সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রজেক্টের আওতাধীন পাঁচটি মসজিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারকে চিঠি জমিয়তে উলামা-ই-হিন্দ-এর

টিডিএন বাংলা ডেস্কঃ জমিয়তে উলামা-ই-হিন্দ জাতীয় সভাপতি মাওলানা মাহমুদ মাদানী নয়াদিল্লির সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্প এবং ধর্মীয় স্থানগুলির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন । বিশেষত যে মসজিদগুলি এই প্রজেক্ট এলাকায় অবস্থিত সেগুলির বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চেয়েছেন ।

ভারত সরকারের আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরিকে একটি চিঠিতে মাওলানা মাদানী মসজিদগুলির সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বলেছেন এবং হুঁশিয়ারি জানিয়েছেন যে এ ক্ষেত্রে কোনও বিকল্প গ্রহণযোগ্য হবে না।

মাওলানা মাদানী উল্লেখ করেন যে ২০/০৩/২০২০ তারিখের সরকারি নোটিফিকেশনে উল্লেখিত এলাকায় বিভিন্ন মসজিদ রয়েছে যার মধ্যে জবতা গঞ্জ মসজিদ (মানসিংহ রোড), রাকবগঞ্জ মসজিদ (শ্রী রাকবগঞ্জ সাহেব গুরুদ্বার নিকটবর্তী), কৃষ্ণভবন মসজিদ (কৃষ্ণভবন), সুনহেরি বাগ রোড মসজিদ (উদ্যোগ ভবনের নিকটবর্তী), এবং একটি সরকারি মসজিদ পরবর্তীকালে উপরাষ্ট্রপতি বাসভবনের অংশ হিসেবে তৈরি করা (বর্তমানে উপরাষ্ট্রপতির বাসভবনের মধ্যে)

“মসজিদ গুলি নিয়ে অনেক গুজব এবং জনসাধারণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে” জমিয়তে উলামা-ই-হিন্দ সভাপতি জানান , এবং তিনি আরো যোগ করেন “এই দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে রেখে জামিয়াতে উলামা-ই-হিন্দের একটি প্রতিনিধি দল ৬ই জুন এই মসজিদগুলিতে যান এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন।”

জমিয়তের সভাপতি মাওলানা মাহমুদ মাদানী বলেন, “এই মসজিদগুলি আমাদের বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ, যদি এগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয় তবে তা আন্তর্জাতিক স্তরে খারাপ ও নিন্দিত প্রভাব ফেলবে এবং একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মনোভাবকে গভীরভাবে আঘাত করবে।”
“অতএব আমরা দাবি করছি যে এই মসজিদগুলি সংরক্ষণের জন্য সরকার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সামনে নিয়ে আসুক এবং এগুলি যে কোনও মূল্যে যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। আমরা এ বিষয়ে সরকারী স্পষ্টতামূলক একটি বার্তা মানুষের সামনে রাখার আবেদন রাখছি ”

উক্ত চিঠিতে আরো আলোকপাত করা হয়েছে যে ওই এলাকায় অবস্থিত মসজিদগুলি প্রত্যেকটি সাধারণ মানুষ নিয়মিত ব্যাবহার করে।

“মাননীয় ভাইস-প্রেসিডেন্টের বাড়ির প্রাঙ্গণে যে মসজিদটি আছে সেটিকে অবশ্যই ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে। ইহা ২০১৬-১৭ সাল পর্যন্ত নিয়মিত ব্যাবহৃত হত । এই মসজিদটির আশেপাশের অঞ্চল পরিকল্পনা করার সময় অবশ্যই উন্নয়নমূলক পরিকল্পনাগুলিতে মসজিদ কেন্দ্রিক স্বাচ্ছন্দ্যমূলক উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। যেহেতু উপ-রাষ্ট্রপতির বাসভবন এবং এর সাথে সংযুক্ত প্রাঙ্গনটি আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রীর অধীনে তাই মাননীয় মন্ত্রীর নিকট আবেদন উক্ত মসজিদ পরিদর্শনের প্রয়োজনীয় অনুমতি ও সময় নির্ধারিত করতে।” তিনি চিঠিতে জানিয়েছেন।