ছয় মাসের শিশুকে বাঁচাতে বিরল গ্রূপের রক্ত দিতে হাসপাতালে ছুটলেন শ্রীকৃষ্ণ ও গণেশ

নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, হাওড়া: হার্টের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছয় মাসের রাজদীপ দাস। বিরল গ্রূপের রক্ত। আর তা না মেলায় অপারেশনে দেরি হচ্ছিল একরত্তির। হন্যে হয়ে ছেলের জন্য কোথাও এ-নেগেটিভ রক্ত পাচ্ছিলেন না হাওড়ার ডোমজুড়ের বাসিন্দা অভিজিৎ দাস।

রক্ত দিতে হাসপাতালে শ্রীকৃষ্ণ ও গণেশ

খবর যায় স্বেচ্ছাসেবী টিম ‘সমন্বয়িং’ এর কাছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এ-নেগেটিভ রক্তের আবেদন জানিয়ে পোস্ট করেন সোম চক্রবর্তী, মৌ দীপিকা ঘোষ ও সায়ন রায়। রাত সাড়ে এগারোটায় সেই পোস্ট দেখেন হিন্দমোটরের বাসিন্দা দেবাশীষ নন্দী। ফোন হোয়াটসআপে শুরু হয় দাতার সন্ধান। রাতভর কোথায় না পাওয়ায় সকাল বেলায় তিনি ফোন করেন বাল্যবন্ধু শ্রীকৃষ্ণ মন্ডলকে। বন্ধুর ফোন বলে কথা! আর দ্বিতীয় কথা নয়। ‘কখন কোথায় যেতে হবে বল?’ রাজি হয়ে যায় বছর চৌত্রিশের যুবক শ্রীকৃষ্ণ।

আর দেরি না করে বাইক হাঁকিয়ে শ্রীকৃষ্ণ কে সঙ্গে নিয়ে হাওড়ার নারায়না সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন দেবাশীষ। পৌঁছন ব্লাড ব্যাংকে। সচ্ছন্দে রক্ত দিয়ে পরিবারের হাতে তা তুলে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার রক্তে ওই নিষ্পাপ শিশুটি বেঁচে যাবে এর চেয়ে মানসিক তৃপ্তি আর কিসে হতে পারে।’ শুক্রবার ছোট্ট রাজদীপ কে বাঁচাতে রক্ত দেন গণেশ দা নামে পরিচিত আরও একজন স্থানীয়। মঙ্গলবার ওই বাচ্চাটির অপারেশন হবে বলে জানা গেছে।

এদিকে রক্ত পেয়ে স্বভাবতই খুশি অভিজিৎ দাস বলেন, ‘ছেলের অপারেসনের জন্য দুই ইউনিট রক্তের দরকার পড়ে। কিন্তু তা বিরল গ্রূপের শুনেই মাথায় হাত। কোথায় পাব? চিন্তিত ছিলাম। শ্রীকৃষ্ণ ও গণেশ দা ত্রাতার ভূমিকায় যেভাবে এগিয়ে এসেছেন তাদের এই উপকার ভুলব না।’

করোনা পরিস্থিতিতে এমনিতেই রাজ্য জুড়ে চলছে রক্তের হাহাকার। আর সেই সঙ্কটজনক মুহূর্তে এভাবেই রাজ্যজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে মুমূর্ষদের প্রাণ বাঁচাতে কখনো রক্ত, কখনো অক্সিজেন নিয়ে এগিয়ে আসছে ছাত্র যুবকরা। যা থেকে সমাজে একটি ভাল বার্তাও যাচ্ছে বলে মনে করছেন নেটিজেনরা। মানুষ হয়ে মানুষের জীবন বাঁচাতে মানবতার কাজে অনুপ্রাণিত হচ্ছে অন্যান্যরাও।