ব্যবসায়িক সুবিধার দিক থেকে গুজরাটকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেল বাংলা, তালিকা প্রকাশ কেন্দ্রের

টিডিএন বাংলা ডেস্ক: রাজ্যে ব্যবসা করার সুবিধার নিরিখে গুজরাটকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেল পশ্চিমবঙ্গ। ২০১৮ সালে ১০ নম্বর স্থানে ছিল পশ্চিমবঙ্গ। সেখান থেকে এক ধাপ উঠে ৯ নম্বরে পৌঁছেছে পশ্চিমবঙ্গ। গুজরাটের স্থান ঠিক পশ্চিমবঙ্গের পরেই। এই তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে অন্দ্রপ্রদেশ। দ্বিতীয় স্থানে ধস ধাপ পেরিয়ে উঠে এসেছে উত্তরপ্রদেশ এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে তেলেঙ্গানা।

ব্যবসা করার পথ সহজ ও মসৃণ করতে সংস্কারের নিরিখে ২০১৯ সালের শেষে কোন রাজ্য এবং কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল কোথায় দাঁড়িয়ে আছে, শনিবার তার একটি বার্ষিক তালিকা প্রকাশ করেন নির্মলা সিথারামন।কেন্দ্রের দাবি, লগ্নি সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার সুবিধা, সমস্ত ছাড়পত্র একসঙ্গে দিতে এক-জানলা বন্দোবস্ত, শ্রম সংস্কার-সহ ১২টি ক্ষেত্রের মোট ১৮০টি বিষয়ের সংস্কারে কোন রাজ্য কতখানি তৎপর, তারই প্রতিফলন রয়েছে এই তালিকায়। শুধু গত তিন বারের সঙ্গে ফারাক হল, এ বার শুধু সংস্কারের চেষ্টার ভিত্তিতে নম্বর মেলেনি। যাঁদের কথা মাথায় রেখে সংস্কার, সেই শিল্পমহলের প্রতিনিধিদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, আখেরে সুফল তাঁরা পাচ্ছেন কি না। গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সেই মূল্যায়নে।

এই নতুন পদ্ধতির নিরিখে পশ্চিমবঙ্গের ওই বার্ষিক তালিকায় এক ধাপ উঠে আসার বিষয়টির প্রশংসা করেছে কেন্দ্র। প্রথম স্থানাধিকারি তিনটি রাজ্য চারে পশ্চিমবঙ্গের আগে রয়েছে মধ্যপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, ছত্তীসগঢ়, হিমাচলপ্রদেশ ও রাজস্থান। তেমনই বাংলার পিছনে রয়েছে গুজরাত, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, কেরলের মতো রাজ্য।

তবে ওই বার্ষিক তালিকায় সব থেকে বেশি চমকপ্রদ উঠান হয়েছে উত্তরপ্রদেশের। ২০১৮ সালে ব্যবসায়িক সুবিধার নিরিখে ওই তালিকায় ১২ নম্বর স্থানে ছিল। সেখান থেকে এক লাফে ২ নম্বরে চলে এসেছে। চিন থেকে লগ্নিকারীদের টেনে আনার চেষ্টা থেকে শুরু করে বিনিয়োগ টানতে তিন বছরের জন্য নিজেদের শ্রম আইনকে কার্যত শিকেয় তোলার কথা বলে করোনা মহামারীর কাওনে সৃষ্ট অচলাবস্থার মধ্যেও বার বার শিরোনামে উঠে এসেছে উত্তরপ্রদেশ। এই উত্থানের কথা জানিয়ে উত্তরপ্রদেশের জনসাধারণকে অভিনন্দন জানিয়ে টুইট করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।

শনিবার এই তালিকা প্রকাশের সময় নির্মলা সিথারামন দাবি করেন, রাজ্যগুলির মধ্যে স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতার কারণেই সংস্কারের প্রতি সার্বিক ভাবে ভারতের দায়বদ্ধতার বিষয়ে আস্থা বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের। যে কারণে লকডাউনের মধ্যেও মোটা অঙ্কের বিদেশি লগ্নি এসেছে দেশে। যদিও বিরোধীদের অভিযোগ, গুগল-সহ বিভিন্ন বহুজাতিকের তরফে যে বিনিয়োগ ঘোষণা হয়েছে, তার বড় অংশই এ দেশের কোনও ব্যবসায় অংশীদারি কিনতে। অর্থাৎ, কল-কারখানা নির্মাণে যে টাকা ঢাললে নতুন কর্মসংস্থান  হয়, তেমন লগ্নির দেখা প্রায় নেই।

অপরদিকে শিল্প ও বানিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেছেন,“প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন যে, দেশের আসল শক্তি নিহিত রাজ্যগুলিতে। তাই তিনি পারস্পরিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় বিশ্বাসী।” তিনি আরো বলেন,”রাজ্যগুলির মধ্যে এমন পারস্পরিক সহযোগিতা এবং স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা পাশাপাশি চললে, তবেই ভারত বিশ্বে বিনিয়োগের সব থেকে আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠবে।”

তবে যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর যতই গুণগান গাক কেন্দ্র, জিএসটির ক্ষতিপূরণ নিয়ে মূলত রাজ্যগুলি বারবারই কেন্দ্রের সমালোচনা করে এসেছে। শুধু এই প্রশ্নও উঠেছে যে রাজ্যগুলির হতে যদি তাকাই না থাকে তবে তারা লগ্নিবান্ধব কিভাবে হয়ে উঠবে, আর কিভাবেই বা সংস্কারের পথে হাঁটবে?