মদ মাফিয়ার বিরুদ্ধে খবর করার ফল! যোগীরাজ্যে রহস্যমৃত্যু সাংবাদিকের

প্রতীকী ছবি

টিডিএন বাংলা ডেস্ক: মদ মাফিয়ার বিরুদ্ধে খবর করার অপরাধের মাশুল গুনতে হলো যোগীর রাজ্যে সংবাদিককে! রাজ্যের মদ মাফিয়ার দৌরাত্ম্য নিয়ে খবর প্রকাশের পরই রহস্য মৃত্যু হয় সুলভ শ্রীবাস্তব নামে যোগী রাজ্যের এক সাংবাদিকের।নিহত সাংবাদিক এর পরিবার ও তার সহকর্মীদের দাবি মদ মাফিয়ার দৌরাত্ম্য প্রকাশ করার মাশুল গুনতে হয়েছে ওই সাংবাদিককে। তবে পুলিশের তরফ থেকে বলা হয়েছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ওই সাংবাদিকের। যদিও দুর্ঘটনার এই তত্ত্ব মেনে নিতে নারাজ সাংবাদিকের পরিবার ও তার সহকর্মীরা। জানা গেছে মৃত্যুর আগের দিনই নিজের প্রাণ সংশয় রয়েছে বলে জানিয়ে পুলিশকে চিঠি দিয়েছিলেন ওই সাংবাদিক। এমনকি ওই সাংবাদিক যে চ্যানেলের সঙ্গে কর্মরত ছিলেন সেই চ্যানেল এর পক্ষ থেকেও পুলিশকে এ বিষয়ে জানানো হয়েছিল। অভিযোগ তার পরেও পুলিশ কোনরকম পদক্ষেপ নেয়নি। যার ফলে এই চিঠি দেওয়ার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত সাংবাদিক সুলভ শ্রীবাস্তব রবিবার রাত এগারোটা নাগাদ কাজ সেরে ফেরার সময়, উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড় জেলায় দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয়ে মারা যান। পুলিশের দাবি, সুলভ শ্রীবাস্তব একটি ইটভাটার সামনে দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে আসার সময় রাস্তার পাশের টিউবয়েলে ধাক্কা মারে ওই মোটরসাইকেলটি। ছিটকে মাটিতে পড়ে যান তিনি। এরপর ইঁটভাটার শ্রমিকরাই তাঁকে নিকটবর্তী জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানেই তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। ইটভাঁটার শ্রমিকরাই সুলভের ফোন থেকে তাঁর পরিবার ও সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে জানিয়েছেন প্রতাপগড়ের পুলিশ আধিকারিক সুরেন্দ্র দ্বিবেদী। একই সাথে সুলভের মৃত্যুর পেছনে দুর্ঘটনা ছাড়া অন্য কোনো কারণ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

 

তবে পুলিশের এই দুর্ঘটনার তত্ব মানতে রাজি নন নিহত সাংবাদিক সুলভ শ্রীবাস্তবের পরিবার ও সহকর্মীরা। সুলভের সহকর্মীদের দাবি, দুর্ঘটনাস্থলে প্রথমে যে ছবি তোলা হয়েছিল সেখানে সুলভ এর যে চিত্র পাওয়া গেছে তাতে দেখা গেছে, তার মুখে গভীর ক্ষত রয়েছে, গায়ে জামা প্রায় ছিলনা এবং তার পরনের প্যান্টেরর বোতাম খোলা ছিল ও তা কোমরের নিচে নামানো ছিল। নিজেদের দাবির স্বপক্ষে শনিবার সুলভ শ্রীবাস্তব যে চিঠি লিখেছিলেন পুলিশকে, সেই চিঠিও তুলে ধরেছেন তাঁরা নেট মাধ্যমে। ওই চিঠিতে সুলভ লিখেছিলেন,”৯ জুন মদ মাফিয়াকে নিয়ে আমার একটি রিপোর্ট চ্যানেলে দেখানো হয়। ওয়েব পোর্টালেও প্রকাশিত হয় সেটি। বিষয়টি নিয়ে শোরগোল পডে় গিয়েছে। কিন্তু রিপোর্টটি সামনে আসার পর বাড়ি বাইরে পা রাখলেই বুঝতে পারছি কেউ বা কারা আমার পিছু নিচ্ছে। নিজের সূত্রদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি, মদ মাফিয়ারা আমার উপর চটে রয়েছে। আমার ক্ষতি করতে চাইছে ওরা। আমার পরিবারও এ নিয়ে চিন্তিত।”