেনের বাড়িতে ছুটে আসেন নদীয়া জেলা যুব কংগ্রেস সভাপতি নিত্যগোপাল মন্ডল, করিমপুর বিধানসভার নেতা তারক সরখেল, শান্তনু সিংহ রায়, মিঠু অধিকারী প্রমুখ কংগ্রেস নেতৃত্ব। ফোনে তাঁর শরীরের খোঁজখবর নেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর স্ত্রীও, দেন পাশে থাকার আশ্বাস।

শুক্রবার জেলা যুব কংগ্রেস সভাপতি নিত্যগোপাল মন্ডলের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদল দেখা করেন নজির হোসেনের সঙ্গে। হাতে কিছু নগদ অর্থ তুলে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ফেসবুকে তাঁর দুর্দশার কথা জানতে পেরেই ছুটে এসেছি। আমাদের দলের আজ দুর্দিন, তাই বলে এমন একজন একনিষ্ঠ কর্মীর পাশে দাঁড়াব না এটা হতে পারে না।’

এদিকে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছেন বছর ছিয়াত্তরের নজির হোসেন খান। জোটেনা ওষুধ কেনার টাকা। এদিন তাঁর চিকিৎসায় যাবতীয় সহযোগীতার আশ্বাস দেন করিমপুর বিধান সভার কংগ্রেস নেতা তারক সরখেল। সেই সাথে তার একটি ঘরের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন স্থানীয় নেতা শান্তনু সিংহরায়।

এভাবে জেলা নেতৃত্ব তার খবর নিতে আসায় খুশি নজির হোসেন খান। তাদের কে ধণ্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক মোকতার হোসেন আমার কথা তুলে না ধরলে হয়তো তারা জানতেই পারতেন না আমার অসহয়তার কথা। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির স্ত্রীও আমাকে ফোন করে খোঁজ নিয়েছেন এবং চিকিৎসার জন্য পাশে থাকার কথাও জানিয়েছেন।’

এদিকে প্রতিবেশীরা জানাচ্ছেন, ‘একসময় গ্রামীন ডাক্তার হিসেবে এলাকায় সুনাম ছিল তাঁর। এখনও এক নামেই সকলে চেনে। বর্তমানে ভিটে মাটির একাংশ বিক্রি করে তিনি চিকিৎসা চালান। এখন নিঃস্ব হয়ে বিক্রি করা একটা ঘরেই (যতদিন বাঁচবেন এই শর্তে) স্বামী স্ত্রী দুজন থাকেন মালিকের দয়ায়।

প্রতিনিধি সেখানে গিয়ে দেখেন, জীর্ণ ঘরটিতে ছাদ নেই। ভগ্নস্তূপের ভিতরে জন্মেছে আগাছা। পাশেই টিনের চাল দেওয়া ছোট্ট একটি ঘর। যেটা বিক্রি করে দিয়েছেন বলে জানাচ্ছেন নজির হোসেন। সেই ঘরেই একটা চৌকি পাতা। সেখানেই দুজনের রান্না খাওয়া থাকা। স্ত্রী আনোয়ারা বিবি বলছেন, ‘খুবই কষ্টে আছি। আবাস যোজনার ঘর চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছিলাম কিন্তু আজও তো পেলাম না।’

স্থানীয় শিক্ষক খোদাজিল সেখ বলেন, ‘ওনার নিজের ভাঙাচোরা ঘরটি বসবাসের অনপুযুক্ত। পাড়া প্রতিবেশীরা চাল ডাল দিয়ে যে সাহায্য করে তা দিয়েই চলে দুজনের পেট। এতদিন কেউ খোঁজ রাখেনি। ভিডিও ভাইরাল হতেই কংগ্রেস নেতারা খোঁজ নিতে এসেছেন। তার চিকিৎসার দায়িত্ত্ব নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন জেনে ভাল লাগছে।’

ধোড়াদহ-২ পঞ্চায়েত সদস্য মাইনুল মন্ডল বলেন, ‘এলাকার প্রভাবশালী ওই কংগ্রেস নেতার আজ সত্যিই অবস্থা খারাপ। দলের কেউ তার খোঁজ রাখে না। আমাদের অঞ্চল ও ব্লক নেতৃত্ব কে বলেছি ওনার যাতে একটা ঘরের ব্যবস্থা করা হয়।’