গল্পের নাম:- “রিজু বাঁচতে চেয়েছিলো” গল্পকার:-মোস্তফা কামাল (পর্ব-২১)

(পর্ব-২১)

সিক্স পাশ করা লোকটি এই স্কুলের সেক্রেটারি । লালের কট্টোর সমর্থক। সব বিষয়ে শিক্ষকদের থেকেও তার জ্ঞান বেশি ভাবটা এমন। অন্য মেয়ের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের জেরে নাকি আগের বৌ টা আত্মহত্যা করেছে। এমন গুণী মানুষটি সালাম সাহেবের খুব অনুগত। শিক্ষকদের কথায় কথায় নীতিমালা শেখান। তাদের উপর মাতব্বরি করতে পেরে এই সিক্স পাশ লোকটির মাথা উঁচু হয়ে যায়। সালাম সাহেবের দৌলতে তার ব্যবসাটাও ভালো চলে। উনার কাছে একদিন ডাক পড়লো রিজু মাস্টারের।

——– আমাকে আপনি ডেকেছেন সেক্রেটারি সাহেব?

সেক্রেটারি সাহেব হাত নাড়িয়ে ঘাড় দুলিয়ে বিজ্ঞের মতো ইশারা করলেন। বললেন, হ্যাঁ, আসুন। আপনার এই স্কুলে কতদিন হলো?

——— এই তো বছর খানেক।

———– এই বছর খানেকেই আপনি স্কুল দরদী হয়ে গেলেন? পড়াতে এসেছেন পড়াবেন, স্কুল নিয়ে অতো বেশি মাথা ঘামাতে আপনাকে কে বলেছে?

রিজু মাস্টার মশাই বুঝতে পারছেন ভেড়ামারা হাই স্কুলের পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে। তিনি সেক্রেটারি সাহেবের এমন কথা শুনে কিছুটা অবাক হোন। ইতস্তত বোধ করেন। বলেন, আপনি কী বলছেন আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না!

———— বুঝতে পারছেন না, নাকি না বোঝার ভান করছেন?

———– দেখুন আমি ভানটান করিনা। আপনি যা বলার একটু সোজাসুজি বলুন প্লিজ।

———- আপনি নাকি স্কুলে হেডমাস্টার নিয়ে আসবেন শুনছি? স্কুলকে উচ্চ মাধ্যমিক করবেন বলেছেন?

——– ও, তাই বলুন। হ্যাঁ ! স্কুলে দীর্ঘ বছর ধরে হেডমাস্টার পদটি শূন্য রয়েছে। একটা হেডমাস্টার খুব দরকার। হেডমাস্টার থাকলে স্কুলের মান বাড়ে। স্কুলের উন্নতি হয়। আর আমার তো হেডমাস্টার আনার কোনো ক্ষমতা নেই। আপনারা উদ্যোগ নিলে উক্ত পদটি পূরণ হতে পারে।

পাশেই বসেছিলেন দীর্ঘদিন ধরে টিআইসি গিরি করে যাওয়া এক বয়স্ক শিক্ষক। সেক্রেটারির চামচা গিরি করে স্কুলের বারোটা বাজিয়ে সম্প্রতি তিনি ঐ পদ থেকে বিদায় নিয়েছেন। উনি সুধীর বাবু। নস্যিটা নাকে টেনে হাত নাড়িয়ে টেনে টেনে বললেন,” বলি, হেডমাস্টারের দরকারটা কী শুনি রিজু সাহেব? সালাম সাহেবই তো আছেন। তিনি তো স্কুল ভালোই চালাচ্ছেন। উনি আপনার এই কথা শুনলে খুব দুঃখ পাবেন। এমনকি আপনার উপর রেগে যেতে পারেন।”

——– উনি শুনলে দুঃখ পাবেন কেন স্যার?কেনই বা রেগে যাবেন? হেডমাস্টার এলে তো স্কুলেরই ভালো। একটা শিক্ষক বাড়বে। সালাম সাহেব বৃথাই এতবড়ো বোঝা কেন বয়ে বেড়াবেন? বাড়ির খেয়ে বনের মোষ তাড়িয়ে উনার লাভটা কী ?

খুব গম্ভীর গলায় বিজ্ঞের মতো সেক্রেটারি বলে উঠলেন, শুনুন রিজু সাহেব। আমাদের স্কুলে হেডমাস্টারের দরকার নাই। সালাম সাহেব স্কুল খুব ভালো চালাচ্ছেন। আপনাকে এই সব বিষয়ে ভাবতে হবে না। আসবেন, ক্লাস করবেন, চলে যাবেন।

হেডমাস্টারে এদের আপত্তি কেন?রিজু মাস্টারের কেমন খটকা লাগে। নিশ্চয়ই ডাল মে কুছ কালা হ্যায়।পরে রিজু মাস্টার জানতে পারেন এরা সবাই স্কুল থেকে একটা বখরা পায়। হেডমাস্টার এলে তা বন্ধ হয়ে যাবে এই ওদের ভয়।

———– শুনুন রিজু সাহেব। আপনি আরও একটি বিষয় নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের খেপাচ্ছেন বলে আমাদের কাছে খবর আছে।

——— আপনি কী বলছেন ভেবে দেখেছেন? আমি ছাত্র-ছাত্রী খেপাতে যাবো কেন?

———- ঠিকই বলছি। স্কুলকে উচ্চ মাধ্যমিক করার কথা ছাত্র-ছাত্রীদের বলেননি?

——- হ্যাঁ বলেছি। এতে খেপানোর কী আছে? আপনার এলাকার ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার সুবিধার্থে স্কুলটাকে উচ্চ মাধ্যমিক করা দরকার। দুর্বল রেজাল্ট নিয়ে পাশ করলে ওরা অন্য স্কুলে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। তাদের পড়ালেখার ইতি পড়ে। স্কুলটা উচ্চ মাধ্যমিক হলে অন্তত নিজেদের স্কুলে তারা এগারো বারো ক্লাসে তো পড়তে পারবে?

—— আপনাকে আগেই বলেছি এসব নিয়ে মাথা ঘামাবেন না। আর যদি ঘামাতে হয় ছাত্র-ছাত্রীদের না বলে সরাসরি আমাকে বলবেন।

———- ছাত্র-ছাত্রীদের প্রয়োজনের কথা তাদের সামনে বললে ক্ষতি কি?

———- আপনি তো খুব বেশি কথা বলেন দেখছি। আমি যা বলছি তাই করবেন। বেশি ছাত্র দরদী হতে যাবেন না। ধমক দিয়ে ওঠেন সেক্রেটারি সাহেব।

———– ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়েই আমার কাজ। ওদের যেটা বলার প্রয়োজন সেটাই বলবো।

——— মাস্টার মশাই, স্কুলে এমনিতেই স্টাফ কম, তার উপরে উচ্চ মাধ্যমিক হলে শিক্ষক পাবো কোথায়? টেনে টেনে কথাগুলো বললেন সুধীর বাবু।

রিজু মাস্টার মশাই আর কথা বাড়ালেন না। শুধু বললেন, আগে উচ্চ মাধ্যমিক টাতো হোক তারপর ওসব ভাববেন। উচ্চ মাধ্যমিক হলেই আজ নয় কাল অনেক নতুন শিক্ষক পাওয়া যাবে। তখন কোনো সমস্যা থাকবে না।

একটা অদ্ভুত রকমের অপদস্থ হয়ে রিজু মাস্টার বেরিয়ে গেলেন। এ কোন ধরনের স্কুল রে বাবা! হেডমাস্টার চাননা, স্কুল উচ্চ মাধ্যমিক হোক চাননা। এরাই আবার স্কুলের……..! না ! আর কিছু ভাবতে পারেন না রিজু মাস্টার। উনাদের এই ধরনের মানসিকতার পরিবর্তন হওয়া দরকার। তার মানে আবার লড়াই। না! রিজু মাস্টার আর এসব করতে চাননা। একটু সম্মানের সঙ্গে বাকি কয়েকটা বছর নিশ্চিন্তে চাকরিটা করতে চান।

মাস খানেক পর আবার ডাক পড়লো রিজু মাস্টারের। কোনো সৌজন্যতা না দেখিয়ে মাথা দুলিয়ে আঙ্গুল তুলে সেক্রেটারি সাহেব বললেন, আপনাকে নিষেধ করেছিলাম স্কুল উচ্চ মাধ্যমিক করা নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে কোনো আলোচনা করবেন না। আপনি তো আশ্চর্য লোক মশাই! আপনি নিজেকে ভাবেন কী ? স্কুলকে উচ্চ মাধ্যমিক করবো বললেই উচ্চ মাধ্যমিক হয়ে যাবে? আপনি জানেন,এই স্কুলটা আগে জুনিয়র হাই স্কুল ছিল? মাধ্যমিক স্কুল করতে আমাদের অনেক কাঠ খড় পোড়াতে হয়েছে। আর আপনি মুখের কথা বলে দেবেন আর হয়ে যাবে? লোক জন আমার বাড়ি গিয়ে আমাকে দোষারোপ করছে, আমি নাকি স্কুলকে উচ্চ মাধ্যমিক করতে চাইছিনা! আপনি এসব বারণ করে দিয়েন।

——দেখুন সেক্রেটারি সাহেব, আমি বাইরে থেকে এসে চাকরি করি। আমি এই স্কুলের শিক্ষক। স্কুলের মঙ্গল কামনা আমার কর্তব্য। তাতে আপনাদের অসুবিধা হচ্ছে কেন বুঝতে পারছি না। তাছাড়া আপনার এলাকার লোকজনের সঙ্গে এই স্বল্প সময়ে আমার তেমন কোনো সখ্যতা গড়ে ওঠেনি। আমি জানিও না কারা গিয়ে আপনাকে অভিযোগ করছেন। সুতরাং তাদের বারণ করবো কী করে? আপনার এলাকার লোকজনের প্রতি নিশ্চয়ই আপনার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ওদের আপনিই বুঝিয়ে বলুন যে আমি ভুল বলছি।

—— একজন মাস্টারের কথা শোনার পর ওরা আমার কথা বিশ্বাস করবে?

——–তাহলে ওদের সত্যিটা বলে দিন, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় হোক সেটা আপনি চাননা।

খুব খেপে গিয়ে ধমকের স্বরে বলে উঠলেন, মুখে তো বড়ো বড়ো কথা বলছেন। স্কুলে তো আরও অনেক মাস্টার রয়েছেন তারা কিছু বলেন না। দুদিন হলো আপনার আসা আর আপনি মুখে মুখে তর্ক করছেন? পারবেন স্কুলকে উচ্চ মাধ্যমিক করে দিতে?

——- দেখুন, উচ্চ মাধ্যমিক করার ক্ষমতা আমার হাতে নেই। তবে আপনারা স্কুলের তরফ থেকে কাগজ পত্র পাঠালে বাকি কাজটা করিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা রাখি।

সেক্রেটারি সাহেব আর কথা খুঁজে পেলেন না। শুধু বললেন, “অতো সহজ নয়।”

স্কুলে যোগদানের পর রিজু মাস্টার সালাম সাহেবকে একদিন বলেছিলেন, “স্কুলের স্বার্থে আমাকে ব্যবহার করুন। আমি সাধ্যমতো আপনার পাশে থেকে শাসক দলের সমর্থন নিয়ে স্কুলটাকে আদর্শ স্কুলে পরিণত করবো। টিআইসি হিসেবে শুধু আপনার সহযোগিতা দরকার।”

………..হ্যাঁ স্যার, আপনারও সহযোগিতা আমার দরকার। আপনি কি স্কুলের জন্য কিছু সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন?

………. সময় এলে নিশ্চয়ই করার চেষ্টা করবো। আপনি প্ল্যানিং করে রাখুন।

……….ঠিক আছে স্যার। এখন তো মাইনোরিটি অধ্যুষিত বিদ্যালয়ের জন্য সরকারি অনুদান পাওয়া যাচ্ছে শোনা যাচ্ছে। আপনি একটু দেখুন না প্লিজ।

……….আচ্ছা। যদি হয় তাহলে আমি জেলা মাইনোরিটি দফতরে খোঁজ নিয়ে আপনাকে জানাবো।

জেলা মাইরোরিটি অফিসারের সঙ্গে রিজু মাস্টার কথা বলেন। অফিসার পরামর্শ দেন এবং বলেন সর্বোচ্চ এক কোটি পঁচিশ লক্ষ টাকা দেওয়া যেতে পারে। তার জন্য কিছু পদ্ধতি রয়েছে যেগুলো স্কুল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

রিজু মাস্টার এবং সালাম সাহেব দুজন মিলে সংখ্যালঘু ও আদিবাসী ছাত্রীদের হোস্টেলের ঘর সহ গোটা স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা নেন। তাতে জল ঢালেন স্কুলের সেক্রেটারি সাহেব। তিনি সরাসরি ‘না’ করে দিয়ে পরিকল্পনা বানচাল করে দেন। কেন না করলেন তা রিজু মাস্টারের অজানা। কিন্তু সালাম সাহেব নীরবে মাথা পেতে নিলেন। স্কুল এতো বড় সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলো। ক্ষতি হলো স্কুলের,ক্ষতি হলো এলাকার।

দ্বিতীয় পরিকল্পনা নেওয়া হয় বাউন্ডারি ও বিল্ডিং গ্র্যান্টের টাকা আনার জন্য। একটা আধুনিক মানের হলঘর সহ অত্যাধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে বিদ্যালয় সাজানোর জন্য প্রায় পৌনে এক কোটি টাকার প্রোজেক্ট করা হয় এবং সরকারি নির্দেশানুসারে সালাম সাহেব ভেটিং করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। অনুদান যাতে নিশ্চিত হয় তার জন্য রিজু মাস্টার অফিসারদের অনুরোধ করে তার স্কুলকে তালিকাভুক্ত করিয়ে নেন। নিশ্চিত অনুদান পাওয়ার অপেক্ষায় থাকে স্কুল।

একদিন সালাম সাহেব রিজু মাস্টারকে ডেকে বললেন, “স্যার স্কুলে একটা জীমের ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন? আমি খোঁজ নিয়ে দেখেছি, সবুজ দলের যে কোন বিধায়কের প্যাডে যদি সুপারিশ হয় তাহলে আমরা একটা জীম পেতে পারি। পেলে আমাদের ছাত্র ছাত্রীরা উপকৃত হবে। তারা শরীর চর্চা করবে।” সালাম সাহেবকে রিজু মাস্টার আশ্বাস দেন।

ইতিমধ্যে স্কুল উচ্চ মাধ্যমিক করার আবেদন জানিয়ে স্কুলের পক্ষ থেকে শিক্ষা ভবনে কাগজ পত্র জমা পড়ে। রিজু মাস্টার ডিএলআইটি টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুততার সঙ্গে স্কুল ইনস্পেক্সনের ব্যবস্থা করে দেন। রিজু মাস্টারের তৎপরতা দেখে ডিএলআইটি টিমের সদস্য তথা জেলা সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক গৌতম বন্দোপাধ্যায়ের মন্তব্য, “রিজু সাহেব; যে স্কুলের জন্য আপনি এতো কিছু করছেন, স্কুল আপনাকে সেই সম্মান দেবে তো?” অভিজ্ঞ অফিসার হিসেবে গৌতম বন্দোপাধ্যায়ের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে শিক্ষা মহলে। সুতরাং তার এহেন মন্তব্য গভীর ইঙ্গিত বহন করে।

রিজু মাস্টার শুষ্ক মুখে হেসে বলেন, স্কুল সম্মান দিক আর না দিক আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে আমি পিছিয়ে পড়া স্কুলটাকে সামনের সারিতে নিয়ে আসার আপ্রাণ চেষ্টা করবো স্যার।

মনযোগ দিয়ে স্কুলের কাগজ পত্র দেখছিলেন গৌতম বাবু। তিনি মুখ তুলে স্মিত হেসে বললেন, দেখুন পারেন কিনা। আমাদের সবসময়ই পাশে পাবেন। আপনি আগামী সপ্তাহে অফিসে এসে মেমো নম্বরটা নিয়ে যাবেন। তার পর বিকাশ ভবনে একটু যোগাযোগ করবেন। আপনার কাজ হয়ে যাবে।

রিজু মাস্টার গৌতম বাবুকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফিরে আসেন। যান হরিহর পাড়ার বিধায়ক নেয়ামত সেখ মহাশয়ের কাছে। স্কুলে জিমের জন্য তাকে দিয়ে একটা রেকমেন্ডেশন লেটার লিখে নেন। পরের দিন সালাম সাহেবের হাতে তুলে দেন। তার তৎপরতায় কয়েক মাস পর বিদ্যালয়ে জীম আসে। জীমের জন্য আলাদা ঘরের ব্যবস্থা হয়, উদ্বোধন হয়। সালাম সাহেব রিজু মাস্টারকে বিন্দু বিসর্গ জানান না। রিজু মাস্টারও প্রতিজ্ঞা করেন যতদিন সালাম সাহেব তাকে নিজে থেকে না জানাবেন ততদিন তিনি জীমের ঘরে প্রবেশ করবেন না।

প্রধান শিক্ষকের জন্য রিজু মাস্টার জেলা শিক্ষা ভবনে বারবার ধর্ণা দেন। প্রধান শিক্ষক আসে। তিনি যোগদান করতে পারেন না। সালাম সাহেব তার পদ হারানোর ভয় পান। রিজু মাস্টার‌‌‌ তার বাড়া ভাতে ছাই দিচ্ছেন এই ধারণার বশবর্তী হয়ে রিজু মাস্টারকে দমানোর চক্রান্ত শুরু হয়। সালাম সাহেবের আসল স্বরূপ প্রকাশ্যে আসে। পদ ধরে রাখতে লালের উপর সবুজ জার্সি পরে নেন। সবুজ দলের একাংশের সমর্থনে রিজু মাস্টারের প্রকাশ্য বিরোধিতায় মাঠে নামেন। তাতে সেক্রেটারি সাহেব এবং সুধীর বাবু ইন্ধন যোগান। শুরু হয় নোংরা খেলা। রিজু মাস্টারের বিরুদ্ধে ঘৃণ্যতম ষড়যন্ত্রের জাল বিছানো হয়। সহকর্মীরা ভয়ে চুপ থাকেন। নীরব থেকে ঝামেলা মুক্ত থাকতে চান। এই নীরবতা তাদের প্রতিবাদী সত্তাকে গ্রাস করে। সুবিধা ভোগীদের অনেকেই আবার সালাম সাহেবকে সমর্থন করেন। অনেকেই নির্জীব জীব হয়ে রিজু মাস্টারকে গোপনে সমর্থন করেন। মানসিক ভাবে শিক্ষকগণ দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। সালাম সাহেব সম্পর্কে প্রদীপ বাবুর কথা অক্ষরে অক্ষরে মিলে যায়। ক্রমশঃ প্রকাশ্যে আসে সালাম সাহেবের কদর্য রূপ। রিজু মাস্টারের কাছে সুবিধা না পাওয়ায় এক সময়ের সালাম সাহেবের বিরোধী প্রদীপ বাবু সালাম সাহেবকে সঙ্গ দেন। তার কদর্য রূপে রং মাখানোর দায়িত্ব নেন । তাদের ব্যক্তিগত শত্রুতে পরিণত হোন রিজু মাস্টার। ফলে বন্ধ হয় স্কুলের উন্নয়ন, বন্ধ হয় সরকারি অনুদান।