উচ্চমাধ্যমিক সংসদ সভাপতি পদ খোয়ালেন বিতর্কিত মহুয়া দাস

টিডিএন বাংলা ডেস্ক : অপসারিত উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি মহুয়া দাস। উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্ট বিতর্কের জেরে অপসারিত হয়েছেন উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি মহুয়া দাস।

মহুয়া দাসের জায়গায় উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের নতুন সভাপতি হলেন যাদবপুরের বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য।আগামী চার বছরের জন্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যকে সংসদের নতুন সভাপতি করা হয়েছে।

উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের সময় বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন মহুয়া দাস। যা নিয়ে জলঘোলা হয়েছিল। করোনার জেরে বাতিল হয়েছিল পরীক্ষা। মূল্যায়নের ভিত্তিতে তৈরি হয় পরীক্ষার্থীদের রেজাল্ট। কিন্তু সেখানেও বিস্তর গরমিল ধরা পড়ে। বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ দেখান পড়ুয়ারা। পরিস্থিতি বুঝে মহুয়া দাসকে নবান্নে তলব করেছিলেন মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। উচ্চ মাধ্যমিক ফল প্রকাশের পরেই রাজ্যের একাধিক জেলায় বিক্ষোভ দেখায় অনুত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীরা। পড়ুয়াদের পাশপাশি সরব হয়েছে তাঁদের পরিবারও। একাধিক জায়গায় রাস্তা অবরোধ করেও চলে বিক্ষোভ। রাজ্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শেষমেশ নম্বরের পুনর্মূল্যায়ন করে সংসদ।

উল্লেখ্য, এ বারের মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল মূল্যায়নের ভিত্তিতে। মাধ্যমিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ পড়ুয়াই পাশ করেছিল। তবে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন ৯৭.৬৯ শতাংশ পড়ুয়া। নম্বর নিয়ে শোরগোল পড়ে যায়। মূল্যায়নে গরমিলের অভিযোগ তুলে রাস্তায় নামেন বেশ কিছু পরীক্ষার্থী।

এ ছাড়াও উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের সময় প্রথম স্থানাধীকারীর পরিচয় দিতে গিয়ে ধর্মীয় পরিচয় উল্লেখ করায় সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন সংসদের চেয়ারপার্সন মহুয়া দাস। এরপরই তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ হয় বিভিন্ন জায়গায়। সংসদের দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখান শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চের সদস্যরাও। তাঁদের দাবি ছিল, মহুয়া দাসের এই কাণ্ডে গোটা শিক্ষক সমাজের মাথা হেঁট হয়ে গিয়েছে। মহুয়াদেবীর পদত্যাগ দাবি করে শিক্ষামন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীকে ডেপুটেশন দিয়েছিলেন তাঁরা। সঙ্গে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় তাঁর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়ার অভিযোগও দায়ের করার কথা জানিয়েছিলেন তাঁরা।

তবে নিজের মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের খবর, আগামী সোমবার থেকে সংসদের সভাপতি হিসেবে নতুন দায়িত্বভার বুঝে নেবেন চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। ইতিমধ্যেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুরঞ্জন দাসকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, শীঘ্রই যেন চিরঞ্জীব দাসকে রিলিজ করে দেওয়া হয়।