অসম-মিজোরাম সংঘর্ষ, বিজেপি সরকার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ব্যর্থতা বলে তীব্র আক্রমণ বিরোধীদের

অসম-মিজোরাম সীমান্তের পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। (ছবি সৌজন্য টুইটার)

টিডিএন বাংলা ডেস্ক : অসম এবং মিজোরারেম মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনাতে স্থম্ভিত দেশ। গত কয়েক বছর ধরে সীমান্ত নিয়ে চলা সমস্যা ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে গতকাল। সীমানায় সংঘর্ষে ছয় পুলিশকর্মীর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ একাধিক বিরোধী নেতৃত্বের। এই ঘটনার জন্য সরাসরি বিজেপি সরকারকে দায়ী করেছেন তাঁরা।

দুই রাজ্যের পুলিশ কর্মীদের মধ্যে চলে ব্যাপক গোলাগুলি। প্রায় ছয় ঘন্টা ধরে চলে দুই রাজ্যের মধ্যে ‘যুদ্ধ’। একই সঙ্গে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় বলেও অভিযোগ। একের পর এক সরকারি গাড়ি ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়।

আজ সকালে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধায় টুইট করেন, ‘অসম, মিজোরাম সীমানায় হিংসার ঘটনায় হতবাক ও স্তম্ভিত। মৃতদের পরিবারকে জানাই সমবেদনা। বিজেপি সরকারের অধীনে এই ধরনের ঘটনা গণতন্ত্রের মৃত্যু ঘটাচ্ছে।’

টুইট করেছেন তৃণমুলের রাজ্যসভা মেম্বার ডেরেকও। ডেরেক লেখেন, এই ঘটনাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতা প্রকাশ পেল! কারণ গত কয়েকদিন আগেই তিনি উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন রাহুল গান্ধী। তিনি তাঁর টুইটে মৃতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন ।
রাহুল টুইট করেন, ‘নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা জানাই। আশা করছি আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন। মানুষের জীবনে ঘৃণা ও হিংসার যে বীজ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক বপন করেছে, তা আরও একবার দেশের নাম খারাপ করল। ভারত এখন তার ভয়ঙ্কর ফল ভোগ করছে।’

সংঘর্ষের ঘটনায় এখনও অশান্ত হয়ে রয়েছে অসমের পরিস্থিতি। জায়গায় জায়গায় রাস্তায় চলছে বিক্ষোভ। ইতিমধ্যেই অসম সরকার তিন দিনের রাজ্য শোকের ঘোষণা করেছে। অর্ধনমিত থাকবে পতাকা। এই সময় কোনও ধরনের জমায়েত করা যাবে না বলেই জানানো হয়েছে অসম পুলিশের তরফে।

যে কোনও মুহূর্তে বড় কোনও অশান্তি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা। আর সেই আশঙ্কা থেকেই মোতায়েন করা হল কেন্দ্রীয় বাহিনী। যে এলাকাতে এই ঘটনা সোমবার ঘটে সেখানে এই বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিতর্কিত এলাকাতে বাহিনীর তরফে মাইকিং করা হচ্ছে। অসম এবং মিজোরাম পুলিশকে দ্রুত বিতর্কিত এলাকা থেকে সরে যাওয়ার আবেদন করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে বাহিনীর দখলদারিতে বিতর্কিত এলাকা।

স্থানীয়দের দাবি, নিজেদের রাজ্যের ভূখণ্ডের মধ্যে একটি ছাউনি তৈরি করছিল অসম পুলিশ। সেই ঘটনাকে ঘিরেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে এলাকায়। অসম এবং মিজোরাম পুলিশের মধ্যে আলোচনার সময় মিজোরামের একদল লোক পাথর ছুড়তে শুরু করে। পাল্টা দেয় অসমের স্থানীয়রা। এরপরই খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায়। অন্যদিকে টুইটে একে অপরের দিকে অভিযোগ ছুঁড়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এবং মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী জোরামথাঙ্গা।