ভারতে মহিলাদের ওপর অত্যাচারের বিষয়ে তথাকথিত মানবাধিকার সমর্থকদের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ওয়াইসি

টিডিএন বাংলা ডেস্ক : অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM) প্রধান এবং সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেছেন, আফগানিস্তানে নারীদের প্রতি অবিচারের কথা বলা তথাকথিত মানবাধিকার সমর্থকরা ভারতে মহিলা নৃশংসতার ব্যাপারে নীরব ছিলেন।

তিনি উত্তরপ্রদেশের সাম্প্রতিক কানপুরের ঘটনায় তাদের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন , যেখানে পুলিশের উপস্থিতিতে একটি মেয়ের সামনে তার বাবাকে বজরং দলের সদস্যারা মারধর করছিল এবং মেয়েটি তখন করুণা ভিক্ষা করছিল।

হায়দরাবাদের সাংসদ বৃহস্পতিবার ইয়াম-ই-আশুরার যা ইমাম হুসাইনের শাহাদাতকে চিহ্নিত করে প্রাক্কালে পুরাতন শহরের একটি মসজিদে সভায় ভাষণ দিচ্ছিলেন।

ওয়াইসি বলেন গত কয়েকদিন ধরে সব টিভি চ্যানেল আফগানিস্তান নিয়ে কথা বলছে। “যখন আমাকে আফগানিস্তান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, আমি বলেছিলাম কানপুরের কথা বলুন কাবুল নয়। কানপুরে নয় বছরের একটি মেয়ে করুণার জন্য ভিক্ষা করছিল যখন তার বাবাকে পুলিশের উপস্থিতিতে মারধর করা হচ্ছিল। এই তথাকথিত মানবাধিকার সমর্থকরা কাবুলের মেয়েদের নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং সেখানে নারীদের উপর অত্যাচারের কথা বলছে কিন্তু কানপুরের মেয়েকে নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না। তারা আখলাক, তাবরেজ, পেহলু খান এবং আলেমুদ্দীন আনসারীর বিধবাদের কথা বলেন না।” গো রক্ষকদের মব লিঞ্চিঙ্ এর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন।

হায়দরাবাদের সাংসদ বলেন, একটি প্রতিবেদন অনুসারে ভারতে ৫ বছর বয়সে পৌঁছানোর আগে নয়টি মেয়ের মধ্যে একজন মারা যায় কিন্তু কেউই এ নিয়ে উদ্বিগ্ন নয়।

“এখানে নারীর প্রতি অত্যাচার এবং অপরাধ রয়েছে। কিন্তু তারা (মানবাধিকার সমর্থকরা) আফগানিস্তানে নারীদের সাথে কী হচ্ছে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। এটা কি এখানে হচ্ছে না? ”, ওয়াইসি জিজ্ঞেস করেন।

AIMIM প্রধান বলেন বাজপেয়ী, মনমোহন সিং এবং মোদীর সরকার আফগানিস্তানে ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। আফগান পার্লামেন্ট ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছিল এবং এটি যৌথভাবে উদ্বোধন করেছিলেন নরেন্দ্র মোদি এবং আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি। আফগানিস্তানে ভারত কর্তৃক ব্যয় করা করদাতাদের অর্থের প্রশ্নে কেউ সাড়া দেয় না।

ওয়েসি বলেন ২০১৩ সাল থেকে তিনি ধারাবাহিকভাবে ভারত সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছিলেন যে তালেবান সরকার পুনর্গঠন করবে এবং ক্ষমতায় ফিরে আসতে পারে এবং তাই তাদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। তিনি আরো বলেন, “আফগানিস্তান বা তালেবানদের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই কিন্তু ভবিষ্যতে ভারতের নিরাপত্তার সম্ভাব্য হুমকির দিকে আমরা তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি যার দিকে কেউ মনোযোগ দেয়নি।”

তালেবান ক্ষমতায় আসার পর আল-কায়েদা এবং আইএসআইএস সন্ত্রাসীরা আফগানিস্তানের প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্থানান্তরিত হতে শুরু করে। তিনি দাবি করেন, ভারতের শত্রু আইএসআই তালেবানকে নিয়ন্ত্রণ করছে এবং চীন এই পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে।
তিনি জানিয়ে রাখেন যে চীন ভারতীয় ভূখণ্ড দখল করেছে কিন্তু যারা ক্ষমতায় আছে তারা এ ব্যপারে চিন্তিত না।

একজন সমাজবাদী পার্টির সাংসদকে তালেবান সম্পর্কে বিবৃতি দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা করা হয় কিন্তু তার নিজের দলের প্রধান এবং অন্যান্য নেতারা নীরব ছিলেন। “আমরা তার বক্তব্যের সাথে একমত নই কিন্তু তাদের দ্বৈত অবস্থান দুঃখজনক। তাদের মুসলমানদের ভোট দরকার কিন্তু কোনো অন্যায় হলে তারা তাদের পাশে দাঁড়াবে না ”এআইআইএমআইএম নেতা যোগ করেন।

তিনি জানতে চেয়েছেন যারা সম্প্রতি দিল্লিতে মুসলমানদের হত্যার স্লোগান দিয়েছে বা যারা আখলাক, পেহলু খান এবং অন্যান্যদের হত্যা করেছে বা যারা কানপুরের লোককে মারধর করেছে তাদের বিরুদ্ধে কেন রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হয়নি।

ওয়াইসি বলেন, ইমাম হুসাইন কারবালা থেকে বার্তা দিয়েছিলেন যে আমরা আমাদের জীবন উৎসর্গ করব কিন্তু মিথ্যার কাছে মাথা নত করব না।
তিনি আরো বলেন ইমাম হুসাইনের পবিত্র জীবন এই বার্তা দেয় যে, আমাদের কোনো অবস্থাতেই হতাশ হওয়া উচিত নয় এবং আমাদের কখনই দমন -পীড়নকে সমর্থন করা উচিত নয়।