৪০০ মিটার হার্ডল রেসে অলিম্পিকের টিকিট পেয়ে ইতিহাস তৈরি কেরালার এমপি জাবিরের

টিডিএন বাংলা ডেস্ক:  এমপি জাবির আগামী মাসে অনুষ্ঠিত টোকিও অলিম্পিকের ৪০০ মিটার হার্ডল প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রথম ভারতীয় পুরুষ হিসাবে ইতিহাস গড়বেন। এর আগে, কেরালার কিংবদন্তি অ্যাথলিট পিটি উষা ১৯৮৪ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে মহিলাদের জন্য একই বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বী একমাত্র ভারতীয়।

পিটি উশার ৩৩ বছর পরে , বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সের সদ্য প্রকাশিত ক্রমতালিকা অনুযায়ী তিনি (৩৪তম) এই যোগ্যতা অর্জন করেছেন।

জাবির মাদারি পিল্লায়িল , যিনি এমপি জাবির হিসাবে অধিক পরিচিত, একজন ভারতীয় ক্রীড়াবিদ যিনি ৪০০ মিটার হার্ডলস এবং ৪০০ মিটার দৌড় বিশেষজ্ঞ ।

২০১৭ এশিয়ান অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে ৪০০ মিটার হার্ডলস বিভাগে জাবির ৫০.২২ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন।দোহার ২০১৯ সালের এশিয়ান অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে একই ইভেন্টে, ৪৯.৯৩ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে তিনি নিজের ব্যক্তিগত সেরা সময় উন্নীত করেন এবং ব্রোঞ্জ পদক জয় করেন ।

জাবির ভারতীয় নৌবাহিনীর হয়ে কাজ করেন এবং ২০১৭ সাল থেকে কোচিতে বসবাস করেন। ২৩ জুলাই থেকে শুরু হতে চলেছে টোকিও অলিম্পিক। বাকি হাতে গোনা আর কয়েকটি দিন। তার আগে জোর কদমে নিজেদের প্রস্তুতি সারছেন নির্বাচিত অলিম্পিক অ্যাথলিটরা। একইসঙ্গে চলছে শেষ মুহূর্তে অলিম্পিকের নির্বাচনের প্রক্রিয়াও। টোকিও যাওযার টিকিট পেয়েছেন ইন্ডিয়ান নেভিতে চাকরিরত একাধিক আধিকারিক। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন তাজিন্দর পাল সিং টুর, এমপি জাবির ও মহম্মদ আনাস। এদের সকলকেই ইন্ডিয়ান নেভির পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে।

৪০০ মিটার হার্ডেল রেসে অলিম্পিকের টিকিট পেয়ে ইতিহাস তৈরি করেছে এমপি জাবির। ৪০০ মিটার রিলে রেসে ভারতীয় দলের হয়ে অলিম্পিকে যাচ্ছেন মহম্মদ আনাস। এই অ্যাথলিটরা সকলেই নেভিচতে চাকরি করেন। সকলকে শনিবার ইন্ডিয়ান নেভির পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানানো হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় নেভির পক্ষ থেকে লেখা হয়,’তাজিন্দর পাল সিং টুর, এমপি জাবির ও মহম্মদ আনাস সকলকে অলিম্পিকে যোগ্যতা অর্জন করার জন্য শুভেচ্ছা। তোমরা ইন্ডিয়ান নেভি ও পুরো দেশকে গর্বিত করেছো। সকলকে পোডিয়াম ফিনিশের জন্য শুভেচ্ছা রইল।’

কেরালার মালাপ্পুরাম জেলা থেকে কেটি ইরফানের পরে অলিম্পিকে খেলার যোগ্যতা অর্জনকারী জাবির ।মালাপ্পুরাম জেলা থেকে আগত এমপি জবির রাজ্য স্তরের প্রতিযোগিতায় তরুণ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে দৌড় প্রতিযোগিতায় নিজের প্রতিভা উপলব্ধি করেছিলেন। তিনি ২০১৩ সালে কেরালার রাজ্য আন্তঃস্কুল ক্রীড়া ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ৪০০ মিটার হার্ডলে রাজ্য পর্যায়ে প্রথম স্বর্ণপদক জিতেছিলেন। থানভুর কেলাপ্পান মেমোরিয়াল ভোকেশনাল উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় যা পেশাদার ক্রীড়া একাডেমির অংশ , সেখানে দ্বাদশ শ্রেণীতে যোগদান জাবিরের জন্য একটি মোড়। এই স্কুলে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন সাফল্য অর্জন করেন এবং তারপরে ২০১৫ সালে ভারতীয় নৌবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন।

করোনা মহামারীর কারণে জাবির শেষবারের মতো প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পেরেছিল ২০১৯ সালে, তবে তিনি তার বিভাগে শীর্ষ ৩০ অ্যাথলিটদের মধ্যে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হন।

“আমি যখন জানতে পারলাম যে আমি যোগ্যতা অর্জন করেছি তখন আমি খুব গর্বিত বোধ করি। এটি আমার পরিবারের প্রার্থনা এবং আমার প্রচেষ্টার ফল। অলিম্পিকে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করাটাই একমাত্র লক্ষ্য, ৪৮ সেকেন্ডের মধ্যে হার্ডল শেষ করা আমাকে ফাইনালের জন্য যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ করে দেবে। ” জাবির জানিয়েছেন।