দিল্লিতে নয় বছরের দলিত শিশুকে ধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যা , গ্রেপ্তার পুরোহিত

প্রতীকী ছবি

টিডিএন বাংলা ডেস্ক :  যেনো হাথরাস ফিরে এসেছে আবার , রাজধানী দিল্লিতে মাত্র নয় বছরের মেয়েকে শ্মশানঘাটে ধর্ষণ করার পর ধর্ষণকারীরাই তার জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবার ও এলাকার বাসিন্দারা এই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করলে ঘটনার প্রায় ৪০ ঘণ্টা পর দিল্লি পুলিশ অভিযুক্ত একজন পুরোহিত ও তার তিনজন সঙ্গীকে গ্রেফতার করেছে।

অনেক দেরিতে হলেও দিল্লির সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ওই ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে। তবে বিভিন্ন দলিত সংগঠন বলছে, ধর্ষণের শিকার মেয়েটি যেহেতু দলিত বা নিম্নবর্ণীয় সমাজের, তাই এই ঘৃণ্য অপরাধের বিরুদ্ধে তেমন জোরালো প্রতিবাদ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লিতে ক্যান্টনমেন্ট এলাকার পাশ ঘেঁষেই রয়েছে একটি বাল্মিকী বস্তি, যে সম্প্রদায়ের লোকজন মূলত পরিচ্ছন্নকর্মী হিসেবেই জীবন ধারণ করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের সঙ্গে দিল্লির ক্যান্টনমেন্ট অঞ্চলের পুরানা নঙ্গল এলাকায় থাকত ওই শিশু। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে সে মাকে বলে শশ্মানযাত্রীদের জন্য বসানো কুলার থেকে পানি আনতে গিয়েছিল।

নিহত মেয়ের মা বলেন , ‘বাচ্চা শ্মশানঘাটের ওয়াটার কুলার থেকে খাবার পানি নিতে গিয়েছিল। শ্মশানের মন্দিরের পুরোহিত আমাদের ফোন করে হঠাৎ খবর দেয়, কুলার থেকে পানি নিতে গিয়ে আমাদের মেয়ে নাকি বিদ্যুৎশক হয়ে মারা গেছে। ওই রাতেই তাড়াহুড়ো করে ওর সৎকার করে দেয়া হয়। কিন্তু আমাদের বিশ্বাস পন্ডিতজি (পুরোহিত) আর ওর দলবল আমাদের মেয়েকে জীবন্ত পুড়িয়ে দিয়েছে।’

শিশুটির মা পুলিশকে জানিয়েছেন, তার মেয়ের ডান হাতের কবজি থেকে কনুই পর্যন্ত পোড়া দাগ ছিল। ঠোঁটও নীল হয়ে গিয়েছিল। পুরোহিত তাকে পুলিশে না জানানোর পরামর্শ দিয়ে বলেন, এতে ঝামেলা বাড়বে। দেহ নিয়ে গিয়ে ময়না তদন্ত করবে পুলিশ। মর্গ থেকে তার নানা প্রত্যঙ্গ চুরি করে নেবে। এর চেয়ে চুপিচুপি সৎকার করা ভালো।

এই ঘটনায় শশ্মানের পুরোহিত ও তার তিন সঙ্গীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণও সংগ্রহ করা হয়েছে। শিশু নির্যাতন বিরোধী পকসো আইনের পাশাপাশি অন্যান্য কঠোর আইনের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ কর্মকর্তা।

এলাকার বাসিন্দারা জনিয়েছেন, ‘পুলিশের মদতেই ওই শ্মশানঘাটে বহুদিন ধরে চলছিল জুয়া, মদ্যপান ও নানা অসামাজিক কাজকর্মের আখড়া।’ এই মুহুর্তে অভিযুক্তদের মৃত্যুদন্ড ছাড়া তারা যে কোনও শাস্তিতেই সন্তুষ্ট হবেন না বাল্মিকীরা সেটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

পুরোহিত ও তার সঙ্গীদের ফাঁসির দাবিতে পুরানা নাঙ্গাল এলাকায় মানুষেরা এ বিষয়ে সরব হলে দিল্লি সরকারের ক্যাবিনেট মন্ত্রী রাজেন্দ্র গৌতম ওই বস্তিতে গিয়ে কথা দিয়ে এসেছেন, দোষীদের অবশ্যই উপযুক্ত শাস্তি হবে। গৌতম বলেন, দেশের রাজধানীতে এমন ঘটনা ভাবাই যায় না। উত্তরপ্রদেশের দেহাত অঞ্চলে শোনা যায় ভিক্টিমের পরিবারকেই ভয় দেখিয়ে বয়ান বদলাতে বাধ্য করা হয়। কিন্তু দিল্লিতেও কেন এ জিনিস ঘটবে? যদিও দিল্লিতে আইনশৃঙ্খলা আর পুলিশ রাজ্য সরকারের হাতে নেই। তবু নির্দিষ্ট সময়ের ভেতর দোষীরা যাতে সাজা পায় আমরা তা নিশ্চিত করব।

দলিত সংগঠনগুলো এই প্রশ্নও তুলছে যে এরকম পাশবিক ঘটনাতেও দিল্লির প্রতিবাদ স্তিমিত কেন। ভীম আর্মির নেতা হিমাংশু বাল্মিকী বিবিসি বাংলাকে বলেন, এদেশে একটা গরু মরলেও মিডিয়া থেকে আরএসএস হইচই শুরু করে দেয়। কিন্তু এখন তারা চুপ কেন? অভিযুক্তরা মুসলিম হলে বিজেপি এতক্ষণে কী করত ভাবুন তো? ১০ মাইল দূরে পার্লামেন্টের অধিবেশন চলছে। অথচ কারো মুখে একটা আওয়াজ পর্যন্ত নেই।

তিনি আরো বলেন, ‘ওই মেয়েটি দলিত না-হলে সব বড় দলের নেতাদের তো এখানে এসে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করার হিড়িক পড়ে যেত! আমাদের বস্তিতে আসতে ওনাদের কি নাকে দুর্গন্ধ লাগে?

প্রায় নয় বছর আগে দিল্লিতে নির্ভয়াকাণ্ড নামে পরিচিত ধর্ষণ মামলায় নিহত মেয়েটি যে উচ্চবর্ণের ছিল ও গোটা দিল্লি যে প্রায় সাথে সাথেই প্রতিবাদে মুখর হয়েছিল, দলিত নেতারা তাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন।