ব্ল্যাক ফাঙ্গাস দ্বিতীয় মহামারিতে মৃত প্রায় সাড়ে ৪ হাজার

টিডিএন বাংলা ডেস্ক :  দেশ জুড়ে করোনাভাইরাস এর অতিসংক্রামক ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট অতিমারির মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা কালো ছত্রাক সংক্রমণ। ইতোমধ্যে এটিকে মহামারি ঘোষণা করেছে কেন্দ্র সরকার। এই কালো ছত্রাকের সংক্রমণে কমপক্ষে ৪ হাজার ৩০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন ৪৫ হাজার ৩৭৪ জন। এদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকেই এখনো চিকিৎসাধীন। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মানসুখ মান্দাভিয়া এ তথ্য জানিয়েছেন।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা মিউকরমাইকোসিস একটি বিরল সংক্রমণ। মিউকর নামে একটি ছত্রাকের সংস্পর্শে এলে এই সংক্রমণ হয়। সাধারণত মাটি, গাছপালা, পচনশীল ফল ও শাকসবজিতে এই ছত্রাক দেখা যায়। অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (এআইআইএমএস) জানিয়েছে, মিউকরমাইকোসিস মুখে আক্রমণ করতে পারে। বিরল ও বিপজ্জনক এই কালো ছত্রাক সাধারণত নাক, চোখ ও কখনো কখনো মস্তিষ্কে আক্রমণ করে। এতে আক্রান্তদের বেশিরভাগই করোনা সংক্রমণ থেকে সুস্থ হওয়া বা এখনো চিকিৎসাধীন ব্যক্তি।

অধিকাংশ রোগীই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে তারপর ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হয়েছেন অথবা করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার প্রাক্কালে এ রোগে সংক্রমিত হয়েছেন। চিকিৎসকরা জানান, সাধারণত করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার ১২ থেকে ১৮ দিনের মধ্যে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ দেখা দেয়।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, করোনার চিকিৎসায় ব্যবহৃত স্টেরয়েডের সঙ্গে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণের যোগসূত্র রয়েছে এবং এতে ডায়াবেটিক রোগীরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণ সাইনাস, মস্তিষ্ক ও ফুসফুসের ক্ষতি করে। ডায়াবেটিস, ক্যান্সার এবং এইচআইভি/এইডসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি প্রাণঘাতী হতে পারে। সংক্রমণে সাইনাসের ব্যথা, এক নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, মাথার এক পাশে ব্যথা, ফুলে যাওয়া, দাঁতে ব্যথাসহ নানা উপসর্গ দেখা দেয়। সংক্রমণে রোগী দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন।

সরকারি হিসাব অনুসারে, মহারাষ্ট্র, গুজরাট, তামিলনাড়ু ও রাজস্থানে সবচেয়ে বেশি ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে শুধু মহারাষ্ট্র এবং গুজরাটেই ১ হাজার ৭৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু শহরের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. রঘুরাজ হেগদে সংবাদসংস্থা বিবিসিকে এই বিষয়ে জানিয়েছন বলেন, ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে শনাক্ত ও মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি।’

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের পাশাপাশি করোনাভাইরাসের প্রলয় অব্যাহতই রয়েছে। সরকারি হিসাব বলছে, এপর্যন্ত করোনায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৪ লাখ ১৮ হাজার ৪৮০ জনের। আর আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ১২ লাখ ১৬ হাজার ৩৩৭ জনে।