করোনা নিরাময়ের জন্য গুজরাটের গোয়ালে ব্যাবহৃত তিন ওষুধ — গোবর, গোমূত্র আর মন্ত্রোচ্চারণ

image courtesy : internet

টিডিএন বাংলা ডেস্ক: করোনা নিরাময়ের জন্য গোটা দেশে যখন হাসপাতালের বেড পাওয়ার জন্য ছোটাছুটি করছে মানুষজন, সারাদেশে অক্সিজেনের হাহাকার, সেসময় কোনরকম আইসিইউ বেড অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে নয় শুধুমাত্র গোবর, গোমূত্র, দুধ, ঘি আর মন্ত্রোচ্চারণ দিয়ে সারিয়ে তোলা হচ্ছে করোনা আক্রান্তদের। পাকিস্তান সীমান্তবর্তী উত্তর গুজরাটের ডেসা উপজেলার তেতোদা গ্রামের একটি গোয়ালে ৪০ বেদের এমনই একটি কোভিড কেয়ার সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই অভিনব গৌহাটি লোকমুখে বেশ সুনাম অর্জন করেছে। একের পর এক রোগীর ভিড় জমেছে গোয়ালে। আর রোগী পরিমাণ বেড়ে যাওয়াতে চিকিৎসায় কোন অসুবিধা নেই তার কারণ ওই গোয়ালে ৫০০০ গরু আছে। আর আছে অফুরন্ত গোবর, গোমূত্র এবং দুধ। আর এই চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হচ্ছে।

গুজরাটের এই গোয়ালটি “বেদলক্ষন পঞ্চগব্য আয়ুর্বেদ কোভিড বিচ্ছিন্নকরণ কেন্দ্র”নামে লোকমুখে পরিচিত। ওই ঘোষণার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, দামি দামি অ্যালোপ্যাথি ওষুধের পরিবর্তে এখানে করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য গরুর দুগ্ধজাত ও কাঁচামাল ছাড়াও গোবর ও গোমূত্র দিয়ে আয়ুর্বেদিক মিশ্রণ তৈরি করা হয়। এই গোশালায় চল্লিশটি বেড রয়েছে এবং তার চারিদিকে ঘাস বুনন করে রাখা হয়েছে। গরুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করার জন্য এবং রোগীদের প্রয়োজনে গোটা জায়গাটিকে ঠান্ডা রাখার জন্য এখানের রোগীদের জন্য ফ্যান ও এয়ার কুলারের বন্দোবস্ত করা হয়েছে।

এই বিশেষ কোভিড আইসোলেশন সেন্টার সূত্রে জানানো হয়েছে,রোগীদের চিকিৎসার জন্য বোর্ড থেকে পাওয়ার সমস্ত কাঁচামালের তৈরি একটি “পঞ্চগব্য কিট” সবসময় মজুত রাখা হয়। এর পাশাপাশি রাখা হয়েছে অক্সিজেন সিলিন্ডারও। ওই সেন্টারের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের মন্তব্য, পঞ্চগব্য আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার সবথেকে অপরিহার্য বিষয় হলো, গরুর মূত্র, গোবর এবং এর মিশ্রণ থেকে তৈরি হাওয়া বাষ্পের ঘ্রান সেবন করতে হয় রোগীদের। এর পাশাপাশি রোগিদের সারা গায়ে গোবর মাখিয়ে রেখে দেওয়া হয়। খাদ্যের মধ্যে মূলত নিরামিষ, ফল এবং বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি দেওয়া হয়। তবে এই চিকিৎসা শুধুমাত্র “অল্প লক্ষণ বিশিষ্ট” করোনা আক্রান্তদের জন্য বলেও দাবি করেছেন গোশালার আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকরা।