মোদি-মমতার ২৫ মিনিট কথা, হাইভোল্টেজ বৈঠকে ২টি দাবি মুখ্যমন্ত্রীর

টিডিএন বাংলা ডেস্ক : চার দিনের দিল্লি সফরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাখির চোখ মূলত অ-বিজেপি জোট গড়ে বিজেপিকে দুরমুশ করা। কাজেই চারদিনের সফরে নেই এক মুহূর্ত বিশ্রাম। একেবারে ঠাসা কর্মসূচিতেই পরিপূর্ণ সফর। তবে সাধারণ মানুষের নজর ছিল মূলত আজকের কর্মসূচিতে। এদিন ২৫ মিনিট কথা হয় প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রীর। এরপর বেরিয়ে এসে মমতা জানান, সংক্ষিপ্ত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে মূলত দুটি দাবি জানিয়েছেন তিনি। প্রথমত, রাজ্যে করোনা টিকার সরবরাহ বৃদ্ধির আবেদন। দ্বিতীয়ত, রাজ্যের নাম পশ্চিমবঙ্গ থেকে ‘বাংলা’য় পরিবর্তনের ফের প্রস্তাব।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, “আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য সময় চেয়েছিলাম। তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা হয়নি। দু’বছর পর দিল্লিতে এলাম। সৌজন্য সাক্ষাৎ এটা। নির্বাচনের পর প্রোটোকল মেনে দেখা করেছি। সেই সঙ্গে করোনার বিষয়ে আলোচনা করেছি। বাড়তি করোনা টিকা, ওষুধ চেয়েছিল। জনসংখ্যার তুলনায় কম পেয়েছি আমরা। সম্ভাব্য তৃতীয় ঢেউয়ের আগে সবাইকে টিকা দিতে চাই।”

গতকাল থেকেই হাইভোল্টেজ বৈঠক নিয়ে জনমানসে উত্তেজনার পারদ ছিল তুঙ্গে। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ৭ লোককল্যাণ মার্গে বিকেল ৪টে নাগাদ সেখানে পৌঁছে যান মমতা। বৈঠকের পর মমতা আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁর সমস্ত আবেদন শুনেছেন। তবে ঠিক কী বলেছেন মোদি, তা নিয়ে মুখ খোলেননি মমতা। তিনি বলেন, ওঁনার কথা আমার মুখ দিয়ে বলা ঠিক নয়। তবে উনি বলেছেন, গোটা বিষয়টা নিশ্চয় তিনি দেখবেন।

 

কারণ, আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্লেখ্য, আজ দুপুরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন কংগ্রেস নেতা কমল নাথ। বেশ কিছুক্ষণ আলোচনা হলেও, দুজনের মধ্যে ঠিক কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
তবে তিনি বৈঠক শেষে বলেন, “মমতাকে অনেকদিন ধরেই চিনি। অনেকদিন একসঙ্গে কাজ করেছি। জয়ের জন্য ওঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি। এদিন দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে। জ্বালানির লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কথা হয়েছে। তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেসের জোট হবে কি না তা সিদ্ধান্ত নেবে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সে বিষয়ে কোনও কথা হয়নি।”
এরপর বিকেলে বেশ কিছুক্ষন বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়। জানা গেছে, রাজ্যের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও কোভিড ভ্যাকসিন চেয়েছেন।