আমার ছেলে একজন শক্ত মানুষ তাকে ভাঙ্গা এত সহজ নয়: উমর খালিদের বাবা সৈয়দ কাসিম রসুল ইলিয়াস

টিডিএন বাংলা ডেস্ক: আমার ছেলে একজন সৎ মানুষ তাকে এত সহজে ভাঙ্গা সম্ভব নয়—দিল্লি পুলিশের স্পেশাল ছেলের সাথে সাক্ষাতের পর এমনটাই জানালেন জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র নেতা উমর খালিদের বাবা তথা অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সদস্য সৈয়দ কাসিম রসুল ইলিয়াস। যদিও ছেলের সাথে সাক্ষাৎ করতে পারেননি তিনি।

‘আউটলুক ইন্ডিয়া’য় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, উমর খালিদের বাবা জানিয়েছেন তারা এক রকম প্রস্তুত ছিলেন এই গ্রেফতারির জন্য। ইলিয়াস বলেন, তাঁর পরিবার জানতো খুব শীঘ্রই এই গ্রেপ্তারি হতে চলেছে। এমনকি উমর খালিদও এই গ্রেফতারের জন্য প্রস্তুত ছিলেন। দিল্লি পুলিশ মার্চ মাসে উমর খালিদের নামে দিল্লি দাঙ্গার ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে এফআইআর দায়ের করার পর থেকেই তাঁরা জানতেন খুব শীঘ্রই গ্রেপ্তার হবেন উমর খালিদ। তবে, ছেলেকে সম্পূর্ণরূপে সমর্থন করছেন মা সাবিনা খানুম এবং বোন। ইলিয়াস বলেন,”এই লড়াই নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত করার লড়াই।আমরা জানতাম আমরা কি ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হব এবং আমরা এর জন্য প্রস্তুত ছিলাম।”

জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি ছাত্র উমর খালিদের বাবা আরো বলেন,”আমার ছেলে সংবিধানের মূল্য রক্ষা করতে এবং আরো ভালো এক দেশের জন্য লড়াই করছে। আমরা সব সময় তার পাশে আছি।”
  
দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের অভিযোগের প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে ইলিয়াস বলেন, দিল্লি পুলিশ দাবি করেছে যে উমর খালিদের ফোন থেকে ৪০ জিবি ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয়েছে যা, লিখতে তাদের ১১ লক্ষ্য পৃষ্ঠা লেগেছে। ওই বিপুল পরিমাণ তথ্যের সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য মঙ্গলবার আদালতের কাছে উমর খালিদকে দশ দিনের পুলিশি হেফাজতে রাখার আবেদন জানায় পুলিশ। ইলিয়াস বলেছেন,”পুলিশ জানিয়েছে যে ওই ১১ লক্ষ পৃষ্ঠার তথ্যের স্বীকারোক্তি নেবার জন্য তাদের ১০ দিন সময় লাগবে। তাদের হয়তো অনেক লোক লাগবে ওই বিপুল পরিমাণ তথ্য পড়ার জন্য। পুরো মামলাটাই সাজানো।”

যদিও এর আগেও এ ধরনের কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে উমর খালিদের পরিবার। ২০১৬ সালে যখন জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ওমর খালিদ কে গ্রেফতার করা হয়েছিল সেই সময়ের কথা মনে করে ‘আউটলুক ইন্ডিয়া’কে উমর খালিদের বাবা জানিয়েছেন,”এটা একটা ভীষণ কঠিন সময় ছিল আমাদের জন্য। পুলিশ বলেছিল যে ওমর পাকিস্তান এবং অন্যান্য জায়গায় অনেকবার ভ্রমণ করে এসেছে। অথচ সে সময় তার কাছে পাসপোর্টও ছিল না। তা সত্ত্বেও আদালতে কিছুই সামনে এলো না। ওই মামলা এখনো চলছে। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে তদন্তকারী সংস্থা গুলি এবং পুলিশ বর্তমানে শাসকদলের অংশে পরিণত হয়েছে।”

তিনি আরো বলেন,”সবাই জানে যে দিল্লির দাঙ্গা কারা ঘটিয়েছিল। এখন তারা কিছু সমাজকর্মীদের যারা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এবং এনআরসির বিরোধিতা করেছিল তাদের অভিযুক্ত করার চেষ্টা করছে। এভাবে তারা আসল ঘটনা থেকে নজর ঘুরিয়ে দিয়ে এই ঘটনার পেছনের মূল কুচক্রীদের সুরক্ষিত করছে।”

ইলিয়াস বলেন,”সরকার মনে করে যে বিরোধীদের গ্রেপ্তার করে তারা ভবিষ্যতে সিএএ বিরোধী আন্দোলনকে থামিয়ে দিতে পারবেন। গোটা আন্দোলনটা কোন একজন ব্যক্তি বা দল দ্বারা পরিচালিত ছিল না। এটা একটা গণআন্দোলন ছিল যা যুবক এবং মহিলাদের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছিল। ভবিষ্যতেও মানুষ এই অগণতান্ত্রিক আইনের বিরোধিতা করবে।”

উমর খালিদের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভারত সফর প্রসঙ্গে যে অভিযোগ করা হয়েছে সে সম্বন্ধে কথা বলতে গিয়ে ইলিয়াস বলেন,”আমার মনে হয় পুলিশ ঠিকভাবে হোমওয়ার্ক করেনি। ট্রাম্পের ভারত সফরের বিষয়ে সরকার জনসাধারণকে জানানোর আগে কিভাবে ওই ষড়যন্ত্রকারীরা জানবেন এই বিষয়ে? এটা একেবারেই ভিত্তিহীন।

শুধু তাই নয়, দিল্লি পুলিশের তরফ থেকে বারবার ওমর খালিদ এর যে বক্তৃতা বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে সেই বক্তৃতার সম্পর্কে মন্তব্য করে ইলিয়াস বলেন,”ওই বক্তৃতা যা চার্জশিটে উল্লেখ করা আছে তা এখন পাবলিক ডোমেইনে প্রকাশিত। সমস্ত তথ্য বাইরে রয়েছে যে কেউ যাচাই করে দেখতে পারেন ওই অভিযোগের সত্যতা।”এর পাশাপাশি উমর খালিদের বিরুদ্ধে দিল্লির দাঙ্গার সঙ্গে জড়িত কুচক্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখারযে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ সাজানো এবং ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেন খালিদের বাবা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,”দিল্লি পুলিশ কমিশনারকে গত সপ্তাহে একটি চিঠিতে লিখেছিলো যে তার এক সঙ্গীকে দিল্লি পুলিশ চাপ দিচ্ছে এটা স্বীকার করার জন্য যে, উমর ওই দাঙ্গার জন্য দায়ী ছিল।”

রবিবার গভীর রাতে ইউএপিএ আইনের আওতায় উমর‌ খালিদকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে ইলিয়াস বলেন,”সরকার একটি দানবীয় আইন প্রয়োগ করেছে খালিদকে গ্রেফতার করার জন্য। এটা স্পষ্টতই দেখায় যে তাদের কাছে যথেষ্ট প্রমাণ নেই তাকে অভিযুক্ত করার জন্য এবং তাই এই মামলা কেয়ারও দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য এই পদক্ষেপ নিয়েছে তারা।”এ প্রসঙ্গে ভীমা কোরেগাঁও মামলার উল্লেখ করে ইলিয়াস বলেন,”ভীমা কোরেগাঁও মামলায় পুলিশ প্রতিদিনই একজন করে নতুন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করছিল তাদের তদন্তকে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য। পুলিশ সেই একই পদক্ষেপ অনুসরণ করছে এখানেও। সেই জন্যই তারা চার্জশিটে অনেক নামজাদা ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করছে।”

তবে এই ঘটনায় যে শুধুমাত্র মুসলমানদের আটক করা হচ্ছে এমন কথা স্বীকার করতে রাজি হননি খালিদের বাবা ইলিয়াস। তিনি বলেন,”অনিক হিন্দুদের ওই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।”পরিশেষে তিনি বলেন,” আমরা এই সমস্ত বিষয়গুলি আদালতে তুলে ধরবো।”